জোছনা রাতের মায়াকান্না!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

জীবনে সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে চাঁদ তুলনাহীন। যখনই ভেবেছিলাম জোছনার সাগরে নির্ঘুম সুখের স্নান করব। কষ্টগুলোকে হাওয়ায় ভাসিয়ে উড়িয়ে দেবো। ঠিক তখনই কোনো এক অন্ধকার গলি আমার স্বপ্নগুলোকে গিলে নিলো। জোছনা ভরা রাতগুলো তখন আমার কাছে বিষাদের হয়ে গেল। যদিও জোছনা রাত নিঃসঙ্গ দুঃখী মানুষের দুঃখ হালকা করার এক মায়াবী মুহূর্ত। কারো কারো কাছে এ যেন এক জাদুর কাঠি। ছুঁয়ে দিয়ে ভালোবাসার পরশে আগলে নেয়। ভালোবাসার মানুষ ছেড়ে গেলেও এই চাঁদটা কখনো ছেড়ে যেতে চায় না। পূর্ণিমার রাতে যখন সে আকাশে থাকে তখন সাথে সাথে চলে। এই চাঁদের এমন ভালোবাসার হাতছানি আমাকে টেনে ঘর থেকে বের করে আনত। জোছনা রাতে আমার ঘুম আসত না।
বিছানায় যতক্ষণ থাকতাম ততক্ষণ ছটফট করতে থাকতাম। পরিশেষে বেরিয়ে পড়তাম ঘর থেকে। আনন্দের রাশি রাশিমালা গেঁথে কল্পনায় চাঁদের গলায় পরিয়ে দিতাম! এখনো আমি চাঁদের সাথে আর জোছনার সাথে মিতালি করি। রাতের নির্জনতায় সবাই যখন গভীর ঘুমে ডুবে থাকে তখন একাকী রাস্তার ধারে বসে থাকি। আমি চাঁদের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি। তবে আগের মতো আর আনন্দের মালা গাঁথা হয় না। মাঝে মধ্যে আমি হাঁটি। চাঁদও আমার সাথে সাথে হাঁটে।
এই চাঁদের আলো শুধু আমার জন্য নয়। নিশ্চয় যারা খুব সুখে আছে তারাও এ চাঁদের আলো উপভোগ করে।
তাদের সাথে নিঃসঙ্গদের পার্থক্য হচ্ছে যারা সুখে আছে তারা চাঁদের আলোর সাথে সুখের হাসি ছড়িয়ে দেয়। পরম আনন্দে তাদের স্বপ্নগুলো বিছিয়ে দেয় জোছনার মায়াবী বিছানায়। আর আমার মতো নিঃসঙ্গদের চাঁদের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু মনে করার চেষ্টা করি। অনেক কিছু খোঁজার চেষ্টা করি। মনের তটে ভেসে ওঠে পেছনে ফেলে আসা গল্পের আয়না।
গল্পের পরতে পরতে সাজানো রূপক চরিত্রগুলো জেগে ওঠে যন্ত্রণা দিতে থাকে। চাঁদের আলোর মায়ায় ফেলে আসা স্মৃতি অতল গহ্বর থেকে ভেসে ওঠে।
চোখগুলোকে ভিজিয়ে দিয়ে যায়। এমন স্মৃতি মনে করতে করতে একসময় আমারও চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা অশ্রু টুপ করে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে।
আমার মতো হয়তো কেউ না কেউ অন্য কোনো প্রান্তে এভাবে জেগে থাকে জোছনা রাতে। আর নিঃশব্দে বিষাদের গ্লানি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়। প্রতিটি জোছনা রাতেই আমার কাছে কেমন মায়াকান্নার মতো মনে হয়।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.