ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

মহাদেবপুরের মহিষবাথানে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই একমাত্র ভরসা

শহীদুল ইসলাম বদলগাছী (নওগাঁ)

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
নওগাঁর মহাদেবপুর আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী   :নয়া দিগন্ত

নওগাঁর মহাদেবপুর আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী :নয়া দিগন্ত

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত ধান ও চালের ঐতিহ্যবাহী হাট মহিষবাথান। এক সময় নদীপথই ছিল এ হাটে মালামাল আনা-নেয়ার একমাত্র মাধ্যম। সুদূর পোরশা, নিয়মতপুর, পতœীতলা, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ধান, চাল, তরিতরকারীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এ হাটে বেচাকেনার জন্য আনা হয়। এ ছাড়া তিনটি ইউনিয়নের শত শত ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে মহিষবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ে। আশপাশে তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো উচ্চবিদ্যালয় না থাকায় নদীর পূর্বপাড়ে এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালনা, শেরপুর, রোদল, শ্রীরামপুর, ইন্দ্রাই, মেরাসহ সাত-আট গ্রামের ছেলেমেয়েরা মহিষবাথানে আসে। কিন্তু এখানে আসতে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়।
মহিষবাথান ঘাট ২৫-৩০ গ্রামের লোকজনের চলাচলের একমাত্র পথ। এখানকার কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৪০-৪৫ হাজার লোক বসবাস করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এলাকাবাসী। যোগাযোগ ব্যবস্থার এ আধুনিক যুগেও স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও মহিষবাথানে আত্রাই নদী পারাপারে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। এ সাঁকো দিয়েই পারাপার হয় এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালনা, শেরপুর, রোদল, শ্রীরামপুর, ইন্দ্রাই ও মেরা, খাজুর ইউনিয়নের বনগ্রাম, রামচন্দ্রপুর, হেরেমনগর, দেবীপুর, জয়পুর, ডাঙ্গাপাড়া ও রনাইল এবং হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান, গোফানগর, শাবইল, মখইর, বিশ্বনাথপুর, হাতুর, দুর্গাপুর, সোহাসপুর, বিলশিকারীসহ বেশ কিছু গ্রামের ছাত্রছাত্রী ও এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বর্ষাকালে নৌকায় নদী পারাপার হওয়া গেলেও পানি কমার সাথে সাথে প্রায় ২০০ মিটার বাঁশের সাঁকো ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না।
মহাদেবপুর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার উত্তরে অবহেলিত হাতুর ইউনিয়ন। প্রয়োজনের তাগিদে এখানকার লোকজনকে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। শুকনো মওসুমে আত্রাই নদীতে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়। উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য যানবাহন চলাচল উপযোগী কোনো সড়ক না থাকায় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা সদর দূরে হওয়ায় মহিষবাথানে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদরাসা, ব্যাংক, বীমা, এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে।
মহিষবাথান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার জানান, তিনি দীর্ঘ দিন এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, সোনালী ব্যাংক, সরকারি খাদ্য গুদাম ও ১২-১৪টি এনজিও রয়েছে। নদীর ওপারে এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুই থেকে তিন শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যার সময় অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পারাপার হয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসা-যাওয়া করে। তাই এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
এলাকার সচেতন মহল জানান, জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য মহিষবাথান হাটে আত্রাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে হাতুর ইউনিয়নবাসী, এনায়েতপুর ইউনিয়ন ও খাজুর ইউনিয়নের জনগণের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে। সরকারি খাদ্য গুদাম, সোনালী ব্যাংক, বীমা, এনজিও, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী লোকজন ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থে এ জন্য যোগাযোগ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫