ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ! আতঙ্কে কয়েক লাখ মানুষ

বিবিসি

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১১:৪৩ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১২:১০


প্রিন্ট

এ মেসেজটি ফোনে পাঠানো হয়

 

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হতে পারে এমন খবরে আতঙ্কে ছড়িয়ে পরে সে এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দাদের ফোনে বার্তা পাঠানো হয় এটা ড্রিল নয় অর্থাৎ সত্যিকারের অ্যালার্ট।

হাওয়াইয়ের কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, তাদের একজন কর্মকর্তা কম্পিউটারে ভুল বাটন প্রেস করার কারণে কয়েক লাখ মানুষের কাছে এই ভুল বার্তা গিয়ে পৌঁছেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটে এই অ্যালার্টের কারণে টিভি এবং রেডিও সম্প্রচার বিঘ্নিত হয়।

সেখানকার বাসিন্দাদের মোবাইলে যে বার্তা পাঠানো হয় সেখানে এটাও যুক্ত করা হয়, "এটা কোনো অনুশীলন বা ড্রিল নয়"।

তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়। হাওয়াই এর গভর্নর ডেভিড আইজি, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

এদিকে সেখানকার মানুষজন দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া থেকে ধারাবাহিকভাবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলে উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই অঞ্চলে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

উত্তর কোরিয়া থেকে হাওয়াইয়ে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হতে পারে এমন একটা অ্যালার্ম সিস্টেমে দেয়া আছে।

ভুয়া এই অ্যালার্ম মোবাইলে যেমন পাঠানো হয় তেমনি রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়াতে পোষ্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র এলার্ট পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছে।

 

ট্রাম্পের 'শিটহোল' নিয়ে তোলপাড়

"এসব 'শিটহোল' দেশের লোকজন সবাই কেন আমাদের দেশে আসছে?"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটরদের সাথে এক বৈঠকে এভাবেই হাইতি, এল সালভাদর এবং আফ্রিকান দেশগুলোকে বর্ণনা করেছেন। এই বৈঠকে তিনি সেনেটরদের সাথে অভিবাসন নিয়ে কথা বলছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ শব্দটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরও ঘটনাটি সাংবাদিকদের রিপোর্ট করতে হয়েছে। আর এই 'শিটহোলে'র অনুবাদ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকরা বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে 'শিটহোল' শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেনি অনেকে। সিএনএন এবং এমএসএনবিসি তাদের স্ক্রিনে শব্দটি ব্যবহার করেছে, কিন্তু সংবাদ উপস্থাপক ওলফ ব্লিটজার পুরো শব্দটি না বলে এর চেয়ে কম আপত্তিকর 'এস হোল' বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন।

কিন্তু বাকি দুনিয়ার সাংবাদিকরা কী করেছেন?

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কয়েক ডজন ভাষায় সংবাদ প্রচার করা হয়। সেই বিভিন্ন ভাষায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচ্চারিত এই শব্দটি?

কিছু কিছু ভাষা বিভাগ 'শিটহোল কান্ট্রিজে'র একেবারে আক্ষরিক অনুবাদই করেছে। বিবিসি মুন্ডু, যারা মূলত স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের জন্য রেডিও অনুষ্ঠান করে, তারা এটিকে অনুবাদ করেছে 'পেইসেস ডে মিয়েরডা' বা 'মল বা বিষ্ঠার দেশ' বলে।

বিবিসি তুর্কী ভাষা বিভাগ 'শিটহোলে'র অনুবাদ করেছে 'বোক কাকারু' বা 'মল ভর্তি গর্ত' বলে।

বিবিসি ইন্দোনেশিয়া ভাষা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ভাষায় 'শিটহোল' হচ্ছে, 'লোবাং কোটেরান', অর্থাৎ 'মলত্যাগের গর্ত। তারা সংবাদটি পরিবেশনের সময় তাই বলেছে।

বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার লিস্টন সিরেগার বলেন, আমাদের শ্রোতাদের জন্য এটা সেরকম বড় কোনো ব্যাপার নয়। এটা একটা অভদ্র এবং বাজে শব্দ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় কেউ যখন খুব রেগে যায়, তখন এরকম শব্দ ব্যবহার করে। তবে একজন রাজনীতিক বা প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এটা কেউ আশা করেন না।"

তবে অন্য অনেক ভাষা বিভাগ সরাসরি এই শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ ব্যবহার করতে চাননি এটি খুবই অরুচিকর শোনাবে বলে।

উর্দূ ভাষা বিভাগ ব্যবহার করেছে 'ঘাটিয়া' বা টয়লেট শব্দটি।

বিবিসির ফার্সি বিভাগের সাংবাদিকরা ব্যবহার করেন 'টয়লেটের মলভান্ড' শব্দটি।

রুশ ভাষা বিভাগের ফামিল ইসমাইলভ বলেন, আমাদের ভাষায় এরকম শব্দ আমরা ব্যবহার করতে পারি না, এটা ইংরেজির চেয়েও অনেক বেশি আপত্তিকর শোনাবে।"

তারা এটির অনুবাদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন 'দূর্গন্ধযুক্ত গর্ত'।

ভিয়েতনামী বিভাগের সাংবাদিক থু ফ্যান বলেন, তারাও আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে টয়লেট শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার মতে, যদি তারা আসল শব্দটি ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো খবরটি ভাইরাল হয়ে যেতে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু ইংরেজি ভাষাতেই বা 'শিটহোলে'র আসল অর্থ কী?

অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারী অনুযায়ী শিটহোলের এক নম্বর অর্থ আসলে 'রেকটাম' বা 'অ্যানাস', অর্থাৎ মানুষের মলদ্বার। এর তিন নম্বর অর্থ হিসেবে টয়লেটও আছে অবশ্য।

বিবিসির থাই সার্ভিস তাদের খবরে 'শিটহোলের' অনুবাদ হিসেবে 'মলদ্বার'কেই বেছে নিয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫