ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

অবকাশ

সরিষার পাপড়িতে শীত দেখা

আলী আকবর

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রজাপতিকে আমি সাজতে দেখেছি, মৌমাছিকে আমি গাইতে শুনেছি গান। আর আমি খুঁজতে শুরু করেছি আমার স্মৃতিকে যেখানে আছে আমার সোনালি রোদ্দুরমাখা শীতের শৈশব। কালের আবহে এখন ভরা যৌবনের শীত। পৌষ আর মাঘ তার গায়ে হলুদ বেটে দিয়েছে। যেন সরিষার পাপড়ি মাখানো কাঁচা হলুদ। এমনি এক সোনাফলা রৌদ্র দিনে আমরা কয়েক বন্ধু গিয়েছিলাম পদ্মা পাড়ে। সেখানে শুধুই নয়নাভিরাম হলুদের হাতছানি। পল্লীকবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুর শহর থেকে সিঅ্যান্ডবি ঘাট। তারপর নদী নাড়ির শেকর সন্ধানে কেটে গেল একটি বিকেল। ভরদুপুরের রৌদ্র হলেও তা ছিল উপভোগ্য। ট্রলার পার হয়ে গন্তব্য ডিক্রির চরে যেতে সময় লাগল পাঁচ মিনিট। নামতেই মনে হলো অপরূপ সৌন্দর্যের এক বেলাভূমি হাতছানি দিয়ে আমাদের ডাকছে। দু-চারটে ঘরবাড়ি বাদে বিস্তৃতি মাঠ। একে মাঠ না বলে সোনালি প্রান্তর বলাই ভালো। বড় বড় গাছ চোখে না পড়লেও পাখিদের সরব উপস্থিতি সেখানে। ওদের কিছির মিচির ডাক মুগ্ধ করেছে ভীষণভাবে। সরিষা ছাড়াও পৌষের অন্য ফুলেরা আমাদের যেন ফুলেল শুভেচ্ছা জানাল। গাঁদা, খেসারি, মুগ, মটরশুঁটির কুহেলি নেমন্তন তাতে।
ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া শৈশব তখন আমার স্মৃতিপটে, কবি আল মাহমুদের মক্তবের চুলখোলা আয়েশা আমার চোখে ছল ছল করছে। এখানে গ্রাম্য মেয়েরা চুলখুলে রোদেলা দুপুরে স্নান সেরে বসে আছে। যেন রোগাটে জসীমউদ্দীনের আসমানির দল। শিশুরা মেতে উঠেছে নানা খেলাধুলায়। যোগাযোগব্যবস্থা আর নানা সমস্যার কারণে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশু যেতে পারে না স্কুলে। আলাপচারিতায় ওরা জানাল ওদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের কথা। ওরা বাড়ির ‘পালান’কে সাজিয়েছে গাঁদাফুলে। চরের কৃষক ভাইয়ের লাগানো কুল, সফেদায় ফুল ফুটেছে। পলিমাটিমিশ্রিত চরের মাটি যে কতটা উর্বর তা বোঝা যায় গৃহিণীর উঠানে লাগানো লাউগাছ দেখেই। গেল বছরের বন্যার ভয়াবহতা এখানে দৃশ্যমান।
পিঠাপুলি আর জামাই আদর হয় কিভাবেÑ এমন জিজ্ঞাসায় মুখ মলিন হয়ে যায় আবু তাহেরের ডাঙ্গি চরের সফুরা বেগমের। তার ভাষ্যÑ বন্যায় ধান ও বর্ষায় ফসল হারিয়ে এখন এই সরিষার পানেই চেয়ে আছেন তারা।
পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবন নদীর বানের মতো এভাবেই ভাঙে আর গড়ে। পলি মাটিতে যে আশার সঞ্চার হয়, তা নিমেষেই বিলীন হয় নদীতে। তবে সব কিছু ভুলে এবার সরিষার হাসিতে হাসতে চান তারা।
পশ্চিম আকাশে গোধূলির দেখা। চার দিকে কুহেলি আছন্ন হওয়ায় পাখিরা ফিরছে নীড়ে। প্রকৃতির দিগন্ত থাকলেও আমি আমার মনের দিগন্ত পাই না। মনে হয় এখানেই রাতকে উপভোগ করি। চাঁদনি রাতে শিশুদের সাথে মেতে উঠি গোল্লাছুট খেলায়।
পশ্চিমের সূর্যকে বিদায় দিয়ে চাঁদকে নিয়ে ফিরলাম আপন শহরে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫