ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকা

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকা
সম্পর্কে। সাবেক বক্সা বাঘ বিভাগের সম্পূর্ণ বনাঞ্চল এবং কুচবিহার বন বিভাগের কিছু এলাকা নিয়ে ১৯৮৩ সালে বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকা গঠন করা হয়। লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
বক্সা পাহাড় নৈসর্গিক শোভা আর জীববৈচিত্র্যে অনন্য। এ পাহাড়ে ভারতীয়রা গড়ে তুলেছে বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকা। বাঘসহ বন্যপ্রাণী রক্ষা ও বনাঞ্চল সংরক্ষণের জন্য এটি গড়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় এর অবস্থান। বর্তমানে এটি জাতীয় পার্ক। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ, দুর্গ ও ধর্মীয় স্থান।
সাবেক বক্সা বাঘ বিভাগের সম্পূর্ণ বনাঞ্চল এবং কুচবিহার বন বিভাগের কিছু এলাকা নিয়ে ১৯৮৩ সালে বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকা গঠন করা হয়। ১৯৮৬ সালে প্রায় ৩১৫ বর্গকিলোমিটার সংরক্ষিত বনে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়। ১৯৯১ সালে অভয়ারণ্যের আয়তন বাড়ানো হয়। ১৯৯২ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয় এবং আয়তন বাড়িয়ে করা হয় প্রায় ৭৬০ বর্গকিলোমিটার।
১৯৭৯ সালে বক্সায় ১৭টি বাঘ ছিল, ১৯৮৯ সালে ছিল ৩৩টি। ধারণা করা হয়, বর্তমানে রয়েছে ২৫-৩০টি বাঘ।
বক্সার বনে রয়েছে শাল, চম্প, গামার, শিমুল চিকরাশিসহ বিভিন্ন গাছ। এখানে রয়েছে ৩০০ প্রজাতির গাছ, ২৫০ প্রজাতির গুল্ম, ৪০০ প্রজাতির ঔষধি গাছ, ৯ প্রজাতির বেত, ১০ প্রজাতির বাঁশ, ১৫০ প্রজাতির অর্কিড, ১০০ প্রজাতির ঘাস, ১৩০ প্রজাতির জলজ গাছ এবং প্রায় ৭০ প্রজাতির সেজ (হোগলাজাতীয় গাছ)। এ ছাড়া আছে প্রায় ১৬০ প্রজাতির একবীজপত্রী উদ্ভিদ ও ফার্ন।
এই সংরক্ষিত এলাকায় রয়েছে ৩৯০ প্রজাতির পাখি, ৭৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭৬ প্রজাতির সাপ এবং ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণী। বাঘের বাইরে এখানে রয়েছে হাতি, ভালুক, গন্ধগোকুল, বড় কাঠবিড়াল, গাউর, চিতল (এক প্রকার হরিণ) মেঘি চিতাবাঘ, বন্য মহিষ, অ্যান্টেলপ (এক ধরনের হরিণ)। বড় সাপ রিগাল পাইথনের দেখা মেলে বক্সায়। ২৩০ প্রজাতির পাখি এবং অসংখ্য প্রজাপতি রঙিন আভা ছড়ায় এই বনে। বক্সার বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাইদাক ও জয়ন্তি নদী এবং নারাথালি হ্রদ অনেক ভারতীয় ও অতিথি পাখির আবাস। বিভিন্ন প্রজাতির মাছও আছে। রয়েছে দুই প্রজাতির ব্যাঙ।
বক্সা বাঘ সংরক্ষিত এলাকার প্রতœতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় গুরুত্বও রয়েছে। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক বক্সা দুর্গ। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে এক সময় এ দুর্গে আটক রাখা হয়েছিল। হিন্দুদের কাছে পবিত্র মহাকালেশ্বর জ্যোতিরলিঙ্গ মন্দিরের অবস্থান বক্সা সংরক্ষিত এলাকাকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। শিব চতুর্দশীতে প্রভু শিবের প্রায় ১০ হাজার অনুরাগী এখানে সমবেত হন।
সংরক্ষিত এলাকা হলেও বক্সার বনে ৩৬টি গ্রাম রয়েছে, যেগুলোর লোকসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। Ñওয়েবসাইট অবলম্বনে

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫