ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

উপমহাদেশ

প্রেমের করুণ পরিণতি!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১২:১৪


প্রিন্ট
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাসের জেরে কিশোরী প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরই বেঁকে বসেছে প্রেমিক। প্রতিশ্রুতি রক্ষা তো দূরের কথা, উল্টে প্রেমিকার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার। লোকলজ্জার হাত থেকে বাঁচতে শেষমেশ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করল কিশোরী। মহকুমা শাসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের পরই সমাজকর্মীরা নির্য়াতিতা কিশোরীর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে।

ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের। ঘটনা জানাজানি হতেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার সুতাহাটায় শোরগোল পড়ে গেছে। শাস্তির দাবি উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের। থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কিশোরীর পরিবার। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই শেষমেশ মহকুমা শাসকের কাছে চিঠি লিখে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়ে কিশোরী নিষ্কৃতি পেতে চাইছে।

তবে এই আবেদনের পর মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সহবাস করে যুবক। এরই মধ্যে কিশোরী সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ে। এরপরই প্রকাশ্য চলে আসে পুরো বিষয়টি। জানাজানি হয়ে যায়। কিশোরীর পরিবার ছেলেটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযুক্ত যুবক অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে বিয়ে করতে রাজি নয়। এরপরই উপায়ান্তর না থাকায় থানায় অভিযোগ জানায় নাবালিকার পরিবার।

অবস্থা বেগতিক বুঝে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রেমিক। বেপাত্তা হয়ে যায় তার পরিবারের সদস্যরাও। কিন্তু বিভিন্নভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে ওই যুবকের পরিবার।

প্রেমের এই নিষ্ঠুর পরিণতিতে শেষপর্যন্ত নাবালিকা প্রেমিকা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করে। এর পরই নড়চড়ে বসে সমাজকর্মীরাও। প্রশাসনও তদ্বির শুরু করে। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

মেয়েটি যাতে এই প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক সুরক্ষা পায়, ন্যায়-বিচার পায়, তার দাবিও ওঠে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, স্বেচ্ছামৃত্যু কখনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যুবতীকে পুড়িয়ে হত্যা
বিবিসি বাংলা, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭
বছর-খানেক ধরে বারে বারে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়ে শেষ পর্যন্ত এক যুবতীকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছে তারই প্রাক্তন সহকর্মী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদ শহরে, জনসমক্ষেই ওই যুবক পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দেয় ওই যুবতীর গায়ে।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ বছর বয়সী ওই যুবতী।

স্থানীয় সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ের মৃত্যু হলো এমন দিনে, যেটা তার ভাইয়ের জন্মদিন ছিল।

হায়দরা বাদের পুলিশ বলছে, নিহত সন্ধ্যা যখন বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস ছুটির পরে বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই তার পিছু নেন কার্তিক নামের অভিযুক্ত ওই যুবক।

লালাগুডা এলাকায় তার বাড়ির কাছেই একটি অ্যালমুনিয়াম কারখানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে কাজ করতেন সন্ধ্যা।

ওই একই কারখানায় বছর খানেক আগে পর্যন্তও কাজ করতেন কার্তিক। কিন্তু বদ স্বভাবের কারণে তার চাকরি চলে যায়।

তারপর থেকে সে একদিকে সন্ধ্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল, অন্যদিকে তাকে ওই সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছিল।

তার যুক্তি ছিল তাকে যেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে কেন সন্ধ্যা কাজ করবেন! এই নিয়ে রাস্তাতেই ঝগড়া হয় দু'জনের।

হায়দরাবাদ উত্তর জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিসেস বি সুমথি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ওই যুবতী হাসপাতালে যে জবানবন্দী দিয়েছে, সেটাকেই মৃত্যুকালীন জবানবন্দী হিসাবে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও কার্তিককেও গ্রেফতারের পরে জেরা করা হয়েছে। ওই যুবতী জানিয়েছিলেন যে ধৃত যুবক কার্তিক বারে বারে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল, চাকরি ছাড়ার কথাও বলতো। সে কথায় কান না দেওয়ায় গতকাল বাড়ি ফেরার সময়ে দু'জনের ঝগড়া হয়। হঠাৎই গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কার্তিক।’

আগুন লাগানোর সময়ে ওই এলাকায় বেশ কিছু মানুষ ছিলেন, কিন্তু তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পালিয়ে যায় কার্তিক।

অন্যদিকে, ৮০% পুড়ে যাওয়া অবস্থায় স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সন্ধ্যাকে।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার আগে, রাতেই কার্তিক নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সন্ধ্যার মৃত্যুর পরে কার্তিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও যোগ করা হয়েছে।

মিসেস সুমথি জানান, জবানবন্দী ছাড়াও সিসিটিভির ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণও তারা যোগাড় করেছেন।

‘ধৃত কার্তিক কোথা থেকে কীভাবে পেট্রল কিনেছিল - এসবের ক্লোজড সার্কিট টিভির ফুটেজ যোগাড় করেছি আমরা। দেখা গেছে একটা বোতলে পেট্রল ভরার পরে সেটা নিজের জামার ভেতর লুকিয়ে রেখেছিল কার্তিক। ওই যুবতী কাজ থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই তার পিছু নিয়েছিল কার্তিক। গোটা ঘটনাই সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে। এটাও স্পষ্ট যে আগে থেকে পরিকল্পনা করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কার্তিক,’ বলেন মিসেস সুমথি।

হায়দরাবাদের স্থানীয় সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, খুবই গরীব পরিবারের ৭ ভাই বোনের মধ্যে সবথেকে ছোট ছিলেন সন্ধ্যা।

২০১১ সালে বাবা মারা যাওয়ায় স্নাতক স্তরের পড়া শেষ না করেই কাজে ঢুকেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার আগে মায়ের হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন - যাতে সবার জন্য বিরিয়ানি আর কিছু মিষ্টির ব্যবস্থা করা হয় - কারণ বৃহস্পতিবারই ছিল তার ভাইয়ের জন্মদিন।

আজ হাসপাতালে সংবাদদাতাদের সামনে বড়ভাই শুধুই কেঁদে চলেছিলেন। মাঝে মাঝে সস্তার মোবাইল ফোনে তুলে রাখা বোনের ছবির দিকেও তাকিয়ে দেখছিলেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫