ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুট বন্ধ : ঝুঁঁকি নিয়ে চলছে লঞ্চ ও ট্রলার

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ঘন কূয়াশায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রীবাহী ট্রলার   ;নয়া দিগন্ত

ঘন কূয়াশায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রীবাহী ট্রলার ;নয়া দিগন্ত

ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখছে বড় বড় ফেরি; কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মকানুন না মেনে কুয়াশার মধ্যেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে লঞ্চ ও অনুমোদনহীন ট্রলার শত শত যাত্রী পারাপার করছে। এ ছাড়া কোনো রকম আইনের আওতায় না থাকা ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলোও চলাচল করছে।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাত ৩টায় ধোঁয়াটে কুয়াশায় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের ফেরি চলাচল। শুক্রবার ভোর রাতে আটকে পড়া যাত্রীদের নিয়ে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি মনিহার, এমভি শাপলা ফুল, এমভি নাবিল-৩-সহ অন্য বেশ কয়েকটি লঞ্চ। মাত্র ২৫ মিনিটের পথ দিক হারিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে ঘুরতে থাকে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো বিভিন্ন চরে আটকা পড়ে।
পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীরা জানান, তারা জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে আটকা পড়েন। ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে একটু ঝুঁকি নিয়ে হলেও তারা নদী পারের জন্য লঞ্চে উঠেছেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীত মওসুম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায়ই দীর্ঘ সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। এ সময় আটকে থাকা দিশেহারা যাত্রীরা নদী পার হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে ওঠে ছোট ছোট লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার মালিকেরা। এরা যাত্রীদের মনে সাহস জুগিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী করে তোলে। ব্যকুল যাত্রীরাও ঝুঁকি নিয়ে উঠে পড়ে এসব লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে। ঘন কুয়াশা পড়তে থাকায় অবরুদ্ধ নৌ-রুটে এসব লঞ্চ ও ট্রলার মালিকের আয়ও বেড়ে যায় কয়েক গুণ বলে অনেকেই জানান; কিন্তু ঝুঁকি বিবেচনা করে এসব লঞ্চ ও ট্রলার বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয় না কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট থেকে আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষ পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছেন অনুমোদনবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে। এতে যাত্রী তোলা, চালকের প্রশিক্ষণ, ধারণক্ষমতাসহ কোনো ধরনের আইনকানুন মানা হয় না। অনুমোদিত নৌযান চলাচলে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছুটা নজরদারি থাকলেও এসব ট্রলার দেখার কেউ নেই। এতে করে মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
লঞ্চ এমভি রেজোয়নের মাস্টার (চালক) মো: হাবিবুর রহমানের কাছে কুয়াশার মধ্যে লঞ্চ চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ থাকে তাই বিআইডব্লিউটিএ’র নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মালিকদের সিদ্ধান্তে লঞ্চ চালাই। তবে খুব বেশি কুয়াশা থাকলে লঞ্চ চালানো হয় না। যদি ১০০ গজের মধ্যে দেখা যায় তবেই লঞ্চ ছাড়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাবধানতার সাথে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। তবে অনেক সময় দিক হারিয়েও যায় বলে তিনি স্বীকার করেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অফিসের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ফরিদুল ইসলাম জানান, কুয়াশা অবস্থায় লঞ্চ চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। লঞ্চগুলোর চালক ও মালিক সমিতিকে এভাবেই নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চালালে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া নদীতে যেকোনো সময়ই ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলাচল অবৈধ। বিআইডব্লিউটিএ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে, যাতে নদীতে কোনোভাবেই অনুমোদনহীন নৌযান চলতে না পারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫