আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার কিশোরী শ্রমিককে গণধর্ষণ

আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা

রাজধানী লাগোয়া শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নর্থ হেয়ার প্রোডাক্ট লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় এক কিশোরী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় রাসেল নামে এক শ্রমিককে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার রাত ৯টায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার গোবর ওয়ালা ছোট মাঠে কয়েকজন বখাটে মিলে ধর্ষণ করলে ওই কিশোরী শ্রমিক বেহুশ হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়ার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশীরা বলেন, জামগড়া এলাকার হেয়ার প্রোডাক্ট কারখার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী শ্রমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাসেল ও তার বন্ধুরা জামগড়া এলাকার গোবর ওয়ালা ছোট মাঠে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। একপর্যায় কিশোরী অচেতন হয়ে পড়লে ধর্ষকেরা ওই মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী ধর্ষিতাকে রাত ৯টায় উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ি হাবিব ক্লিনিকে ভর্তি করে।
এ সম্পর্কে আটককৃত রাসেলের ভগ্নিপতি আল-আমিন জানান, রাসেল কালিয়াকৈর চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। মাঝে মধ্যে জামগড়া উত্তরপাড়া হাসেম কলোনি-১ এ তার বাসায় বেড়াতে আসত। এ সময় সিরাজগঞ্জের একটি মেয়েকে পছন্দ ও তার প্রেমে পড়ে রাসেল। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে মেয়েটির বাবা আব্দুল মান্নান ও মা মাহেলাকে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জামগড়া এলাকার ইমরান, তানভীর, সোহাগ ও সৌরভ প্রেমিক জুটিকে একত্রে পেয়ে রাসেলকে বেদম মারধর করে এবং তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা কাগজে ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক সই রাখে। এ সময় রাসেলের সাথে থাকা মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নেয় বখাটে ইমরান গং চক্রটি। শনিবার বিকেলে রাসেলের লোকজন তার (ভগ্নিপতির) হাসেম কলোনি-১ এর বাসায় এসে চুক্তি মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ইমরান গ্রুপ। এ সময় রাসেলকে হাজির করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তার ভগ্নিপতি আল আমিন। পরে সন্ধ্যায় শুনতে পান, জামগড়া এলাকার গোবরের ছোট মাঠে ধর্ষিতাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ইমরান ও তার লোকজন সোনিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরে এমরানের লোকজন বাসায় এসে জানান, রাসেল ও তার বন্ধুরা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করেছে। এ সময় তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ধর্ষিতা ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি কে বা কারা সোনিয়াকে ধর্ষণ করেছে? সোনিয়া সিরাজগঞ্জ জেলার, শাহাজাদপুর থানার বাগদুলাইন এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে।
আটককৃত রাসেল বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি থানার কালামপুর এলাকার আল-আমিনের ছেলে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.