ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

ইউরোপ

অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি জার্মানির

ইন্ডিপেন্ডেন্ট

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৩:৩৪


প্রিন্ট
অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি জার্মানির

অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি জার্মানির

উদ্বাস্তু আশ্রয়ের বিষয়ে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করতে যাচ্ছে জার্মানি। এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশটি প্রতি বছর সর্বোচ্চ দুই লাখ উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেবে। আর এতে প্রাধান্য পাবে আশ্রয় পাওয়া উদ্বাস্তুদের পরিবারের সদস্যরা।

নতুন নীতিতে ইতোমধ্যে সম্মত হয়েছে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেলের কনজারভেটিভ পার্টি ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এটি পাস হলে বর্তমানে জার্মানিতে উদ্বাস্তু হিসেবে আছে এমন পরিবারগুলোর সদস্যরা আসতে পারবে মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার। এ দিকে জার্মানিতে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে একটি জোট সরকার গঠন আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উদ্বাস্তু নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাবটিতে আরো বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বাস্তুবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী চুক্তি মোতাবেক ইতালি ও গ্রিস থেকে জার্মানি যে পরিমাণ উদ্বাস্তু গ্রহণ করেছে তত পরিমাণ কমানো হবে সরাসরি উদ্বাস্তু গ্রহণ পরিকল্পনা থেকে। নতুন এই নীতিতে জার্মানিতে আসার আগে বিয়ে করেছেন এমন উদ্বাস্তুদের স্ত্রী-সন্ত্রানেরা, একক লোকদের মধ্যে যাদের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা নেই এবং শিগগিরই যাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই তারা বিবেচিত হবেন। এএফপির হাতে আসা ওই খসড়ার একটি কপিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন উদ্বাস্তুদের সংখ্যা কিছুতেই প্রতি বছর ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার অতিক্রম করবে না’।

জোট সরকার গঠনে অগ্রগতি
নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জার্মানিতে অ্যাঞ্জেলা মারকেলের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও বর্তমান সরকারে তাদের মিত্র সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনার পর উভয় দল অভিবাসন নীতিসহ বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

গত সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে মারকেলের সিডিইউ ও তাদের বাভারিয়ার প্রাদেশিক মিত্র সিএসইউ মিলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর বিভিন্ন দলের সাথে জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করেন মারকেল। জোট সরকার গঠন সম্ভব না হলে দেশটিতে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

অভিবাসী কর্মসূচি বাতিলের ওপর মার্কিন বিচারকের নিষেধাজ্ঞা

এএফপি, রয়টার্স ও এনআরবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলের একটি অভিবাসী কর্মসূচি বাতিল করা প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর দেশটির একজন বিচারক গত মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সান ফ্রানসিস্কো-ভিত্তিক বিচারক উইলিয়াম অলসুপ ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডিএসিএ) কর্মসূচি পুনর্বহালে ট্রাম্পের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৪৯ পাতার রুলিং জারি করেন। উচ্চ আদালতে তার নিদের্শনা বাতিল না করা পর্যন্ত ডিএসিএ’র আগের সুযোগ গ্রহণকারীরা নবায়ন আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কর্মসূচিটি আবারো চালু করে সরকার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এ নিয়ে ৯ জানুয়ারি গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শৈশবে বাবা-মায়ের সাথে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউজ। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন। এ কর্মসূচির দাফতরিক নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান ৮ লক্ষাধিক তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য রুল জারি করেছে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি উইলিয়াম আলসুপ বলেন, যেহেতু মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সে েেত্র অবশ্যই এই কর্মসূচি বহাল রাখতে হবে। রুলে বলা হয়, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আগে কখনো সুরা পাননি তাদের কাছ থেকে নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চালানোর দরকার নেই। তবে যারা আগে এই কর্মসূচির আওতায় সুরতি ছিলেন তাদের আবেদন নবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি উইলিয়াম। এই রুলের কারণে ট্রাম্প ও কংগ্রেসীয় নেতাদের মধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে আলোচনার বিষয়টি জটিল হয়ে পড়তে পারে।

এ দিকে ৮ লক্ষাধিক ড্রিমারসহ সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীর ভাগ্য নির্ধারণী বিল নিয়ে ৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্চের প্রথম শেষ সপ্তাহেই (ডিএসিএ) কর্মসূচি বাতিল হয়ে যাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ নির্বাহী আদেশে। এটি অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসকে তাগিদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। কংগ্রেস যদি এসব তরুণ-তরুণীর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে একটি বিল পাস করে তাহলে ট্রাম্প আপত্তি জানাবেন না বলেও ঐ বিশেষ আদেশ প্রদানের সময় উল্লেখ করেছেন।

তবে এর বাইরে আরো প্রায় সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা প্রদানের কোনো আগ্রহই ছিল না ট্রাম্পের। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের অনুমোদনের আগে অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানদের অকুণ্ঠ সমর্থনের শর্ত দিয়েছেন। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই সেই অন্তর্বর্তীকালিন বাজেট বিল পাস করতে হবে, অন্যথায় ফেডারেল সরকারের কাজকর্ম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। এমন অবস্থায় কংগ্রেসের উভয়কক্ষের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের হোয়াইট হাউজে ডেকে এই বৈঠকে বসেন।

প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে উভয় দলের ২৪ জনের মত নেতা ছিলেন এ বৈঠকে। এ সময় ট্রাম্প বিশেষভাবে আরো বলেন, ‘অভিবাসন ইস্যুতে আমার এমন নমনীয়ভাবকে অনেক সমর্থকই মেনে নিতে পারবে না। আমি এটি ভালো করেই জানি। তবুও বৃহত্তর স্বার্থে সবকিছু করতে চাই।’
উল্লেখ্য, গত জাতীয় নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিবাসন-বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহনের আগ্রহও ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে বসবাসরতদের গ্রেফতার অভিযানও জোরদার করেছেন। এমনি অবস্থায় নিজ উদ্যোগে হোয়াইট হাউজে উভয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের ডেকে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথা বলার ঘটনায় সমগ্র কমিউনিটিতে স্বস্তি নেমে এসেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫