ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

বগুড়ার দই

১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০৬:৪৪


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে বগুড়ার দই সম্পর্কে । কিছুটা পরিবর্তন তো হয়েছেই, তবু এখনো বগুড়া নামের সাথে ‘বগুড়ার দই’ নামটা খুুুব ঘনিষ্ঠভাবে লেগে রয়েছে। বগুড়া সদর ও শেরপুর উপজেলায় এ ধরনের
দই বেশি তৈরি করা হয়। লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়

প্রাচীনকালে বগুড়ার পতিত তৃণভূমিগুলো ছিল অন্যতম গোচারণ ভূমি। কেননা, শুষ্ক মওসুমে উত্তরবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই চাষকাজে ব্যবহৃত গবাদিপশুকে রাখার জন্য লোকালয় থেকে দূরে ক্ষেতখামারে বড় বড় চালা গড়ে তোলা হতো। এগুলোকে বলা হতো বাথান বা ভাওয়া। অস্থায়ীভাবে শুধু নির্দিষ্ট একটা মওসুমে চাষবাসের জন্য চাষি ও রাখালেরা সেসব বাথানে পড়ে থাকত। বাথান বা ভাওয়ায় বসে রাখাল বা চাষিরা যে গান গাইত সে গানকে বলা হতো ভাওয়াইয়া। উন্মুক্ত তৃণভূমিতে গরু-মোষেরা পাল বেঁধে চড়ে বেড়াত আর দুধ দিত। সেসব দুধ দিয়ে কী করা যায়? তাই বাথানের আশপাশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল দুধ থেকে দই বানানোর কারখানা। তৈরি হতে লাগল দই। বাথানের চাষিরা দুধ দোহানোর পর তা জ্বাল দিয়ে ঘন করতে করতে প্রায় চার ভাগের এক ভাগে নিয়ে আসত। ফলে সেসব দই এক অর্থে ক্ষীরের মতোই হয়ে উঠত। তাই দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বগুড়ার দই খেতে খুব ভালো লাগত। সেসব দই এতটাই সুস্বাদু ছিল যে বগুড়ার বাথান এলাকার দই ধীরে ধীরে ‘বগুড়ার দই’ নামে সারা দেশে পরিচিত হয়ে উঠল। ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল ক্রেতা। তাই পরে বাথান এলাকা ছেড়ে বাণিজ্যিকভাবেই ময়রারা তৈরি করতে শুরু করল বগুড়ার দই। এখনো বগুড়ার ময়রারা বগুড়ার দইয়ের সে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছে। কিছুটা পরিবর্তন তো হয়েছেই, তবু এখনো বগুড়া নামের সাথে ‘বগুড়ার দই’ নামটা খুুুব ঘনিষ্ঠভাবে লেগে রয়েছে। বগুড়া সদর ও শেরপুর উপজেলায় এ ধরনের দই বেশি তৈরি করা হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আসার পথে বেশ কিছু হাইওয়ে রেস্তোরাঁয় এসব দই বিক্রি হয়। তবে শুধু বগুড়ার দই নয়, দেশের অনেক জায়গাতেই দইয়ের বেশ সুনাম ও নামডাক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বরিশালের ‘গৌরনদীর দই’, ফরিদপুর মধুখালীর ‘বাগাটের দই’ ইত্যাদি বেশ নামকরা দই। খাঁটি গরু বা মোষের দুধ থেকে যে দই তৈরি করা হয়, তার স্বাদ ভালো। ইদানীং গরু ও দুধের স্বল্পতার কারণে অনেক জায়গাতেই গুঁড়ো দুধ দিয়ে দই বানানো হচ্ছে। দই খাওয়ার রেওয়াজ সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠানে ও নানা রকম লৌকিক আপ্যায়নে। ছোট গ্লাস দই থেকে শুরু করে পনেরো-বিশ কেজি পাতিলের দই পর্যন্ত আছে। তবে এক ও দুই কেজি ওজনের সানকি বা মালসা দইয়ের চল বেশি। প্রধানত দু’প্রকারের দই এ দেশে তৈরি হয়Ñ টক ও মিষ্টি দই। টকদই বিভিন্ন রান্নাকে সুস্বাদু করতে ও ঘোল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫