ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

আরো খবর

মৎস্য শস্য ও প্রাণী সম্পদ রক্ষায় আশার আলো

এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দেশের মৎস্য, শস্য ও প্রাণী সম্পদ রক্ষায় আশার আলো হয়ে উঠছে ফখরুলের হোমিও ও হারবাল ভেষজের সফল প্রয়োগ।
অর্গানিক মুরগি ও ডিমের উদ্ভাবক অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম শিকদার ইতোমধ্যে হোমিও মেডিসিনের পাশাপাশি হারবাল ভেষজ প্রয়োগ করে উদ্ভিদ প্রাণী ও ইতর প্রাণী পোলট্রি ডেইরি ফিশারিজ টার্কি কুকুর খরগোশ কবুতর মাছ এবং বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ, ফলমূল ও শাকসবজির মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধে শতভাগ সফল হয়েছেন।
পোলট্রির রানীক্ষেত বার্ডফ্লু মড়ক ডেইরির ক্ষুরা রোগ শাকসবজি ও বিভিন্ন প্রকার ফলমূলের মোজাইক ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তোলপাড় চলছে। আর এইসব রোগ বা ভাইরাস নিরাময়ে মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো যখন কোটি কোটি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বিভিন্ন প্রতিষেধক অ্যান্টিভাইরাস কিটনাশক উদ্ভাবন ও বাজারজাত করেও এসব রোগ বা ভাইরাস ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে; ঠিক তখনই হোমিও মেডিসিনের পাশাপাশি হারবাল ভেষজ প্রয়োগ করে উদ্ভিদ প্রাণী ও ইতর প্রাণী পোলট্রি ডেইরি ফিশারিজ টার্কি কুকুর খরগোশ কবুতর মাছসহ বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ, ফলমূল ও শাকসবজির মোজাইক ভাইরাসের মতো অপ্রতিরোধ্য ভাইরাস প্রতিরোধে অধ্যাপক ফখরুলের এই কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে দেশের মৎস্য শস্য ও প্রাণী সম্পদকে রাসায়নিক ও কিটনাশক মুক্ত করবে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শাকসবজি পোলট্রি ফিশারি ও টার্কি খামারিরা অধ্যাপক ফখরুলের উদ্ভাবিত হোমিও ও হারবাল লিকুইড ও পাউডার নিজস্ব খামারে প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছেন।
ঝিনাইদহের টার্কি খামারি হাবিবুর রহমান জানান, তার খামারের ফেন্সি মুরগি ও কবুতরের মধ্যে হঠাৎ নাকমুখ ফোলা ও চোখ দিয়ে পানি পড়া রোগ দেখা দেয়। পরে সাতকানিয়ার ফখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হোমিও মেডিসিনের সাথে হারবাল পাউডার দিয়ে চিকিৎসার পরে তার খামার এখন শঙ্কামুক্ত। একইভাবে ময়মনসিং ভালুকার খামারি মীর মহসিন রেজা জানান, তার খামারে বিভিন্ন ধরনের ফেন্সি মুরগি রয়েছে। তার রকমারি অ্যাগ্রো অ্যান্ড হ্যাচারি নামে দুইটি খামার রয়েছে। মান্দা নওগাঁর খামরে ২০০ এবং ভালুকার খামারে রয়েছে ১০০টি ফেন্সি মুরগি। তার দুটো খামারে করাইজা নামের রোগে মুরগির নাকমুখ ফোলা ও চোখ দিয়ে পানি পড়ত। পরে তিনিও ফখরুলের রহমানিয়া অ্যাগ্রো নামের ফেসবুক পেজ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করে হারবাল ও হোমিও মেডিসিন প্রয়োগ তার খামার শঙ্কামুক্ত করেন। কক্সবাজারের মুরগি খামারি মাওলানা নুরুল আজিম জানান, তার খামারে রানীক্ষেত রোগের প্রকোপে মুরগি মারা পড়ছিল। তখন ফখরুলের উদ্ভাবিত হোমিও ও হারবাল মেডিসিন প্রয়োগ করে তার খামার থেকে ওই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূলে সক্ষম হন। তিনি জানান, এলোপ্যাথি মেডিসিনের দাম অনেক বেশি। তা ছাড়া অনেক সময়ে তাতে সাময়িক উপশম হলেও আবার একই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তিনি দেড় মাস আগে ফখরুলের মেডিসিন ব্যবহার করে তার খামারকে শঙ্কামুক্ত রেখেছেন। সাতকানিয়া গাটিডেংগা মাদরাসার পাশে বাদশা মিয়ার মাছের খামারে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করার পর মাছের গায়ে বড় বড় ফসকা পড়ে মাছ মারা পড়ছিল তখন ডাক পড়ে ফখরুলের। এখানেও তার হোমিও মেডিসিন প্রয়োগ করার পর মাছের ফসকা ধীরে ধীরে উবে যায় এবং মাছ মরা রোধ হয় বলে জানালেন সাতকানিয়া মৎস্য কর্মকর্তা মানস মণ্ডল।
পারটেক্স গ্রুপের অর্গানিক ফার্টিলাইজার গ্রুপের ম্যানেজার অপারেশন ফখরুল আলম ভূঁইয়া বিপ্লব রহমানিয়া অ্যাগ্রোর ফেসবুক পেজ থেকে জেনেছেন ফকরুলের হোমিও ও হারবাল মেডিসিনের উপকারিতা। তার পরই তার গ্রামের বাড়িতে নিজের মিষ্টি কুমড়াক্ষেতে মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি ফখরুলকে জানান। তারপর তার দেয়া হোমিও ও হারবাল মেডিসিন ব্যবহারের ফলে মরা ক্ষেতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। গতকাল বিকেলে তিনি নিজে জানান, যেখানে কৃষি বিজ্ঞানীরা মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্ত গাছ বা চারা উপড়ে মাটি চাপা দেয়ার পরামর্শ দেন, সেখানে ফখরুলের হোমিও মেডিসিন বা হারবাল মেডিসিন কত উপকারী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ফখরুল ইসলাম শিকদার সাতকানিয়ার একটি মাদরাসায় অধ্যাপনার সাথে তিনি ডিএইচএমএস পাস করে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০০ সালে সর্বপ্রথম তিনি মুরগির খামার শুরু করেন। তখন থেকেই তার খামারে এলোপ্যাথি মেডিসিনের পাশাপাশি হোমিও ও হারবাল ভেষজ ব্যবহার শুরু করেন। পরে তিনি এলোপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ করে সম্পূর্ণ হোমিও ও হারবাল ভেষজ ব্যবহার করে তার খামারের মুরগি ও মুরগির ডিমকে বিষমুক্ত করেন এবং চট্টগ্রাম ভেটিরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনকিয়াস উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে তার উৎপাদিত মুরগির ডিম পরীক্ষা করানো হয়। ডিম ও মুরগি পরীক্ষায় তা সম্পূর্ণ অর্গানিক বা স্বাস্থ্যসম্মত বলে রিপোর্ট দিলে ফখরুলের উৎসাহ-উদ্দীপনা আরো বেড়ে যায়। পরে তিনি তার উৎপাদিত ডিম ও মুরগি নিয়ে হাজির হন রাজধানীর সাইন্স ল্যাবরেটরিতে। সেখানে সাইন্স ল্যাবরেটরির পরিচালক ড. মালা খানের তত্ত্বাবধানে তার মুরগি ও ডিমকে ডিআরআইএইচএমএর মাধমে পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ জীবাণু মুক্ত ও মানবদেহের জন্য তা স্বাস্থ্যসম্মত বলে রিপোর্ট প্রদান করেন ড. মালা খান। যা ওই সময়ে নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এর পরেই দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অর্গানিক উপায়ে মুরগি ও ডিম উৎপাদন।
এ অবস্থায় ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং একই বছর শিল্প মন্ত্রণালয় ফখরুল ইসলাম শিকদারের হাতে তুলে দেয় অর্গানিক মুরগি ও ডিমের সফল উদ্ভাবকের সার্টিফিকেট।
চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা লোকমান মজুমদার জানান, হোমিও ও হারবাল ভেষজ প্রয়োগে ফখরুলের যে সফলতা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সত্য প্রমাণিত হলে আগামীতে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বমহলে প্রশংসিত হবেন।
ফখরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, হোমিওপ্যাথির জনক ক্রিশ্চিয়ান ফেডারিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যানসহ বিজ্ঞানীরা সমসম সময়ী সদৃশ্য বিধান মতে (অর্থাৎ যার জীবাণু তাকে দিয়েই নিরাময়) শুধু মানবদেহের নয়, জটিল রোগের জন্য উদ্ভিদ, প্রাণিজ ও খনিজ উপাদান দিয়ে হাজারের ওপর ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন। এবার তিনি একই হোমিও মেডিসিনের পাশাপাশি হারবাল ভেষজের গুণাবলি প্রয়োগ করে উদ্ভিদ প্রাণী ও ইতর প্রাণী পোলট্রি ডেইরি ফিশারিজ টার্কি কুকুর খরগোশ কবুতর মাছ এবং বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ, ফলমূল ও শাকসবজির মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধে শতভাগ সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫