ইরানের এক নম্বর টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আব্বাস আরাকচি
ইরানের এক নম্বর টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আব্বাস আরাকচি

‘আমেরিকাকে একঘরে করে ফেলেছে ইরান’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান গত এক বছরে কূটনৈতিক সংঘর্ষে আমেরিকাকে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলেছে। পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে আমেরিকা সম্পূর্ণ একঘরে হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে পরমাণু সমঝোতা অর্জনের আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন আরাকচি। তিনি শনিবার রাতে ইরানের এক নম্বর টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক বছর ধরে পরমাণু সমঝোতা বাতিল করে দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

আরাকচি বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের পরমাণু সমঝোতা ছিঁড়ে ফেলবেন। এরপর তিনি এই কাজে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন এবং ইরানকে এই সমঝোতা নিয়ে আবার আলোচনায় বসানোরও আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যে হুমকি দিয়েছেন সে সম্পর্কে আরাকচি বলেন, ট্রাম্প গত অক্টোবরেও একই ধরনের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কংগ্রেস যদি পরমাণু সমঝোতা সংশোধনে ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি একাই এই সমঝোতা বাতিল করে দেবেন। কিন্তু তাতেও তিনি সফল হননি।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার দেশের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা সংশোধন করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া, এই সমঝোতার ফলে উভয়পক্ষ লাভবান হচ্ছে বলে তা বাতিল করাও অসম্ভব বলে ইউরোপ জানিয়েছে।

 

ইরান চুক্তি আপাতত বহাল রাখছেন ট্রাম্প

ছয় বিশ্বশক্তির সাথে ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি আপাতত বহাল রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এটিই শেষবার বলে তিনি সতর্ক করেছেন। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিটি পরিবর্তন না হলে ট্রাম্প এটি বাতিল করবেন; কিন্তু তার আগে তিনি মাত্র আর একবারের জন্যই এটি অনুমোদন করলেন। এতে করে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকেও রেহাই পাবে। নিষেধাজ্ঞার যে ছাড়পত্রে ট্রাম্প সই করবেন তাতে ইরানে আরো ১২০ দিনের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প চান মার্কিন কংগ্রেস ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ১২০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি আরো পাকাপোক্ত করুক। তা না হলে শেষ পর্যন্ত এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাবে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর স্থায়ীভাবে কড়াকড়ি আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সাথে এ পাকা চুক্তি চাইছে হোয়াইট হাউজ। বর্তমান চুক্তিটিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে, যা শেষ হবে ২০২৫ সালে।

২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর ছয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের সাথে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এর আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হবে- এ শর্তেই ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অনেকাংশে কমাতে রাজি হয়। ফলে ইরানের ওপর দশকের পর দশক ধরে আরোপ থাকা পরমাণুসংশ্লিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতি ১২০ দিন পরপর ওই নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র সই করতে বাধ্য; কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চুক্তিটির সমালোচনা করে আসছেন। তবে ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত দিচ্ছে। ট্রাম্পকে চুক্তিটি বাতিল না করার আহ্বান জানিয়ে দেশগুলো বলেছে, ওই চুক্তির কারণেই বিশ্ব নিরাপদ আছে।

ইরানের ওপর সন্ত্রাস, মানবাধিকার ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আলাদাভাবে এখনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকটিতেও নজর দেয়া হোক সেটিও চান ট্রাম্প। - বিবিসি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.