ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

বিবিধ

বাপা’র সম্মেলনে বক্তারা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৮:৫৫


প্রিন্ট

বিদেশী পরামর্শক ও প্রকল্প নির্ভর পরিকল্পনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যর্থ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি কি প্রাধান্য দিতে হবে।

‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন’ রাজনীতিবিদ, পরিবেশ বিশেজ্ঞরা এ দাবি করেন।

আজ শুক্রবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সম্মেলন পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) উদ্যোগে এবং দেশের প্রথিতযশা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও জাতীয় পেশাজীবি, সামাজিক সংগঠন এবং ৩৮টি বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রখ্যাত বেসরকারি সামাজিক আন্দোলনের সহযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদের সভাপত্বিতে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মো: আব্দুল মতিন এবং সহ-সভাপতি বাপা ও বেন এর বৈশ্বিক সমন্বয়ক ড. নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অধিবেশনের সঞ্চালনা ও ধন্যবাদ বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্ততি পরিষদের সদস্য সচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল বাংলাদেশে। আমরাই তা ধ্বংস করেছি। আমাদের উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার ফলে আমরা প্রকৃতি বিরোধী অবকাঠামো তৈরি করেছি। প্রকৃতি বিরোধী এই অবকাঠামো সাময়িক সমস্যার সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ নয়, সহ-অবস্থান করতে হবে। আর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমাদের স্থানীয় জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে।

ড. এম ফিরোজ আহম্মদ বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধ্বসের জন্য শুধুই প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়, মনুষ্যসৃষ্ট কারণও এই প্রাকৃতি দুর্যোগযোগগুলোকে আরো ভয়াবহ করছে। আমাদের ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গঠন, বৃষ্টিপাতের ধরনের সাথে অন্যান্য দেশের অবস্থা এক নয় বিধায় পরিকল্পনায় অন্য দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য যথাযথ নয়। বিগত দিনগুলোতে আমাদের পরিবেশ বিরোধী ভ্রান্ত বিদেশী পরামর্শে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বর্তমানে বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্প জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে উন্নয়ন ও পরিকল্পনায়।

আব্দুল মতিন বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, ভৌগলিক অবস্থান থেকে সুস্পষ্ট ধারনাবিহীন বিদেশী পরামর্শক ও তাদের করা প্রকল্প এদেশের প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান দেয়নি, বরং সমস্যার বৃদ্ধি করেছে বহুগুণে। ধ্বংস করেছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীবন-জীবিকা। আমরা বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সক্ষমতার উপর পূর্ণ আস্থাশীল এবং বিশ্বাস করি বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধ্বস মোকাবেলার জন্য তাদের গবেষণা ও স্থানীয় জ্ঞান সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োগ করতে হবে।

ইকবাল হাবিব বলেন, ভবিষ্যত বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের উদাহরণ। স্থানীয় মানুষের জ্ঞান বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণের সমন্বয়ে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব। তাই সমস্যার পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে বাপা, বেনসহ দেশের সব শ্রেণির পেশার মানুষদের নিয়ে কাজ করা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

সম্মেলনে আজ ১০টি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, দুটি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক বদরুল ইমামসহ বাপা, বেন, সহ-আয়োজকবৃন্দের সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি, পেশাজীবি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবা, গণমাধ্যম সদস্য ও পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ চার শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

আজ শনিবার দু’দিনের এ সম্মেলনের শেষ দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আরো পাঁচটি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, দু’টি সাধারণ অধিবেশন, একটি কৌশলগত অধিবেশন ও বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হবে।

উল্লেখ্য যে, দু’দিনব্যাপী সম্মেলনে মোট বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ৭০টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের উপর সামাজিক উপস্থাপনা রয়েছে প্রায় ২০টি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫