প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের ঘোষণা

বিরোধী দলের সাথে আলোচনার পথ তৈরি করুন

চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। সরকারের চার বছর মেয়াদপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপ নিয়ে বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক সঙ্ঘাত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বর্জন করেছিল। এর আগে ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের কারণে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই বিধান তুলে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাষ্ট্রের সব নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজনের আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলও সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দল সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ফলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একইভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ওপর বিরোধী দলের আস্থার অভাবে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য যে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, তাতে বিরোধী দলের আস্থা নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হওয়া এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ভেতরে থেকে কিংবা সংবিধান সংশোধন করে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, তা আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। মনে রাখতে হবে, সংবিধান নাগরিকদের জন্য। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। মানুষের জন্য সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে বলে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয় কিংবা মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, তাহলে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আগামী নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.