ট্রাম্প-পেন্সের পূর্বপুরুষেরাও ছিলেন অভিবাসী

অভিবাসীদের বিষয়ে দিন দিন কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। অথচ ইতিহাস বলছে, খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি কয়েকটি দেশের অভিবাসীদের বিষয়ে ট্রাম্পের নোংরা ও বিদ্রƒপাত্মক মন্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘খারাপ লোকেরা’ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হচ্ছে বলে মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিপাবলিকান কর্মকর্তারা বারবারই বলেছেন, অভিবাসীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম জগতে অদক্ষ লোক বেড়ে যাচ্ছে।
গত নভেম্বরে ট্রাম্প এক টুইটার পোস্টে বলেছেন, ‘কিছু লোক প্রথমে নিজেরা আসে, এরপর তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে। যাদের মধ্যে থাকতে পারে বাজে লোকও। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিদেশী আত্মীয়দের বিষয়ে ভিসা প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন। গত মাসে নিউ ইয়র্কের সাব ওয়ে স্টেশনে বোমা হামলাকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আকায়েদ নাগরিক পরিবারের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন সেটি প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরো বেশি কঠোর হওয়ার আভাস দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আকায়েদ অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত সন্ত্রাসীর অভিযোগ আদালতে অস্বীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন ইতিহাস বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মায়ে এনজাই বলেছেন, ‘বর্ণবাদী অজ্ঞতা’ থেকে ট্রাম্প অভিবাসীদের বিষয়ে এই অবস্থান নিয়েছেন এবং মার্কিন প্রজন্ম গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। গার্ডিয়ানকে ই-মেইলে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এটি একটি সাধারণ বিষয়। ভালো পরিবেশে যাওয়া কিংবা পরিবারের সাথে থাকতে চাওয়া মানবজীবনেরও একটি সহজাত অনুষঙ্গ।
ট্রাম্প প্রশাসন যাই বলুক, বাস্তবতা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বড় একটি অংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের সন্ধানে এসে স্থায়ী হয়েছিল এসব পরিবার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাবা ও মা উভয় দিক থেকেই অভিবাসীদের উত্তরপুরুষ। ১৮৮৫ সালে ট্রাম্পের দাদা ফ্রাইড্রিক ট্রাম্প ১৬ বছর বয়সে জার্মানি থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ম্যানহাটনে বোন ক্যাথেরিনের কাছে আশ্রয় নেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে জিয়েন্দা ব্লেয়ারের লেখা একটি বইতে উঠে এসেছে এসব তথ্য। বইটিতে ব্লেয়ার লিখেছেন, ফ্রাইড্রিক ট্রাম্প একা যাননি। এক বছর আগে বাগদত্তার সূত্রে তার বড় বোন নিউ ইয়র্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই লোক (বাগদত্তা) আবার এসেছিলেন দুই চাচাতো ভাইয়ের সহযোগিতায়। পরে ট্রাম্পের দাদার আরেক বোন লুইস গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে।
পেশায় একজন নরসুন্দর ফ্রাইড্রিক ১৮৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এক দশক পর আবার জার্মানিতে গিয়ে এলিজাবেথ খ্রিষ্টকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। এই দম্পতির ছেলে ফ্রেডের ঘরেই ১৯৪৬ সালে জন্ম নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্লেয়ারের সেই বইতেই লেখা রয়েছে‘(ট্রাম্পের মা) ম্যাকলিয়ড ১৯৩০ সালে স্কটল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে অভিবাসী হয়ে আসেন। অদক্ষ ও বেকার এই তরুণী অ্যাস্টেরিয়ায় তার বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। মায়ে এনজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের আত্মীয়দের জন্য ভিসা বন্ধের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প নিয়েছেন, তাহলে আজকের দিনে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাইলে পারতেন না।
ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কথারই প্রতিধ্বনী করেছেন। তিনি বলেছন, আমরা চেইন মাইগ্রেশন বন্ধ করতে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে মাইক পেন্সও ইউরোপ থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া একটি পরিবারের উত্তরপুরুষ। ১৯২৩ সালের এপ্রিলে পেন্সের দাদা রিচার্ড কাউলি ২০ বছর বয়সে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আয়ারল্যান্ড থেকে পালিয়ে এসেছিলেন তিনি। চাচাতো ভাই সম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের কাছে উঠেছিলেন তিনি। এর জন্য তাদের টাকা দিতে হয়েছিল কাউলিকে। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। এরপর কাউলি শিকাগো চলে যান। সেখানে তিনি নগর পরিবহন সার্ভিসে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি নেন। বিয়ে করেন ম্যারি ম্যালোনেকে, যার বাবা-মাও আয়ারল্যান্ড থেকে এসে স্থায়ী হয়েছেন আমেরিকাতে। সূত্র : গার্ডিয়ান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.