ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

শেষের পাতা

বন্ধু ও স্ত্রী গ্রেফতার

বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার পর মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয় লাশ

রংপুর অফিস

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

২৮ দিন পর রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজ সিরাজুল ইসলামের (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বেলা আড়াইটায় হারাগাছ পৌরসভার হকবাজার মালিয়াটারীর বন্ধু ফরিদ হোসেনের (৩৩) বাড়ির রান্না ঘরের মেঝে খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিরাজুলের বন্ধু ফরিদ হোসেন ও তার স্ত্রী মিনি বেগম মিস্টিকে (২৫) গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলেছে, দাদন ব্যবসার আর্থিক জেরে ঘাতকেরা প্রথমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে সিরাজুল ইসলামকে হত্যা করে এবং তার লাশ রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে।
কাউনিয়া থানার ওসি মামুনুর রশিদ মামুন নয়া দিগন্তকে জানান, ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় সিরাজুল ইসলাম মোবাইলে হারাগাছের মালিয়াটারী গ্রামের কামার ফুল বাবুর ছেলে ফরিদ হোসেনের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে হকবাজারে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। ওই দিন থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ার পর সিরাজুলের বড় ভাই সেরেকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় জিডি করেন (নং-৭২১, ১৯-১২-২০১৭)। ওই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কাউনিয়া থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে শনিবার দুপুরে নিখোঁজ সিরাজুলের বন্ধু ফরিদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাালে পাঠানো হয়েছে।
কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুলতান আলী নয়া দিগন্তকে জানান, নিহত যুবক পেশায় দাদন ব্যবসায়ী ছিলেন। ওসি ঘটনার পর জিডির সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে ঘাতক ফরিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং তার স্ত্রীও হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে সে জানায়। ওই রাতে মিনি বেগম মিষ্টিকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দুইজনের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় নিখোঁজ সিরাজুলের লাশ ফরিদের বাড়ির রান্না ঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এসআই সুলতান আলী আরো জানান, দাদনের টাকার জের ধরে ফরিদ ও তার স্ত্রী ওই যুবককে খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রথমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার পর তার লাশ রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে ফরিদ ও তার স্ত্রী।
নিহতের বাবা মফেল উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, তার ছেলে ফরিদের সাথে দাদন ব্যবসায় করতেন। টাকার জন্য তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের স্ত্রী মবিনা বেগম নয়া দিগন্তকে জানান, আমার স্বামীকে হত্যাকারী ফরিদ হোসেন ও মিস্টির ফাঁসি চাই আমি। তারা আমার স্বামীকে বিরিয়ানি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫