ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

আন্তর্জাতিক সংস্থা

ওআইসি'র সম্মেলন শুরু : কার্যসূচিতে যা থাকছে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৭:০৪


প্রিন্ট
ওআইসি'র সম্মেলন শুরু : কার্যসূচিতে যা থাকছে

ওআইসি'র সম্মেলন শুরু : কার্যসূচিতে যা থাকছে

ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র ১৩তম সংসদীয় ইউনিয়নের সম্মেলন শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলন শুরুর প্রথম দিকে আজ সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর বৈঠক হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের নানা ইস্যু বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং বেশকিছু রাজনৈতিক ঘটনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।

সম্মেলন আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আবদুর রেজা আজিজি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছেন, সম্মেলনে ৫৪টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ৪৪টি দেশ প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানিয়েছে। এ সম্মেলনে ১৬টি দেশের সংসদ স্পিকার, ১৪টি দেশের ডেপুটি স্পিকার এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের সংসদীয় প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে কথা রয়েছে।

১০ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি রাজধানী তেহরানে আসতে শুরু করেন এবং স্পিকাররা আসবেন আজ সন্ধ্যার দিকে। চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে আগামী বুধবার এ সম্মেলন শেষ হবে।

মিয়ানমারে মানবাধিকার লংঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ওআইসি

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) বলেছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি সর্বোচ্চ মানবিকতা প্রদর্শন করেছে যা বিশ্বে বিরল উদাহরণ। শুক্রবার কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ওআইসি’র ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিটির (আইপিএইচআরসি) চেয়ারপারসন ড. রশিদ আল বালুশি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা দু’দিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এতে আমরা যতটুকু জেনেছি তাতে বোঝা যায়, তাদের ওপর গণহত্যা এবং ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ওআইসির ভাইস চেয়ারম্যান মেড এসকে ক্যাগওয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ড. রাইহানাহ বিনতে আবদুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জমির, আবদুল ওহাব, মাহমুদ মোস্তাফা আফিফি, এডামা নানা, নির্বাহী পরিচালক মার্গোব সেলিম বাট, হাফিদ এল হাসমি, আকমেদ আল গামদি, হাসান আবেদিন, মাহা আকিল, আবদুল্লাহ কাবি ও মোহাম্মদ গালাবাসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে এই প্রতিনিধিদল। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, মানবিক সংকট ও চাহিদাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলটি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ওআইসি প্রতিনিধি দলের এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

ওআইসি’র স্বাধীন স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন এবং মহাসচিবের দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এই প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়। তারা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ওআইসি মহাসচিবের কাছে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া আগামী মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই প্রতিবেদন উত্থাপন করা হবে।

হাজার হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের দেশ থেকে পালিয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ায় মিয়ানমারের মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদ জানাতে প্রাথমিক তথ্য পেতে ৪ দিনের সফরে প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান। শুক্রবার দুপুরে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যায়। কক্সবাজার সফর শেষে প্রতিনিধিদল শনিবার বাংলাদেশ ত্যাগ করবে।

জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা ওআইসির

পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা এবং শান্তি অলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে যাওয়ার ও জেরুসালেম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জোট ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (অরগ্যানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) বা ওআইসি। গতকাল তুরস্কের বাণিজ্যিক নগরী ইস্তাম্বুলে সংস্থার বিশেষ সম্মেলন শেষে প্রকাশিত ইশতেহারে এ ঘোষণা দেয়া হয়। আলজাজিরা, বিবিসি, মিডলইস্ট আই ও আনাদোলু।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এটি। নিজেদের মধ্যকার সব মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে সর্বসম্মত এ ঘোষণা দেয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। চূড়ান্ত ইশতেহারে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষণা করা হয় এবং সব দেশকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ও পূর্ব জেরুসালেমকে এ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে আলকুদস (জেরুসালেম) নগরীকে ইসরাইলের তথাকথিত রাজধানী ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের একতরফা সিদ্ধান্তের কঠোরতম ভাষায় প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করা হয়।

বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত অকার্যকর ও আইনগতভাবে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহাসিক, আইনি, স্বাভাবিক ও জাতীয় অধিকারের ওপর আঘাত। এটি সব শান্তি প্রচেষ্টা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষুণ্ন করা, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদে উসকানি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। এতে ফিলিস্তিন ও পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের (ইসরাইল কর্তৃক) দখলকৃত রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইনের এ ‘ভয়াবহ লঙ্ঘনের’ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে নেয়ারও প্রত্যয় ঘোষণা করে ৫৭টি দেশের এই সংস্থা।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে না এলে এর পরিণতির দায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও ঘোষণায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এর আগে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জোটের এ শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থার বেশির ভাগ সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদও এতে যোগ দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি বলেন, তার দেশের মানুষ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকুক তা চায় না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান আরব রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে ইসরাইলকে তার সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেয়া হবে। অর্থাৎ এত দিন ধরে দুর্নীতি, অবরোধ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া, সহিংসতা, হত্যাসহ যেসব অপরাধ তারা করেছে, তার সব কিছুর বৈধতা পেয়ে যাবে।

৫৭টি দেশের জোটের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বার্তা' দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন আয়োজক দেশ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কিছু আরব দেশ জেরুসালেম ইস্যুতে জোরালোভাবে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বকে এমন এক সঙ্ঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে, যেখান থেকে উদ্ধারের কোনো উপায় থাকবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী এবং তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্ণবাদী ইসরাইলি রাষ্ট্রের। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং একের পর এক তাদের বাসভূমি দখল করে যাচ্ছে ইসরাইল।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫