ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলি সেনাদের আবারো থাপড়াতে চান ফিলিস্তিনি তরুণী তামিমি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৭:৫৩ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৮:১৬


প্রিন্ট
ইসরাইলি সেনাদের আবারো থাপড়াতে চান ফিলিস্তিনি তরুণী তামিমি

ইসরাইলি সেনাদের আবারো থাপড়াতে চান ফিলিস্তিনি তরুণী তামিমি

ফিলিস্তিনি তরুণী নূর তামিমি প্রতিবাদী এক তরুণী। ইসরাইলি এক সেনাকে চড় মেরে তিনি ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে তার সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ এই কাজ। যেন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেছেন তিনি। জোরে গালে চড় মেরেই তৃপ্ত নন তিনি; তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ থেকে ইসরাইলি সেনাদের আবারো থাপড়াতে চান ফিলিস্তিনি এই তরুণী।

ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে ফিলিস্তিনের রামাল্লায় ইসরাইলের সেনারা মোহাম্মদ তামিমিকে হত্যা করে। শোকবিহ্বল ফিলিস্তিনি তরুণী নূর তামিমি তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ তামিমির বাড়ির উঠানে বসে খবর পেয়েছেন মোহাম্মদকে গুলি করেছে ইসরাইলি সৈন্যরা। মাথায় গুলির আঘাত গুরুতর। মারাও যেতে পারে তার ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইটি।

এর মাঝেই সেই বাড়িতে হানা দেয় কয়েকজন সৈন্য। ছোট ভাইকে গুলি করেছে, আবার এখন এসেছে বাড়িতে অভিযান চালাতে! ইসরাইলি সৈন্যদের দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি নূর। হনহন করে এগিয়ে যান অত্যাধুনিক অস্ত্রধারী সেনা সদস্যদের দিকে। তারপর কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গালে চড় বসিয়ে দেন দুই সৈন্যের! সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে ছোট বোন আহেদ তামিমিও। দুই বোন মিলে বেশ কয়েকবার চপেটাঘাত করেন হানাদারদের মুখে। ঘটনাস্থলে অনেকে ক্যামেরা নিয়ে থাকায় আপাতত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সৈন্যরা।

এই ঘটনার পরপরই নূর, আহেদ এবং আহেদের মাকে গ্রেফতার করা হয়। ইসরাইলি কারাগারে এখনো আহেদ এবং তার মা এখনো আটক থাকলেও ১৬ দিন কারাভোগের পর মুক্ত হয়েছেন নূর তামিমি। ফিলিস্তিনি মিডিয়ার কল্যাণে জাতীয় বীরের সম্মান পাচ্ছেন দুই বোন। তাদের সাহসিকতা নিয়ে রচিত হয়ে গেছে ডজনেরও বেশি গান।

মুক্তি পাওয়ার পর ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ নূরের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তিনি সৈন্যদের গালে চড় মেরেছিলেন। জবাবে ২১ বছরের এ তরুণী বলেন, আমি তাদের আমার বাড়ির আঙিনা থেকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি শাস্তি পাওয়ার মতো কিছু করেছেন বলে মনে করেন কিনা? জবাবে নূর বলেন, না, আমি এ কাজের জন্য মোটেই দুঃখিত বা লজ্জিত নই। তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা করছে। ইসরাইলি সৈন্যরা দখলদার।

সাংবাদিক নূরকে আরো জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি আবার এ রকম করবেন। দৃঢ়কণ্ঠে এই তরুণীর জবাব, আবার যদি তারা হামলা করে, আমি আবারো তাদের থাপড়াবো।

ফিলিস্তিনিদের অশ্রু-রক্তে ইসরাইলিদের বিলাসী অট্টালিকা

ফিলিস্তিনিদের অশ্রু ঝরছে ও রক্তের বন্যা বইছে। বসতবাড়ি-ভিটেমাটি হারিয়ে হচ্ছে শরণার্থী। অথচ ইসরাইলিরা নতুন বসতি গড়ছে। নতুন অট্টালিকায় বিলাসী জীবন যাপন করছে। একপক্ষের আনন্দ আরেক পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি বেদনার সৃষ্টি করেছে।

জেরুসালেম শহরে গত এক বছরে ১৩২টি ফিলিস্তিনি বাড়ি বা ভবন ধ্বংস করেছে ইসরাইল। এ খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-কুদস’।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসব ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ইসরাইলিরা। এর ফলে ২৪০ জন ফিলিস্তিনি সহায়-সম্বল হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন যাদের অর্ধেকই শিশু।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছিল, ইসরাইল ২০১৭ সালে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ৯০০ হেক্টর ফিলিস্তিনি ভূমি অধিগ্রহণ করেছে। নতুন নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের জন্য এসব ফিলিস্তিনি ভূমি জবরদখল করে তেল আবিব।

সংস্থাটি আরো জানায়, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ২০১৭ সালে ইহুদি বসতি নির্মাণের পরিমাণ ২০১৬ সালের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে দখলদার ইসরাইল।

আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে তেলআবিবের পাশে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ।

পশ্চিম তীরে ৪ হাজার নতুন বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরাইল। পশ্চিমতীরের ‘হাইয়ার প্লানিং কাউন্সিল’ এসব বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দেবে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৮২৯টি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের পর ইসরাইল এ পর্যন্ত সেখানে ২৩০টি অবৈধ বসতিস্থাপন করেছে। বসবাস করছে ছয় লাখ ইসরায়েলি।

ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই জেরুসালেমে ১৪ হাজার হাউজিং ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রী যুভ গালান।

জেরুসালেমের উত্তরাঞ্চলীয় আতারোটে পাঁচ হাজার আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। অপর দিকে পিসগ্যাট জেভে এক হাজার, কাটামোনে তিন হাজার এবং রেচেস লাভেনে আরো পাঁচ হাজার বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রামাল্লাহর খুব কাছেই বসতিগুলো নির্মাণ করা হবে। গালান এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার কারণে আমি জেরুসালেমে বসতি নির্মাণকে উন্নত এবং আরো জোরদার করতে চাই।

মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য মন্ত্রীও গালানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন আর কোনো অজুহাতই নেই। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতির পর সেখানে আমাদের বসতি নির্মাণ না করার ক্ষেত্রে আর কোনো কারণই নেই।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংযোগ সড়ক বন্ধ

জেরুসালেম নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম তীরের নাবলুসের সঙ্গে সংযুক্ত প্রধান একটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াফা নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গুলিতে একজন ইসরাইলি সেটেলার নিহত হওয়ার পর ‘হুয়ারা চেকপয়েন্ট’ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় পশ্চিম এবং রামাল্লার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীরা দীর্ঘ ও বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এছাড়াও, ক্রিসমাসের প্রাক্কালেও পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লা ও আল-বিরেহের প্রবেশপথ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতের ওই হত্যার প্রতিশোধ নিতে নাবলুস ও এর পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির পাশাপাশি তেল আবিব থেকে তার দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর থেকে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম ও গাজা স্ট্রিপে বিক্ষোভ ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

তারপর থেকে এপর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ১৩জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তবে, আনঅফিসিয়াল পরিসংখ্যানে নিহতদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে হতে পারে। এছাড়াও, অন্তত ২,৯০০ জন আহত হয়েছে এবং ৪০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫