ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

সংবাদ সম্মেলনে হাওর অ্যাডভোকেসি প্লাটফরম

হাওরের মানুষ সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গত এপ্রিল মাসে হাওরে স্মরণকালের বড় দুর্যোগ নেমে এসেছিল। পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের ফসল তলিয়ে গিয়েছিল। হাওরবাসী এখনো সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তারা এখনো ইতিহাসের সঙ্কটকাল অতিক্রম করছেন। হাওরের মানুষ খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা করছে। অনেক অবস্থাপন্ন পরিবার দিনে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
গতকাল পল্টনের কমরেড মনি সিং ট্রাস্ট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন হাওর অ্যাডভোকেসি প্লাটফরমের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান শরিফ। এতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হাওরবাসীকে নতুন সঙ্কটে ফেলেছে। আমরা অনেকে জানি, বছরে দুইবার অর্থাৎ কার্তিক ও চৈত্র মাসে হাওরের মানুষ তীব্র খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা করে। আমরা আশঙ্কা করছি, এবারের ব্যাপক ফসলহানি আগামী চৈত্রে সঙ্কট আরো বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া ভিজিএফ কার্যক্রম অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ওএমএস কার্যক্রমও গতি হারিয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সঙ্কুচিত হওয়ায় তার অনিবার্য প্রভাব পড়ছে হাওরবাসীর জীবনে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছরে অসময়ে পাহাড়ি ঢল অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার তাদের নিঃস্ব করেছে। এবারে ফসলহানির ভয়াবহতা ও প্রতিক্রিয়া অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সেটা আমরা আগেই জেনেছি। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল মাছ, বোরো ধান, প্রকৃতি ও প্রাণ বৈচিত্র্যে ভরপুর। তবে তারা জীবিকার জন্য ধান ও মাছের ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের বিপর্যয়ের পরে হাওরবাসীর সঙ্কট মোকাবেলায় তাদের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা রক্ষা করা হয়নি, হাওরবাসী এই সঙ্কট থেকে তাদের বাঁচানোর জন্য যে সহায়তা চেয়েছিল তা তারা পায়নি। তারা ধান ফলায়- সেই ধান তারা যেমন নিজেদের জন্য রাখে আবার আমাদের খাদ্যভাণ্ডারে যুক্ত করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক দিকে ঘরে খাবার নেই, সরকারের প্রতিশ্রুতির পুরোপুরি বাস্তবায়ন নেই, তাদের হাতে কাজ নেই। অনেকে গ্রাম ছেড়ে কাজের খোঁজে শহরে ছুটছেন। গত এপ্রিল মাসে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে কেবল সুনামগঞ্জে ১৫৪টি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার তিন লাখ ২৫ হাজার ৯৯০টি কৃষক পরিবার। হাওরের সাত জেলা মিলিয়ে এ সংখ্যা ছয়-সাত লাখ পরিবার ছাড়িয়ে যাবে।
হাওরে টেকসই বাঁধ নির্মাণে সরকারের যে ভিজিএফ কার্যক্রম চলছে তার যেন ছেদ না পড়ে, খোলাবাজারে চাল বিক্রি হাওরবাসী যত দিন চাইবে তত দিন চালু রাখা, কৃষিঋণ সুদসহ মওফুফ করে দেয়া, হাওরে অবাধে মাছ ধরার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।  

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫