ঢাকা, রবিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

ঘণ্টায় দেড় শ' ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে ইসরাইলে!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১২:১৬ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৬:১৬


প্রিন্ট
ঘণ্টায় দেড় শ' ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে ইসরাইলে!

ঘণ্টায় দেড় শ' ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে ইসরাইলে!

যুদ্ধ বাধলে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইসরাইলকে লক্ষ্য করে দৈনিক চার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে ইসরাইলি দৈনিক ইয়াদিউত অহারনোত।

পত্রিকাটি আরো জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় দেড় শ' ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে ছুটে আসবে। বর্তমানে হিজবুল্লাহর কাছে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে সেগুলোর ধ্বংস ক্ষমতা ও পাল্লা আগের চেয়ে অনেক বেশি বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

ইসরাইলি পত্রিকাটি আরো জানায়, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন ইসরাইলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারবে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য। যুদ্ধ বাধলে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকেও ইসরাইলে হামলা হবে বলে তারা মনে করছে।

ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যানকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের ৩০ শতাংশ মানুষের জন্য যুদ্ধকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের কোনো ব্যবস্থা নেই। ইয়াদিউত অহারনোত বলছে, হিজবুল্লাহর সাথে যেকোনো নতুন যুদ্ধে কমপক্ষে দুই হাজার ইসরাইলি সেনা আহত হবে।

 

ঝাঁপিয়ে পড়ল ইসরাইলি সেনারা, আহত হলো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

দখলদার সেনাদের প্রতি আরো বেশিসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরাইলের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী উরি অ্যারিয়েল। আহ্বান জানানোর দুই দিন পর শুক্রবারই অবরুদ্ধ পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কয়েক ডজনকে আহত করেছে ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করার উসকানি দাতা উরি অ্যারিয়েল দাবি করেন, গত কয়েক দিনে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এতে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পশ্চিম তীরে আমরা ভিন্ন নীতি অনুসরণ করব। এর উদ্দেশ্য হবে যারা আমাদের সঙ্গে সহাবস্থান করতে চায়, তাদের জন্য সুবিধা দেয়া। আর যারা ইহুদিদের ক্ষতি করতে চায়, তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা।

তিনি বলেন, আমাদের যেসব অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে তা কেন রাখা হয়েছে। আমরা তা ছুড়ে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাচ্ছি; কিন্তু কেউ আহত হচ্ছে না। এখন সময় হয়েছে গাজায় আহত ও হত্যার। আমাদের উচিত না শুধু নিজেদের রক্ষা করা- আমাদের উচিত আক্রমণ করা। কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করতে আসে, তা হলে আগেই তাকে আক্রমণ করা।

পশ্চিমতীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইহুদি বসতি ‘বেট এইল’-এর কাছে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ইসরাইলি সেনারা। হেবরন শহরের আল খলিলে গুলিবিদ্ধ ৩ ফিলিস্তিনির মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ২২ জন কাঁদানে গ্যাসের শ্বাসকষ্টের শিকার হয়েছেন।

নাবলুস শহরে তিনজন রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন, ৩২ জন কাঁদানে গ্যাসের কারণে অক্সিজেন স্বল্পতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত গুলি ও রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন ২৫ জন।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের রাজধানী পবিত্র জেরুজালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে সমগ্র ফিলিস্তিনে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। জেরুজালেমকে রক্ষায় ফিলিস্তিনের ফাতাহ সরকার ও গাজার হামাস সরকার তৃতীয় ইনতিফাদা বা গণপ্রতিরোধের ডাক দিয়েছে।

এতে অংশ নিয়ে পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় এ পর্যন্ত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। ২০১৭ সালে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকায় ৫৯ বার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সুড়ঙ্গপথ, প্রশিক্ষণ শিবির ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র। বেশিরভাগ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাসের স্থাপনা। (১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত সংবাদ)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫