ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

আমেরিকা

ওবামার ওপর এত ক্রোধ কেন ট্রাম্পের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৬:০৪


প্রিন্ট
ওবামার ওপর এত ক্রোধ কেন ট্রাম্পের

ওবামার ওপর এত ক্রোধ কেন ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ওপর ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়ে  ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার যোগ্য নয় বলে প্রচার করেছিল ডেমোক্রেটিক দল, আর এই প্রচারণায় অন্যতম পুরোধা ছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।  ট্রাম্পও প্রেসিডেন্ট ওবামাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট বলে বর্ণনা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে তিনি বহুদিন ধরে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী থাকাকালীন ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ও বিশ্ব-শক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য এক পরিপূর্ণ বিপর্যয় এবং ওবামা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তিতে পরিণত করেছেন। ওবামা ইরানের সঙ্গে প্রেমময় দয়ার্দ্র আচরণ করেছেন এবং দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তিতে পরিণত করেছেন-আর এসবই করেছেন এ অঞ্চলে ইসরাইলসহ আমাদের অন্য মিত্রদের বিকিয়ে দিয়ে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা অন্য দেশগুলোকে পুনর্গঠন করছি, অথচ দুর্বল করছি নিজ দেশকে।

নির্বাচিত হবার পর  এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন- সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিহত সেনাদের পরিবারকে কখনো সমবেদনা জানাননি। তাদের কখনো ডাকেনও নি। এর কোনো প্রমাণ নেই। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট কোনো নিহত মার্কিন সেনার পরিবারকে ফোন করেননি বা তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযাগও করেন নি। ওবামা বা কোনো প্রেসিডেন্টই নিহত সেনাদের পরিবারকে সান্তনা দিতে সক্ষম নন। তবে আমি তা করতে সক্ষম।

ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, কিউবা সরকারের সাথে প্রায় দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে চুক্তি করেছিলেন সেটি বাতিল করে দেবেন। তিনি বলেন- ওবামার করা চুক্তিটি 'এক তরফা'। কমিউনিস্টদের করা নিগ্রহ দেখে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে থাকবে না। রাজনৈতিক বন্দীদের যতদিন মুক্তি দেয়া না হবে, যতদিন সংসদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্মানিত না হবে, সকল রাজনৈতিক দলকে যতদিন বৈধতা না দেয়া হবে, আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরকে যতদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেয়া হবে, ততদিন কিউবার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে না।

ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণার সময়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট হয়ে ক্ষমতায় আসলে তিনি ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিল করবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম কাজই হবে ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা। ট্রাম্প এই আইনকে ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মার্কিন ওবামার স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যনীতি ‘ওবামা কেয়ার’ বন্ধে পদক্ষেপও নিয়েছেন ট্রাম্প। 

 

সামনের মাসের সম্ভাব্য ব্রিটেন সফর বাতিলের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি চুক্তিতে খেদ থেকে তিনি এই নজিরবিহীন ঘোষণা দিলেন। সরকারিভাবে দিন-তারিখ ঘোষণা না হলেও আগামী ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। ধনকুবের থেকে হোয়াইট হাউসের অধিকর্তা হয়ে ওঠা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ব্রিটেন সফর হতো এটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার  টুইটারে ট্রাম্প তার ব্রিটেন সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়ে এর কারণ হিসেবে ‘ওবামা প্রশাসনের স্বাক্ষরিত’ একটি চুক্তিকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, ‘সামান্য কিছু টাকা’র কারণে ‘লন্ডনের সবচেয়ে ভালো এবং দারুণ জায়গায়’ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের জমি বেচে অন্য দিকে স্থানান্তর করেছেন ওবামা।

টুইটে বলা হয়, ‘আমি লন্ডন সফর বাতিল করেছি, কারণ আমি ওবামা প্রশাসনের অন্ধ ভক্ত নই- যারা কিনা সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে লন্ডনের সবচেয়ে ভালো ও দারুণ জায়গায় দূতাবাসের জমি বেচে দুর্গম একটি এলাকায় নিয়ে গেছে। ১২০ কোটি ডলারের এ চুক্তি খুবই বাজে। আমাকে দিয়ে ফিতা (নতুন দূতাবাসে) কাটাতে চেয়েছিল- কখনোই না!’

তবে সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টির ওবামাকে দুষলেও দূতাবাস সরানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার দলীয় উত্তরসূরী অর্থাৎ রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়াদের শেষ দিকে। আগের ভবনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামোগত অগ্রগতি সাধন করা যাচ্ছিলো না বিধায় দূতাবাস সরানোর এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয় সেসময়।

অবশ্য ব্রিটেন সফর বাতিলের পেছনে ‘অন্য কোনো কারণ’ আছে কি-না, সেটাও বিশ্লেষণ করছে সংবাদমাধ্যম। কারণ গত নভেম্বরে ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক তিনটি পোস্ট দেওয়া হলে এর কড়া সমালোচনা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।

জবাবে ট্রাম্প বিবাদে জড়িয়ে যান একসময়ের সবচেয়ে বড় ‘মিত্র’ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে। তিনি সেসময় তেরেসাকে বলেন, ‘তেরেসা মে! আমার দিকে নয়, ধ্বংসাত্মক ইসলামী সন্ত্রাসবাদের দিকে মনোযোগ দিন, যেটা যুক্তরাজ্যে চলছে।’

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫