ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

স্বাস্থ্য

কর্মব্যস্ততার মাঝে স্ত্রীর সাথে গল্পে হতে পারে যে বড় উপকার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১২:৪৮


প্রিন্ট
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

অফিসে খুব কর্মব্যস্ততা। আপনি হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। তবে আপনার এসব কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি বা এর ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে বাঁচার জন্য স্ত্রীর জন্য রাখুন কিছুটা একান্ত সময়। স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটিয়ে কথা বলেন তাহলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকবেন।

মার্কিন গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। গবেষণা বলছে কাজের চাপে শত ক্লান্তি থাকলেও স্বস্তির জন্য কিছুটা সময় বের করুন। ঘুমিয়ে ভাবছেন ক্লান্তি কম হবে তা কিন্তু সত্যিই হওয়ার নয়। কারণ স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ভিএ গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস হেলথকেয়ার সিস্টেমের গবেষক নাটারিয়া জোসেফের মতে সঙ্গীর সাথে বেশি নেতিবাচক কথাবার্তার সঙ্গে পুরু ক্যারোটিড আর্টারির সম্পর্ক দেখা যায়। ক্যারোটিড অ্যার্টারি হচ্ছে রক্তনালি যা ঘাড় থেকে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছে দেয়। পুরু ক্যারোটিডের সঙ্গে হৃৎযন্ত্রের নানা সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিতে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে এ ভাববেন না স্ত্রীর সঙ্গে যেকোনো কথাবার্তা বললেই হবে। কথাবার্তা হতে হবে ইতিবাচক, যেসব কথা বলতে বা শুনতে আপনাদের দুজনেরই ভালো লাগবে। তাহলে হৃদয়ের কাজ অনেক ভালোভাবে হয়।

সমীক্ষা বলছে যারা স্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনা খুব কম করেন তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে আবেগ, শারীরিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়গুলোর সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে জড়িত থাকে ইতিবাচক কথাবার্তা। এ বিষয়গুলো স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

যাদের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি
আমরা জানি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হয় রক্তের শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে। রক্ত জমাট বাঁধার ফলে দেহের এক অংশ থেকে অন্য অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যার ফলে মারাত্মক রোগবালাই এবং ভয়াবহ কোনো পরিণতি ডেকে আনে। আর ৯ ধরনের লোকের দেহে রক্ত সবচেয়ে বেশি জমাট বাঁধে যার ফলে তাদের স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেশি থাকে।

যাদের ওজন বেশি : যাদের দেহের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং দেহে চর্বির স্টোরেজ বেশি তাদের দেহে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বেশি। কেননা চর্বির টিস্যু রক্তের শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাঁধাতে সহায়ক।

যারা ধূমপান করেন : আমরা প্রায় সবাই জানি নিয়মিত ধূমপান করলে স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। কিন্তু আমরা হয়তো জানি না যে ধূমপানের ফলে রক্ত জমাটও বাঁধতে পারে। সিগারেটে থাকা টক্সিন ও নিকোটিন রক্তের কোষগুলোকে শক্ত করে ফেলে এবং শিরাগুলোকে সঙ্কুচিত করে ফেলে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধে।

যারা গর্ভবতী : গর্ভধারণের সময় একজন নারীর দেহে প্রচুর পরিমাণে হরমোনগত পরিবর্তন এবং ওঠা-নামা ঘটে। গর্ভধারণের সময় নারীদের দেহে উচ্চহারে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন হয়। কিছু কিছু নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তকে ঘন করে ফেলে যার ফলে রক্ত জমাট বাঁধে। ইন্টারনেট।

যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খায় : যৌনভাবে সক্রিয় অনেক নারীই শিগগিরই সন্তান নিতে চান না বলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খান। কিন্তু এই বড়ি দেহে উচ্চহারে ইস্ট্রোজেন হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। যার কারণেও রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।

যাদের প্রদাহজনিত রোগ আছে : যারা হার্ট, ফুসফুস, কিডনি এবং এমন অন্যান্য অঙ্গের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রক্তেও ওই প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদান প্রবেশ করে রক্তকে জমাট বাঁধাতে পারে।

যাদের দেহে কোনো সংক্রমণ আছে : আপনার দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গে যদি সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে যেই জীবাণুর কারণে আপনার ওই সংক্রমণ হয়েছে তা আপনার রক্তেও প্রবেশ করতে পারে এবং আপনার রক্তকে শক্ত বা ঘন করে দিয়ে রক্ত জমাট বাঁধাতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ যারা বসে থাকেন : আপনার যদি ডেস্ক জব থাকে এবং আপনাকে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় তাহলে আপনার রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তের কোষগুলো ঘন হয়ে আসে। ফলে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বংশগতভাবে রক্তজমাট বাঁধার প্রবণতা : কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও রক্ত জমাট বাঁধতে পারে যেমন পারিবারিক উত্তরাধিকার। আপনার পূর্বসূরিদের কারো যদি রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা থেকে থাকে তাহলে আপনারও একই সমস্যা হতে পারে।

আগে কখনো রক্তজমাট বাঁধার নজির থাকলে : দেহে যদি আগে কখনো রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটে থাকে বা আগে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থেকে ফের আপনার একই সমস্যা হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫