ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ঊনপঞ্চাশ.
ভয়ানক কোনো দৃশ্য দেখার ভয়ে চোখ বুজে ফেললাম। তারপর চোখের পাতা সামান্য ফাঁক করে তাকালাম।
রান্নাঘরটাও বাড়ির অন্যান্য ঘরের মতোই ফাঁকা। আলমারির পাল্লাগুলো সব হাঁ হয়ে খুলে রয়েছে। তাকগুলো খালি।
স্বস্তি যেন ঢেউয়ের মতো বয়ে গেল আমার সারা শরীরে। সে-রাতে যা-ই ঘটে থাকুক না কেন, নটিংহ্যাম পরিবার এখান থেকে চলে গেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মিস্টার নটিংহ্যাম, তার স্ত্রী, কিটু, তিনজনের কেউই নেই। এই বোধহয় প্রথম ওদের কোনো শিকার ওদের হাত ফসকে পালাতে সক্ষম হয়েছে। তাই পুলিশের ভয়ে পালিয়েছে ওরা।
কিংবা হয়তো পুরো ব্যাপারটাই আমার অতিকল্পনা। অন্ধকার নির্জন পোড়ো বাড়িতে ঢুকে ঘটনাটা কল্পনা করেছে আমার রোগাক্রান্ত মগজ। হয়তো আগের দিন দেখা হরর সিনেমার ছাপ রয়ে গিয়েছিল আমার মগজে। কিন্তু তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, পত্রিকায় বেবিসিটারের বিজ্ঞাপন কে দিয়েছিল এ বাড়ির ঠিকানা দিয়ে?
ঘরটায় ঢোকার পর থেকেই পচা গন্ধ লাগছে নাকে।
চিন্তিত ভঙ্গিতে বেরোনোর জন্য ঘুরতে যাবো, হঠাৎ চোখের কোণে ধরা পড়ল জিনিসটা।
অন্ধকার ছায়ার মধ্যে পড়ে রয়েছে, তাই বুঝতে পারলাম না ওটা কী। কালো একটা ছোট জিনিস পড়ে আছে ঘরের এক কোনায়, শুধু এটুকু বুঝলাম।
পালাও! আর কৌতূহলের দরকার নেই। স্রেফ বেরিয়ে যাও এখান থেকে! নিজেকে সাবধান করলাম।
কিন্তু আবারো সেই কৌতূহল, কোনোমতেই দমন করতে পারলাম না।
ধড়াস ধড়াস করছে হৃৎপিণ্ডটা। হাতের তালু ঘামে ভিজে গেছে। ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগোতে লাগলাম। জিনিসটা কী, এখনো চিনতে পারছি না। অবশেষে ঘরের কোণে পৌঁছে ভালোমতো দেখার জন্য নিচু হলাম। পচা গন্ধ এসে নাকে ধাক্কা মারল।
(চলবে)

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫