ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

রাশিয়ার মোকাবেলায় নতুন পরমাণু অস্ত্র চান ট্রাম্প

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৪:২৯ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৪:৩৪


প্রিন্ট
রাশিয়ার মোকাবেলায় নতুন পরমাণু অস্ত্র চান ট্রাম্প

রাশিয়ার মোকাবেলায় নতুন পরমাণু অস্ত্র চান ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাচ্ছে যাতে রাশিয়াকে সহজে মোকাবেলা করা যায়। তবে এ প্রস্তাবে এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সই করেননি। মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, এর মাধ্যমে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি কমবে।

‘নিউক্লিয়ার পোসচার রিভিউ’ নামের এ প্রস্তাবটি এখনো নীতিনির্ধারণী ডকুমেন্ট হিসেবে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকা পরমাণু ক্ষেত্রে আরো আগ্রাসী অবস্থান নিতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এপি শনিবার এ খবর দিয়েছে।

এপির খবর অনুসারে, পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত মার্কিন এ নীতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ করা হবে।

মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ইউরোপীয় মিত্রদেরকে রাশিয়ার হুমকি থেকে রক্ষার জন্য মূলত ট্রাম্প প্রশাসন এমন আগ্রাসী অবস্থান নিতে চাইছে।

এপি’র খবরে আরো বলা হয়েছে, ২০১০ সালের পর এই প্রথম পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে এমন কোনো পর্যালোচনা হতে যাচ্ছে। আগামী দুই দশকের মধ্যে মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার আরো বেশি আধুনিক করে তোলারও পরিকল্পনা নেয়া হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতি ছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে দিন দিন পরমাণু অস্ত্রের ভূমিকা কমিয়ে আনা; কিন্তু ট্রাম্প সে জায়গা থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনকে পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে দেশ দুটির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে চান ট্রাম্প।

 

ট্রাম্পের 'বর্ণবাদী মন্তব্যে' বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাইতি, এল সালভাদর এবং আফ্রিকার কিছু দেশকে খুবই স্থূল ভাষায় বর্ণনা করেছেন বলে অভিযোগের পর এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ সহ বিভিন্ন দেশ।

হোয়াইট হাউসে কংগ্রেস সদস্যদের সাথে অভিবাসন নীতি নিয়ে এক বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব দেশকে 'শিটহোল' বা 'পায়খানার গর্তে'র সাথে তুলনা করেন বলে খবর দেয় মার্কিন গণমাধ্যম।

এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দা এবং প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এরকম শব্দ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করছেন।

কিন্তু ওই বৈঠকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলীয় একজন সেনেটর ডিক ডারবিন দাবি করছেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে শুনেছেন। তিনি শুধু একবার নয়, কয়েকবার এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি কিছু আফ্রিকান দেশকে 'শিটহোল' বলে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল সহ অনেক সংবাদপত্রেই বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশিত হয়। এর কোনো প্রতিবাদ হোয়াইট হাউজ থেকে করা হয়নি।

সেনেটর ডিক ডারবিন বলেন, "আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে গতকাল প্রেসিডেন্ট যে শব্দগুলো সেখানে ব্যবহার করেছেন, হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে, ওই ওভাল অফিসে বসে এর আগে কখনো কোন প্রেসিডেন্ট তা বলেছেন।"

অভিবাসন নিয়ে গতকাল রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলীয় সেনেটরদের একটি দল একটি প্রস্তাব নিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়েছিলেন।

তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি তাদের বলেছিলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা এরকম বিপর্যয়ের শিকার দেশগুলোর মানুষদের আশ্রয় দেয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বরং উচিত নরওয়ের মত দেশ থেকে অভিবাসীদের আনা।

ওয়াশিংটন পোস্ট প্রেসিডেন্টকে সরাসরি উদ্ধৃত করে বলছে, এর পর তিনি বলেছেন, "এই সব 'শিটহোল' দেশ থেকে কেন লোকজনকে আমাদের দেশে আনতে হবে।"

সেনেটর ডারবিন বলেন, যখন প্রেসিডেন্টকে জানানো হয় যে 'টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) বা সাময়িক সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই এল সালভাডর, হন্ডুরাস এবং হেইতির নাগরিক, তখন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'হেইশিয়ান? আমাদের কি আসলে আরও হেইশিয়ানের কোন দরকার আছে"?

তবে শুক্রবার সকাল থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক টুইট করে এরকম কথা বলার কথা অস্বীকার করতে থাকেন। তিনি বলেন, "আমি হাইতির মানুষ সম্পর্কে বাজে কিছু বলিনি।"

বোতসোয়ানা সেদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এসব কথাবার্তা চরম দায়িত্বহীন, নিন্দনীয় এবং বর্ণবাদী।"

আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে শঙ্কিত।

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট এসব কথা সত্যিই বলে থাকেন সেটা স্তম্ভিত হওয়ার মতো এবং লজ্জাজনক। তিনি বলেন, এটাকে 'বর্ণবাদী' বলা ছাড়া আর কিছু বলার সুযোগ নেই।

আর যুক্তরাষ্ট্রে অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের একটি সংগঠন 'ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশেন ফর দ্য এডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল' বলেছে, প্রেসিডেন্ট দিনে দিনে আরো বেশি করে বর্ণবাদ আর বিদেশি বিদ্বেষের গর্তের গভীরে ঢুকে যাচ্ছেন।

কংগ্রেসের এক কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য সেডরিক রিচমন্ড বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যে আমেরিকাকে আবারো সেরা দেশে পরিণত করার নামে আসলে শ্বেতাঙ্গদের দেশে পরিণত করতে চাইছেন, এটা তার আরো একটা প্রমাণ। - বিবিসি (১২ জানুয়ারি, শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদ)

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫