ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

আরো খবর

ভাঙ্গায় শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত নিহত ২, অন্যান্য স্থানে ৩ জনের মৃত্যু

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:৫৩


প্রিন্ট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের গাড়ি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হন। দেশের অন্যান্য স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো তিনজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া নামক স্থানে শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের ব্যবহত মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (নির্মাণকাজের প্রতিবন্ধকের সাথে ধাক্কা লেগে) ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছে মাইক্রোবাসের চালক ভোলা জেলার কালুপুর থানার সোনাডগি গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন (৩৭) ও শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের সহযোগী ঢাকা মিরপুরের জোনাকী পূর্ব আহম্মদ নগরের আবুল হোসেনের ছেলে ওয়াহিদ সুজাত (৩৮)। আহতরা হচেছন নকুল কুমার বিশ্বাসের সহযোগী নিমাই (৩১) ও দীপক (৩৮)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ঘন কুয়াশার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগণ প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্বার করে।
মাদারীপুর থেকে সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুরের কালকিনিতে গতকাল সকালে সার্বিক পরিবহনের একটি বাস এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়ে গেলে কাজী হাফিজ (৫২) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হন কমপক্ষে আরো ১২ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন কিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি উপজেলা সদরের ডাকবাংলার মোড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে উপজেলার লালব্রিজ নামক স্থানে একটি সাইকেলআরোহী শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবহনটি পুরোপুরি খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশের সহযোগিতায় গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস এসে যাত্রীদের উদ্ধার করে।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের পাশে বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় গতকাল একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় জাহিদ হাসান মুরাদ (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতের বাড়ি বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায়। তিনি একজন নির্মাণশ্রমিক। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বগুড়া থেকে রংপুরগামী একটি পিকনিক দলের বাস টিএমএস সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সিএনজি নিতে থামে। গ্যাস নেয়ার সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে দাঁড়িয়েছিলেন। একই সময় রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সও সেখানে সিএনজি নিতে আসে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাউন্টারে মূল্য পরিশোধ করার সময় অ্যাম্বুলেন্সটির হেলপার সেটি চালু করার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফিলিং স্টেশন চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকনিক দলের সদস্যদের ধাক্কা দেয়। পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার সাদেককে (২৫) গ্রেফতার করেছে।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটাঙ্গরে গতকাল সকালে পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় এককজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম ফজর আলী। তার বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলায়। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি আছাবুর রহমান জানান, কালিহাতী উপজেলার ধলাটাঙ্গরে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস পেছন দিক থেকে সামনের একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক ফজর আলী নিহত হন। আহত হন পাঁচজন।
এ ছাড়া একই এলাকায় ঢাকাগামী একটি টমেটো ভর্তি ট্রাক অপর একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় আহত হন তিনজন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে চলে গাড়ি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫