ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

বালিয়াডাঙ্গীর তীরনই নদীতে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন

ব্রিজ ও বাঁধ হুমকির মুখে

এ কে আজাদ বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও)

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে বোমা মেশিনের মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে ব্রিজ, রাবার ড্যাম ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার তীরনই ব্রিজের ৫০ মিটার দূরে নদীর মাঝখানে বসানো হয়েছে বোমা মেশিন। সেই মেশিনের মাধ্যমে অনেক গভীর থেকে উঠে আসছে বালুর পাশাপাশি পাথরও। মেশিন পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একজন শ্রমিক হিসেবে সেখানে কাজ করছেন। মেশিনের প্রকৃত মালিক রাণীসংকৈল গ্রামের আব্দুল্লাহ। পরে আব্দুল্লাহ সাথে কথা হলে তিনি জানান, তীরনই নদীর ওই ব্রিজ ঘেঁষে বসবাসকারী স্থানীয় এক বাসিন্দার মাটি ভরাট করতেই বালু তোলা হচ্ছে। এতে পাথর উঠছে না বলে দাবি করেন তিনি। বসতবাড়ী ঘেঁষে একটু ভাটিতে বসানো হয়েছে ৪টি বোমা মেশিন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মেশিন তিনটি বন্ধ করে গা ঢাকা দেন মেশিন মালিকেরা। তবে সেখানে একটি মেশিনের পাশে পাথরের স্তুপ দেখা গেছে।
এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মেশিন ৫টির ৩টির মালিক রুপগঞ্জ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম অপরটির মালিক পাশর্^বতী কুশলডাঙ্গী গ্রামের কমিরুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম। মেশিন ৫টি দিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান, সুযোগ পেলেই তারা পাথর উত্তোলন করতেও ছাড়ছেন না।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি তার জানা নেই। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে তার কথা হয়েছে। তিনি তীরনই নদীর রাবার ড্যাম আর ব্রিজের ৫০০ ফুট দূর থেকে বালু তোলার বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেছেন। এরপরও বিষয়টি দেখার জন্য ঘটনাস্থলে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে উপজেলা কুশলডাঙ্গী, কিসমত পলাশবাড়ীসহ কয়েকটি গ্রামকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোডের আওতায় কুশলডাঙ্গী এলাকার তীরনই নদীর তীরে ব্লক পেসিং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঁধ, কিন্তু গত বন্যায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ্য ওই বাঁধের পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা মেশিন। সেই মেশিন দিয়ে অনেক গভীর থেকে বালুর পাশাপাশি পাথর তুলে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
বোমা মেশিন পরিচালনাকারী দুই শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, বালিয়াডাঙ্গী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঝামাঝি তীরনই নদীতে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি এই মেশিনের মালিক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেশিন মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই নব-নির্মানাধীন ব্রিজের দুই শ’ মিটার দূর থেকে মেশিন বসিয়ে বালু তুলছি। এতে ব্রিজের কোনো সমস্যা হবে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, পাথর নয়, আমি শুধু বালু তুলি।
এ দিকে রুপগঞ্জ পাকা সড়কের পাশে রাণীর বাগানের পাশর্^বতী এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে চলছে মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন। মেশিন মালিক জাহাঙ্গীর জানান, উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে স্থানীয় তীরনই নদীর উপর নব-নির্মানাধীন ব্রিজের রাস্তার চুক্তি নিয়ে ভরাট করছেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় অধিকতর উন্নয়ন এবং ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক রুট হরিণমারী করিডোরের সাথে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরের যোগাযোগের জন্য সড়কসেতু নির্মাণ করছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বালিয়াডাঙ্গী।
বালিয়াডাঙ্গী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) জানায়, ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৯.৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাথসহ ১৮ মিটার প্রস্থের তীরনই সড়ক সেতুতে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট, ৩টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডারের ওপর সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তীরনই সেতুটি আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে তীরনইয়ের নদীর তীরে এক হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ নদী শাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাকা করণের কাজও শুরু হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫