ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

নগর মহানগর

কনকনে শীতেও যেসব ফুল মন রাঙায়

মো: আবদুল আউয়াল ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সকাল-সন্ধ্যা প্রকৃতি কুয়াশায় ঢাকা থাকলেও কোথাও কোথাও সকালে কিংবা মধ্যদুপুরের মিষ্টি রোদ আকৃষ্ট করছে শীতার্ত মানুষকে। বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদে সকাল কিংবা দুপুরের রোদে গা এলিয়ে দেয়ার সময় এখন। শীতের বিভিন্ন আমেজের সাথে প্রকৃতিতে বাড়তি যোগ হচ্ছে ফুলের অতুলনীয় শোভা। বাহারি রঙের ফুল শীতের মধ্যেও সবার মন রাঙায়। অনেকে বাড়ির আঙিনায় কিংবা ছাদে ফুলের বাগান করতে ভালোবাসেন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিভিন্ন নার্সারিতে ও শৌখিন কিছু লোকের বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ফুলের বাগান দেখা যায়। শীতে নানা জাতের ফুল ফোটে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ শিউলি, সূর্যমুখী, গাঁদা, ডালিয়া, সিলভিয়া, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, গ্লাডিওলাসসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাপ।
গাঁদা : এটি অনেকেরই প্রিয় ফুল। শীত অথবা গরম সব মওসুমেই এ ফুল ফোটে। তবে শীতেই বেশি হয় গাঁদা ফুলের চাষ। গাঁদা অনেক ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে বড় ইনকা গাঁদা, ছোট ছোট চায়না গাঁদা, রক্তগাঁদা, দেশী গাঁদা, জাম্বো গাঁদা উল্লেখযোগ্য। লাল, হলুদ, কমলা ফুলের মধ্যে হলুদ গাঁদা বেশি জনপ্রিয়।
সূর্যমুখী : শীতের ফুল সূর্যমুখী। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর নাম হয়েছে সূর্যমুখী। এর বীজ যন্ত্রে মাড়াই করে তেল বের করা হয়। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। সূর্যমুখীর তেল ‘ঘি’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়, যা বনস্পতি তেল নামে পরিচিত।
ডালিয়া : ডালিয়া শীতকালীন ফুল। বর্ণবৈচিত্র্য, দৃষ্টিনন্দন পাপড়ির জন্য এটি জনপ্রিয়। সুইডেনের উদ্যানতত্ত্ববিদ আন্দ্রেডালের নামানুসারে এ ফুলের নামকরণ করা হয় ডালিয়া। এ ফুলের আদি বাসস্থান মেক্সিকোর গুয়াতেমালায়। ডালিয়ার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছেÑ রেড মনার্ক, সিঙ্গল, স্টার, অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ফরমাল ডেকোরেটিভ, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, রয়্যাল হোয়াইট, ক্যাকটাস, ভ্যারাইটি গার্ল প্রভৃতি।
শিউলি : শরৎ ও হেমন্তকালের শিশিরভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি দেখা গেলেও এই ফুল শীত ঋতুতে সুবাস ছড়ায়। এই ফুল রাতে ফোটে, সকালে ঝরে যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত।
চন্দ্রমল্লিকা : এটি চীনের ঔষধি ফুলের গাছ। কিন্তু জাপানিরা এর উন্নত রূপ দিয়েছে। এই ফুলটি জাপানের রাজপরিবারে বিশেষ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়। এ ফুল সাড়ে তিন হাজার ধরনের হয়ে থাকে। ফুলগুলো গোলাকার, পুরু, জটাবাঁধা প্রভৃতি রূপে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পানি বা জলাবদ্ধতা এর জন্য ক্ষতিকারক। সাধারণত অক্টোবর মাসে এ গাছে কুঁড়ি ধরে এবং নভেম্বর মাসে ফুল ফোটে। গাছে ফুল তাজা থাকে ২০-২৫ দিন।
কসমস : শীতকাল এলেই অনেকের বাগানে দেখা যায় সবুজ এক ধরনের গাছ। কিছু দিন যেতে-না-যেতেই বিভিন্ন রঙের ফুল ফোটে তাতে। এর নাম কসমস। আগে শুধু হলুদ বা কমলা রঙের কসমস দেখা যেত। এখন বিভিন্ন রকমের হালকা-গাঢ় গোলাপি, মেরুন ও সাদা কসমস দেখতে পাওয়া যায়। কসমসের উৎপত্তিস্থল মেক্সিকো।
গ্লাডিওলাস : গ্লাডিওলাস ফুল আমাদের দেশে এখন বেশ জনপ্রিয়। এ ফুল কমবেশি সারা বছরই উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে এ ফুল। তার মধ্যে সাদা, হলুদ, গোলাপি, লাল, ফিকে লাল, বেগুনি ইত্যাদি। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্লাডিওলাস ফুল রয়েছে।
গোলাপ : গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয়। গোলাপ এমনই একটা ফুল যা সারা বছর ফোটে। পৃথিবীতে প্রজাতি ও উপপ্রজাতি মিলিয়ে প্রায় ৫৫০টি আলাদা গোলাপের অস্তিত্ব রয়েছে। কয়েক জাতের বিদেশী গোলাপের মধ্যে রয়েছেÑ রানী এলিজাবেথ, ব্ল্যাক প্রিন্স, ইরান, মিরিন্ডা, পাপা মিলাঁ, আইসবার্গ, রোজ গুজার্ড, বেংগলি, কুইন এলিজাবেথ, জুলিয়াস রোজ, ডাচ গোল্ড, সানসিল্ক, কিংস উল্লেখযোগ্য। আর দেশী জাতের মধ্যে রয়েছেÑ ফাতেমা ছাত্তার, মল্লিক, রাহেলা হামিদ, পিয়ারী, ভাসানী, শেরেবাংলা, জয়ন্তি, শিবলী উল্লেখযোগ্য।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫