ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

প্রধানমন্ত্রী জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন : মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের প্রতিবাদী আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছেন মওদুদ আহমদ  ;  নয়া দিগন্ত

ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের প্রতিবাদী আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছেন মওদুদ আহমদ ; নয়া দিগন্ত

‘ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি গতকাল এক সভায় বলেন, বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি নির্বাচনকালীন সরকার বলেও কিছু নেই। জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এটা বলা হচ্ছে। মূল কথা হলো, ক্ষমতাসীন এ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ প্রতিবাদী সভার আয়োজন করে ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট। সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ারসহ নেতারা।
শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, সবার প্রত্যাশা ছিল কিভাবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলবেন। কিন্তু তেমন তিনি কিছুই বলেননি। এতে জাতি হতাশ হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশের প্রয়োজন, সে কথা প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেননি। তার কাছে আমরা প্রত্যাশা করি- সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের যে ইচ্ছা তার প্রতিফলন ঘটাবেন। তিনি সব মানুষের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে সবাই তাকে বাহবা দিতে পারে। আমরা আজকে তাকে অভিনন্দন জানাতাম, যদি তিনি তার ভাষণে নির্দলীয় ও একটি নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা দিতেন। কিন্তু তার ভাষণ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দুঃখের কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো তিনি উল্লেখ করেননি।
প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের আসল চিত্র তুলে ধরেননি। তিনি তার সরকারের উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং বিরোধী দলকে কিভাবে আঘাত করা যায়, সেভাবেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু দেশে যে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন বিলুপ্তির পথে, প্রধান বিচারপতির অপসারণের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের মৃত্যু ঘটানো হয়েছে, নি¤œ আদালত যে নির্বাহী বিভাগের অধীনে গেছে, মাসদার হোসেন মামলার যে মৃত্যু ঘটেছে, সংসদ যে অকার্যকর, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে একটি ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেবে কিনা বা সেনা মোতায়েন করা হবে কিনা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা কিছু শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এসব বলেননি। এ ছাড়া শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার যে একটি অনির্বাচিত সরকার এবং জনগণের ভোটে নির্বাচন হয়নি, এই কথাটাও তিনি বলতে ভুলে গিয়েছেন। কী করে নির্বাচন হবে? Ñএমন প্রশ্ন রেখে মওদুদ আহমদ বলেন, একটি দল নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে গেছে। আর আমাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। কখন যে কে গ্রেফতার হয় তার কোনো ঠিক নেই। কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ওপর যতই নির্যাতন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যতই মিথ্যা মামলা হোক না কেনো, কোনো কিছুই আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫