ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

অবকাশ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা  

শওকত আলী রতন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রতি বছরের মতো এবারো শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। বাণিজ্যমেলা ঢাকাবাসীর জন্য মিলনমেলায় রূপ নেয়। এখানে দেশ-বিদেশের পণ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার সাথে সাথে কেনাও যায়। তাই এ সময়ের অন্যতম বিনোদন বাণিজ্যমেলা। মেলার আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন শওকত আলী রতন

রাজধানীর ঢাকার শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। ১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলার প্রথম দিন থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কেনাকাটার জন্য দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেছেন। মেলা ম্যাসব্যাপী হওয়ায় ক্রেতারা তাদের সময়-সুযোগ করে মেলায় আসেন। তবে শুরুর দিকে মেলায় বেচাবিক্রি কম বলে জানিয়েছেন স্টল ও প্যাভিলিয়নের বিক্রেতারা।
বিভিন্ন স্টল ঘুরে জানা গেছে, এ বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হলেও গত বছরের তুলনায় বিক্রি কম। সকালের দিকে লোক সমাগম না হলেও বিকেলে দর্শনার্থী বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে মেলায় প্রবেশ করছেন। শিক্ষার্থীরা কেনাকাটা না করলেও খাবারের দোকানগুলোয় ভিড় করছেন। আবার কেউ কেউ মেলার মাঠে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ভিড় কম থাকায় অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার কাজটি আগেই শেষ করছেন। আবার অনেক দর্শনার্থী মেলার বিভিন্ন স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে পণ্যের দরদাম দেখছেন।
মেলায় অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় প্রথম শুক্রবার দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মানুষজন সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় ব্যতিব্যস্ত থাকার কারণে ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে। ছুটির দিনে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসেছেন কেনাকাটার জন্য। ছুটির দিনগুলোয় নানা বয়সের ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বাণিজ্যমেলার মাঠ।
মেলায় সার্বিকভাবে বিক্রি কম হলেও প্লাস্টিক পণ্য, ক্রোকারিজ, শীতের পোশাক, জুতা, শিশুদের খেলনা, ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকসের স্টলগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি। আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য। মিনিস্টার ইলেকট্রনিকস প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক শেখ আহমেদ জানান, এ বছর মেলায় শুরু থেকেই আশানুরূপ বিক্রি নেই। ক্রেতারা আসছেন, ঘোরাঘুরি করে চলে যাচ্ছেন। তবে মেলার শেষের ১০ দিন বিক্রির ধুম পড়বে বলে জানান।
হোমটেক্সের বিপণনকর্মী মিঠু জানান, মেলার মাঠে দর্শনার্থীদের অভাব নেই, কিন্তু স্টলগুলো ফাঁকা। তিনি মনে করছেন, নির্বাচনী বছরের কারণে এবারের মেলার শুরুর দিকের বিক্রি ভাবিয়ে তুলেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি এখন বিক্রি কম হলেও মেলার শেষ দিকে বিক্রি বাড়বে। এ বছর মেলায় সব মিলিয়ে ৫৮৯টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
এবার বিদেশী অংশগ্রহণকারী ১৭ দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বিদেশী স্টলগুলোয় বিক্রি কম বলে জানান বিক্রেতারা।
মেলায় এ বছর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থাপন করা হয়েছে ১০০টি সিসি ক্যামেরা। মূল রাস্তা থেকে প্রবেশের সময় এবং মেলার ভেতরে ঘোরাঘুরি করার পুরো জায়গা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও র্যারের পাশাপাশি বিজিবি ও অন্য নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি স্টল ও প্যাভিলিয়নে থাকছে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী। রাজধানীর মিরপুর থেকে সাইফুল ইসলাম স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে মেলায় এসেছেন কেনাকাটার জন্য। তিনি জানান, প্রতি বছরই মেলায় শিশুদের ঘুরতে নিয়ে আসি। এখানে আসলে শিশুরা আনন্দ পায়। তাই তাদের একটু বাড়তি বিনোদনের জন্য মেলায় আসা। যমুনা সার কারখানার ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো: আবদুর রব খান জানান, প্রতি বছরই বাণিজ্যমেলায় আসেন তিনি। শখের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাণিজ্যমেলা থেকে কিনে থাকেন।
মেলায় মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার স্টলগুলোয় ক্রেতারা ভিড় করছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ১০-৩০ শতাংশ নগদ মূল্যছাড় দেয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়ে সেসব পণ্য কিনছেন। গৃহস্থালি প্রতিষ্ঠান মিয়াকোর বিক্রেতা জানান, গৃহস্থালির যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে আমরা এবার মেলায় এসেছি।
বাণিজ্যমেলায় বিভিন্ন দেশের কসমেটিকস, ইমিটেশনের গয়না ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। এগুলো ব্যতিক্রম, দৃষ্টিনন্দন ও মানের দিক দিয়ে সেরা। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের আইটেম যুক্ত হওয়ায় ক্রেতারা ভিড় করছেন সেখানে। মেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে এসেছেন অনেক শিশু। মেলায় শিশুদের জন্য থাকছে নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক, জুতা ও খেলনা। রয়েছে শিশুদের জন্য শিশুপার্ক। সেখানে বিনোদনের জন্য শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন তাদের অভিভাবকেরা।
এবারের বাণিজ্যমেলার প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের আকৃতি দেয়া হয়েছে। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের সেবা ও অবকাঠামো রয়েছে। মেলায় প্রবেশফি ধরা হয়েছে বড়দের জন্য ৩০, আর ছোটদের জন্য ২০ টাকা। মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ ছাড়াই মেলা প্রতিদিন খোলা থাকছে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫