ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

আইন ও বিচার

তুরাগ নদী দখল করে থাকা ৩০ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৩:৫০


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তুরাগ নদী দখল করে থাকা ৩০টি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আজ রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত এ বিষয়ে জারি করা রুল আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে বলেছেন।

আদালতে ১০ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাদেরকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তুরাগ নদী দখল করে থাকা ৩০টি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সহযোগিতা করতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে বলেন আদালত।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ১০ ব্যক্তি।

গত ২২ নভেম্বর বিচার বিভাগীয় তদন্তে উঠে আসা তুরাগ নদী দখল করে থাকা ৩০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দখল উচ্ছেদ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

হাইকোর্টে দাখিল করা বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরাগ নদীর তীর গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও বিশ্ব ইজতেমাসহ ৩০টি অবৈধ স্থাপনার দখলে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত অবৈধ স্থাপনাগুলো হলো- এনন টেক্স, ড. ফরাস উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়, কর্ডোড ল্যান্ড ডেভলপার এবং ক্যাপ্টেন জাকির হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন, প্রত্যাশা হাউজিং, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, নার্গিস আক্তার অ্যান্ড সালাহ উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর জিপার ফ্যাক্টরি, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভারস ইউনিয়ন, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ, ইউনুস মেম্বার, (আনন্দ গ্রুপ) জরিনা টেক্সটাইল, হামিম গ্রুফের সাজিদ ওয়াসিং, বিশ্ব ইজতেমা, শিল্প সম্পর্কিত শিক্ষায়ন, টঙ্গী নিউ মার্কেট (মসজিদ মার্কেট), শাহ আলম গং, মোসলেম সরকার, মেজবাহ উদ্দিন সরকার, আব্দুল হাই, আবু তাহের, গিয়াস উদ্দিন, ছোবহান শেখ, লুৎফা বেগম, ডলি বেগম, সেলিম শেখ, ফজলু মিয়া, আনোয়ার গ্রুপ, দি মার্চেন্ট লি, অ্যান্ড প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি, টেক্সাটাইল মালিক ইমান আলী।

তুরাগ নদীর উভয়পাড়ে অবৈধ স্থাপনা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশের ফলেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

‘তুরাগকে মৃত্যু ঘোষণা সময়ের ব্যাপার’ শিরোনামে গত বছরের ৬ নভেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ রিট আবেদন করে। পরে ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫