ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

এক সপ্তাহে ১২৪ পয়েন্ট হারাল ডিএসই সূচক

যৌথ উদ্যোগে যাচ্ছে বার্জার পেইন্টস

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মাত্র এক সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচকের ১২৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের চারটিতে বাজার সূচকের অবনতি ঘটে। তবে শেষ দিন পতন সামলে আবার ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজারটি। রোববার ছয় হাজার ৩০২ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা ডিএসইএক্স সূচক বৃহস্পতিবার দিনশেষে ছয় হাজার ১৭৯ দশমিক ৩২ পয়েন্টে স্থির হয়। এতে সপ্তাহে সূচকের ১২৩ দশমিক ৫২ পয়েন্ট হারায় সূচকটি। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৪১ দশমিক ৭১ ও ১৬ দশমিক ০৫ পয়েন্ট।
সূচকের সাথে অবনতি ঘটে পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয় দুই হাজার ৭৬ কোটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন ছিল দুই হাজার ২৩১ কোটি ৫০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ অবদান রয়েছে এই খাতে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, পুরো সপ্তাহে ব্যাংক খাতে গড়ে ৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
প্রকৌশল খাতে ১৮ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সপ্তাহজুড়ে গড়ে এই খাতে ৭৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৬ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা অন্য খাতগুলোর মধ্যে জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে ৯ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাতে ৮ শতাংশ, আর্থিক খাতে ৫ শতাংশ, সিমেন্ট, বিবিধ ও খাদ্য খাতে ৪ শতাংশ, ট্যানারি, আইটি ও সেবা-আবাসন খাতে ২ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া বীমা, সিরামিক, মিউচুয়াল ফান্ড ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ১ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে।
অন্য দিকে একই সূত্র অনুসারে বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর কমেছে ১৯ খাতে। অন্য দিকে দর বেড়েছে শুধু সিরামিক খাতে। এই খাতে দশমিক ০৪ শতাংশ দর বেড়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ব্যাংক খাতে। এই খাতে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমেছে। অন্য খাতগুলোর মধ্যে সিমেন্ট খাতে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, খাদ্য খাতে দশমিক ১১ শতাংশ দর কমেছে।
এ ছাড়া জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, জীবনবীমা খাতে ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, আইটি খাতে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ, পাট খাতে দশমিক ৪৯ শতাংশ, বিবিধ খাতে দশমিক ৪২ শতাংশ ও আর্থিক খাতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দর কমেছে। তালিকায় থাকা অন্য খাতগুলোর মধ্যে কাগজ খাতে দশমিক ৪৯ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাতে দশমিক ৩২ শতাংশ, সেবা-আবাসন খাতে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ট্যানারি খাতে দশমিক ৩৩ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশন খাতে দশমিক ৪৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর কমেছে।
এ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ যৌথ কোম্পানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় বিদেশী একটি কোম্পানির সাথে যৌথভাবে এ কোম্পানি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, ফসরক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সাথে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি কোম্পানি করবে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। যৌথ মালিকানা এ কোম্পানির ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বার্জারের। বাকি ৫০ শতাংশের মালিক হবে ফসরক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। কোম্পানিটি অবকাঠামো নির্মাণসামগ্রী, কেমিক্যাল ও প্রযুক্তি নির্মাণ ও বাজারজাত করবে।
প্রসঙ্গত ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বার্জার পেইন্টস লিমিটেড। এই কোম্পানির ৯৫ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণে। বাকি শেয়ারের ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে, ২ দশমিক ০৬ বিদেশী ও দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
কোম্পানিটি সর্বশেষ ১৫ মাসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৬০০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারহোল্ডারদের। একই সময়ে ১৫ মাসে কোম্পানিটির এককভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০৩ টাকা ২০ পয়সা। আগের ১৫ মাসে, যা ছিল ৭৩ টাকা ৭০ পয়সা। আর সমন্বিতভাবে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ১০৯ টাকা। এর আগের ১৫ মাসে যা ছিল ৭৭ টাকা ২০ পয়সা।
কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগের ১৫ মাসে যা ছিল ১৮৬ দশমিক ৫৩ টাকা।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫