ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

ক্রিকেট

আইপিএলের নিলামে এক ঝাঁক তারকা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১১:০২ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১১:৩৩


প্রিন্ট
আইপিএলের নিলামে এক ঝাঁক তারকা

আইপিএলের নিলামে এক ঝাঁক তারকা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১১তম আসরের মেগা নিলামে এবার ১১২২ জন ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু তারকা রয়েছে নিলামে যাদের দর চড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ক্রিস গেইল, যুবরাজ সিং, গৌতম গম্ভীর, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অজিঙ্কা রাহানে, কুলদীপ যাদব, লোকেশ রাহুল, মুরলি বিজয়, জো রুট, শেন ওয়াটসন। বেঙ্গালুরুতে ২৭-২৮ জানুয়ারি হবে একাদশ আইপিএলের নিলাম।

বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে শনিবার নিলামের জন্য ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আইপিএলের আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ক্রিকেটারদের নাম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ২৮১ জন ক্যাপড ও ৮৩৮ জন আন-ক্যাপড ক্রিকেটারের নাম আছে নিলামের তালিকায়। তার মধ্যে ৭৭৮ জন আন-ক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটারও আছেন।

২৮২ জন বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে সব থেকে বেশি অস্ট্রেলিয়ার। ৫৮ জন অসি ক্রিকেটার এবার আইপিএলে খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৭ জন ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ জন করে। ইংল্যান্ডের ২৬ জন ক্রিকেটার নিলামে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। আফগানিস্তানের ১৩ জন, বাংলাদেশের আটজন ক্রিকেটারের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের সাতজন, আয়ারল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই ক্রিকেটারকেও নিলামে জায়গা দেয়া হয়েছে।

গত বছর ফিটনেসের কারণে শেষ মুহূর্তে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক। এবার তিনি আইপিএলের নিলামে অংশ নিচ্ছেন। ক্রিস গেইলের পাশাপাশি বিদেশিদের তালিকায় বিশেষ আকর্ষণ থাকবে বেন স্টোকস, ক্রিস লিন, ইয়ন মরগ্যান, প্যাট কামিন্স, ডোয়েন ব্র্যাভো, কার্লোস ব্রাথওয়েট, এভিন লুইস, জ্যাসন হোল্ডারকে নিয়ে।

হাশিম আমলা, কাগিসো রাবাদা, ফাফ ডু’প্লেসি, মর্নি মর্কেলের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটাররাও এবার নিলামে থাকছেন। অফ ফর্মে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল শেন ওয়াটসনদের দর কতটা চড়ে সেটাও দেখার। শ্রীলঙ্কার বর্ষীয়ান পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে এবার ছেড়ে দিয়েছে মুম্বাই। তাকেও দেখা যাবে মেগা নিলামে। এছাড়া রয়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, নিরোসান ডিকবেলা।

উল্লেখ্য, দুই বছর নির্বাসন কাটিয়ে ফের আইপিএলে খেলবে চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালস। তার ফলে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট কিংবা গুজরাত লায়ন্সকে আর দেখা যাবে না। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সামনে রেখেই চেন্নাই নতুন করে দল সাজাচ্ছে। সিএসকে রেখেছে রবীন্দ্র জাদেজা ও সুরেশ রায়নাকে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ধরে রেখেছে ঋষভ পন্থ, শ্রেয়াস আয়ার ও ক্রিস মরিসকে। কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দিয়েছে গৌতম গম্ভীরকে। তাঁর নেতৃত্বে কেকেআর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে নিলামে ‘রাইট টু ম্যাচ’ (আরটিএম) পদ্ধতিতে ফের গোতিকে দলে নিতে পারবে নাইট রাইডার্স।

একাদশ আইপিএলে ভিত্তি দরের থেকেও বেশি অর্থ দিয়ে বিরাট কোহলিকে ধরে রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তারা রেখেছে এবি ডি’ভিলিয়ার্স ও সরফরাজ খানকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ধরে রেখেছে রহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া ও যশপ্রীত বুমরাহকে। একমাত্র স্টিভ স্মিথকে রেখে দিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। ডেভিড ওয়ার্নার ও ভুবনেশ্বর কুমারকে ধরে রেখেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অক্ষর প্যাটেলকে রেখে দিয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব নতুন করে দল গড়ছে। একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গড়তে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। তার মধ্যে প্লেয়ার ধরে রাখতে যে খরচ হয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে যে অর্থ থাকবে তা নিলামে খরচ করা যাবে।

 

ক্রিকেট শেষ করে দিচ্ছে আইপিএল!

ক্রিকেটের লংগার ভার্সনের প্রতি তরুণ ক্রিকেটারদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, কম সময়ে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় শর্টার ভার্সনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি ঝুঁকছে তারা- ক্রিকেটের জন্য যা মোটেও শুভ নয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বার্ষিক সভায় এই অশুভ বার্তাই দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এই সভায় যোগ দেন সাকিব। তিনি ছাড়াও এই সভায় ছিলেন রিকি পন্টিং, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কুমার সাঙ্গাকারারাও ছিলেন।

সভায় সাকিব বলেছেন, বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটাররা টেস্ট ক্রিকেটকে আর তাদের লক্ষ্য হিসেবে দেখেন না। টেস্টের তুলনায় টি-টোয়েন্টি থেকে বেশি আয়ের সুযোগ থাকাই এর কারণ।

এমসিসি সাকিবের বার্তাকে আমলে নিয়ে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাকে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের যে বেতনের বৈষম্য, তা কমানো না গেলে তাতে আগ্রহ হারাবে ক্রিকেটাররা। স্পট ফিক্সিংয়ের মতো দুর্নীতিও কমানো যাবে না।

তরুণ ক্রিকেটাররা এখন জাতীয় দল ছেড়ে বিপিএল, আইপিএল, পিএসএলের মতো ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে।

এমসিসি কমিটির সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক পন্টিং এ ব্যাপারে বলেন, ইংলিশ কিংবা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের আপনি জাতীয় দল ছেড়ে আইপিএল খেলতে দেখবেন না। এর কারণ তারা (বোর্ড) খেলোয়াড়দের সন্তোষজনক পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন। তাই বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে টেস্টে সেরা খেলোয়াড় পেতে ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি চুক্তি নিশ্চিত করা উচিত। এতে তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আগ্রহে ভাটা পড়বে না।

সাকিবের কথার সূত্র ধরে পন্টিং বলেন, ‘সাকিব উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক দিন ধরে চলে আসা কিছু সমস্যা আর ঘটনার কথা বলেছে। সে এও বলেছে, টাকা (সারা বিশ্বে ক্রিকেট থেকে যে পরিমাণ আয় হয়, এর অংশ) কোথায় যায় সেটা আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সে জানে বিশাল অঙ্কের টাকা হয়তো সঠিক জায়গাতেই যাচ্ছে, কিন্তু খেলোয়াড়দের কাছে যেভাবে যাওয়া উচিত, সেভাবে নয়।’

এইভাবে চলতে থাকলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে তরুণরা দুরে সরে যাবে, টি-২০ ফর্মেটের প্রতি আরো আগ্রহ বাড়বে। ফলে দেশীয় ক্রিকেটারদের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্ব অনেক কমে যাবে। যা ক্রিকেটের জন্য কোনোভাবেই শুভ নয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫