ফুটবল ম্যাচ দেখলেন সৌদি নারীরা

বিবিসি

গাড়ি চালানোর অনুমতি, এক দশকের নিষেধাজ্ঞার পর সিনেমা হলে সিনেমা দেখার পর এবার প্রথমবারের মতো মাঠে উপস্থিত হয়ে একটি ফুটবল খেলা উপভোগ করেছেন সৌদি আরবের নারীরা। আর একে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘মধ্যপন্থী ইসলামের’ দিকে ধাবিত হওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। শুক্রবার জেদ্দা শহরের ওই স্টেডিয়ামের পারিবারিক গেট ব্যবহার করে আলাদাভাবে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান সৌদি নারীরা। খবরে বলা হয়, দেশটির ঐতিহ্যবাহী কালো বোরখা পরিহিত নারীরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলে তাদের স্বাগত জানান, নারী অভ্যর্থনাকারীরা। তারা মাঠে খেলা দেখার সময়ে উল্লাস করে সমর্থন জানান স্থানীয় দলকে।
শুক্রবার নারীদের খেলা দেখার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হ্যাশট্যাগ খোলা হলে দুই ঘণ্টায় তা শেয়ার হয় ১০ হাজার বার। লামিয়া খালেদ নাসের নামে ৩২ বছরের জেদ্দার এক নারী ফুটবল সমর্থক বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে আমরা একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি। আমি গর্বিত যে এই বিশাল পরিবর্তনের আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
জেদ্দার আরেক বাসিন্দা রুয়েদা আলী কাশেম বলেন, এটি রাজ্যের চলমান মৌলিক পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক দিন। বলেন, আমি গর্বিত আর এই উন্নতিতে প্রচণ্ড খুশি। সৌদি সরকার গত সপ্তাহে ঘোষণা করে, নারীরা শনিবার দ্বিতীয় এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় খেলাটিও দেখার সুযোগ পাবেন। শুক্রবারের খেলার পর ফুটবল ক্লাবের তরফ থেকে টুইটারে নারীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার ঐতিহ্যবাহী বোরকার রঙকে দলীয় রঙ হিসেবেও প্রস্তাব করেছেন।
সৌদি আরবে আধুনিকায়নের পথে অগ্রগতির এই পদক্ষেপের দিনে শুক্রবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো নারী ক্রেতাদের জন্য একটি গাড়ির শোরুম উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরের জুনে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে শোরুম থেকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারবেন নারীরা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। চলতি বছরের জুনে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।
সৌদি আরবের রাজপরিবার আর ধর্মীয় রীতি ইসলামের সুন্নি মতের অনুসারী। এতে কঠোর ইসলামি আচরণ ও পোশাক বাধ্যতামূলক। দেশটির অভিভাবকত্ব রীতি অনুযায়ী নারীদের ঘরের বাইরে বেরোতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সাথে যেতে হয়। বেশির ভাগ রেস্তরাঁয় আলাদা দু’টি ভাগ থাকে। একটিতে শুধু পুরুষ আরেকটিতে শুধু নারীদের নিয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। তবে সৌদি আরবে এখনো এমন অনেক বিষয় আছে যা পরিবাবের অনুমতি ছাড়া করতে পারেন না, তার মধ্যে রয়েছে, পাসপোর্টের আবেদন, বাইরে ভ্রমণ, বিয়ে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ব্যবসায় শুরু ও কারাগার ত্যাগ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.