অধস্তন আদালতে ১৮৪ বিচারক নিয়োগ পাচ্ছেন শিগগির

খোকন বড়–য়া

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন অধস্তন আদালতে ১৮৪ জন বিচারক নিয়োগ পাচ্ছেন শিগগির। এর মধ্যে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৪১ জন এবং ১৩৪ জন সহকারী জজ রয়েছেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ও নিয়োগের বিষয়ে চলতি মাসেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিচারকের পাশাপাশি বিভিন্ন পদে ৬২ জন জনবলও নিয়োগ দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫৩টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এসব ট্রাইব্যুনালের জন্য বিচারকদের গাড়িসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদির অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজ নিয়োগের ১১তম ব্যচের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৪৩ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উভয় বিভাগে শিগগির নিয়োগ দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে শিগগির বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ তার কাজের যে লোড সেটার জন্য যে সংখ্যক বিচারপতি প্রয়োজন সেদিক বিবেচনা করে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি হাইকোর্ট বিভাগেও বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান।
কতদিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলতে থাকবে, চলতি জানুয়ারি মাস বা আগামী মাসের প্রথম দিকে এ নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আপিল বিভাগে বর্তমানে ১১ বিচারকের পদের বিপরীতে বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। পদ শূন্য রয়েছে ছয়টি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর তিনটির মধ্যে বর্তমানে দু’টি বেঞ্চ (কোর্ট) বন্ধ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো: ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার কর্মরত আছেন।
বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৯০ জনেরও অধিক বিচারপতি কর্মরত থাকলেও অবসরে যাওয়ার কারণে বর্তমানের এ সংখ্যা ৮০ তে এসে দাঁড়িয়েছে। এ দিকে সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে বর্তমানে বিচারপতিদের বয়সসীমা সাতষট্টি বছর। ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ১৬ মে চতুর্দশ সংশোধনীতে বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ করা হয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.