ঈশ্বরগঞ্জে খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ

আব্দুল আউয়াল ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ীর রায়ের বাজারে একমাত্র খাল ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলদারদের কবলে পড়ে বিশাল খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ৯ মাস আগে সরকারি এ খাল দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ।
জানা যায়, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজারের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার প্রবাহের পর খালবালা এলাকায় গিয়ে কাঁচামাটিয়া নদীতে মিলিত হয়েছে। খালটি প্রবহমান থাকাকালে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক বাজার ছিল রায়ের বাজার। পাটের বাজারের জন্য বিখ্যাত বাজার হিসেবে পরিচিত এ বাজারে পাট বোঝাই নৌকা রায়ের বাজার থেকে কাঁচামাটিয়ার মিলনস্থল দিয়ে নদীপথে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পাড়ি জমাত। বাজারটি তিন উপজেলার ত্রিমোহনায় অবস্থান করায় ব্যবসার ক্ষেত্রে বাজারটি অনেক জমজমাট। তা ছাড়া খাল দিয়ে পানি প্রবাহ হওয়ার সাথে সাথে বাজারের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উৎস ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক দশকে খালটি পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। দখলের পর খালের ওপর নির্মিত হয়েছে সুউচ্চ ইমারত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রভাবশালীরা খালটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক শুরু করেছে। ফলে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই বাজারের বিভিন্ন এলাকা বন্যার মতো প্লাবিত হয়ে কয়েক সপ্তাহের জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীকে। বর্ষা মওসুমে ওই দুর্ভোগে চরম আকার ধারণ করে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেয়। রায়বাজারে বালিকা বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি জমায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রায়ের বাজারে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে পানিস্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশি সময় লাগে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। খালটি দখলমুক্ত থাকলে পানি নিষ্কাশনসহ প্রয়োজনীয় পানির চাহিদাও মেটাত খালটি। এলাকাবাসীর এ চরম দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় মুুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত বছর মার্চ মাসে লিখিত অভিযোগ করেন কিন্তু এখনো তার কোনো প্রতিকার মেলেনি। খালটি দখলকারীরা দাবি করেছেন তারা খালের জমি লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, পানিপ্রবাহের একমাত্র খাল দখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মওসুমে জমে থাকা পানির সাথে নতুন পানি বাসাবাড়িতে ওঠে। ওই সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধার খবলে পড়ে বাজার। প্রায় সময়ই জলাবদ্ধতায় কাটাতে হয় তাদের।
আঠারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে অল্প অল্প করে খাল দখলদারের খবলে পড়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এ খাল দখলমুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মইনউদ্দিন খন্দকার জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.