ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

মতামত

দুই হাজার আঠারো নিয়ে ভাবনা

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৭:৪১


প্রিন্ট
দুই হাজার আঠারো নিয়ে ভাবনা

দুই হাজার আঠারো নিয়ে ভাবনা

দুই হাজার সতেরো চলে গেল। আঠারোর অভিষেক হলো। সুস্বাগতম ২০১৮। সোমবার দিয়ে এই পঞ্জিকাবর্ষের মহরত। শুভ মহরতে অবশ্যই আশা-প্রত্যাশা সবার- নতুন বছরটি যেন মঙ্গলময় হয়। সবাই জানে অসম্ভব ঘটনাবহুল ছিল ১৭ সাল। ১৮ তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে, ৩৬৫ দিনের পর, আট হাজার ৭০০ ঘণ্টার ঘনঘটা সাঙ্গ করে সেও প্রস্থান করবে, সে সময় ১৯ এসে পাতবে সংসার। কিন্তু এই যে নিত্য চলে যাওয়া-আসা, দেখার বিষয়; রেখেই যাওয়া যে কালের কপোলতলে কী রেখে গেল বা যাবে এইসব পঞ্জিকাবর্ষ প্রবরেরা? সমাজ সংসার দেশ ও দুনিয়ার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে কী জমবে বা কেমন দাঁড়াবে তার যোগ-বিয়োগের জমা খরচের জের? 

প্রাকৃতিক, জাগতিক ও বৈষয়িক নিয়মে সময়ের সিঁড়ি বেয়ে পুরাতন করবে নতুন বছরে পদার্পণ। প্রতিদিনের সূর্যোদয় যে নতুন একটি দিন উপস্থাপন করে, সে তো পুরাতনকে নতুনের মাঝে নতুন সাজে নতুন উদ্দীপনা-উদ্ভাবনারই উপস্থাপন। একেকটি দিনকে যেমন শনাক্ত করা চলে অন্য আরেকটি দিনের ঘটনার সংঘটন দেখে, চেনা যায় নতুন নতুন বিষয়ের আগমনে। বৈচিত্র্য আছে বলেই সময়ের গহ্বর থেকে পুরাতন নতুন হয়ে ওঠে, মনে প্রাণে অনুভবে জাগায় দোলা, বাড়ে আকর্ষণ। সবাই অপেক্ষা করে থাকে কখন নতুন আসবে। নতুনকে আহ্বান জানিয়ে, নতুনকে বরণ করতে মানুষের সাথে প্রকৃতিও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

পৃথিবীর আর ১০টা দেশের মতো ২০১৭ বাংলাদেশেও অবশ্যই ছিল ঘটনাবহুল। এ বছরে মানবিক বিপর্যয়, মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের ভাণ্ডারে অনেক বিস্ময়, বৈপরীত্য ও বিতর্ক তুলনামূলকভাবে যেন বেশিই ঘটেছে, জমেছে। মার্কিন মুলুকে নতুনমাত্রার মাতবরের অবিশ্বাস্য উত্থান, বাংলাদেশে বড় দু’টি বন্যা, মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয়ে আপতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ, বিশ্বের সেরা গরান বন; বাংলাদেশের সুন্দরবনকে দিতে হচ্ছে সইতে হচ্ছে হবে তরল গরল রাসায়নিক কয়লার জাহাজডুবির খেসারত। ১৭ তে অনেক মৃত্যুÑ সব্যসাচী লেখক, শিল্পী, সদা সৃজনশীল মেয়র, বর্ষীয়ান নেতা।

২০১৭ তে প্রতিষ্ঠিত অনেক সত্য, সার্বিক সুন্দর ও স্বাভাবিকের বাইরে ঘটেছে অনেক কিছুই। ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অব্যাহত অভিযাত্রা যেমন ছিল, অর্থনীতি ও রাজনীতিও তেমন প্রত্যক্ষ করেছে পটপরিবর্তনের নানান আকার-ইঙ্গিত। সংক্ষুব্ধ উত্তাল উদ্দামের উম্মীলন সহসা স্তিমিত হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত বলয়ে চলে গিয়েছে, যেমন বড় ঝড়ের পরে নেতিয়ে পড়ে প্রকৃতি। সে কি ক্লান্ত হয়ে, শ্রান্ত হয়ে না কোন সে জাদুবলে? নিশ্চয়ই না। তবে সেটি কি বৃহত্তর ব্যর্থতার মরা কটালে বন্দী না অন্য কিছু। হয়তোবা সেটি একটি দূরবর্তী মন্দার আভাষ দিয়ে, নি¤œ চাপের আগে তাপমাত্রায় যেমন ঘটে, অস্থিরমতিত্বের প্রভাব কিংবা ভালোভাবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভা উদগীরণের মতো নব উদ্দ্যমের সর্বনাশের সংগঠনের প্রেরণা।

২০১৮’র জন্য ২০১৭ বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনৈতিক জীবনে এই সত্যের ও তত্ত্বের জানান দিয়ে গিয়েছেÑ অর্থনীতি রাজনীতিকে ও দৈনন্দিন জীবনযাপন বা অবলম্বনের বাস্তবতা তথাকথিত আবেগকে টপকে যাওয়ার পথ ধরেছে। অন্যের গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধারের সাথে সব সময় থাকতে এখন দ্বিধান্বিত আমজনতা। যে আমজনতার কল্যাণের কথা বলে বার বার তাদের মাড়িয়ে সিঁড়ি ভাঙা হয়েছে, এখন সে প্রবোধ ও উৎসাহে ভাটা পড়তে শুরু করেছে। সুদূর ইতিহাসের আবেগ ও চেতনা বর্তমানের বিড়ম্বনাময় অর্থনৈতিক জীবন-সংগ্রামে মন্ত্রতন্ত্র হিসেবে যান্ত্রিক জীবনে যে আবেগ সৃষ্টি করতে চেয়েছে, নানান খিস্তি খেউড়ে তা অপাঙ্ক্তেয় নিস্পৃহভাবতার বলয়ে, সেসব বিব্রতকর ব্যস্ত সমস্ত জীবন ও তার কর্মপ্রক্রিয়ার প্রহরে। বিস্ময়ের পর বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটেছে সমাজে। অন্তত, শতাধিক সাজানো বানানো ঘটনা এসেছে আকস্মিকতায় বিব্রতকর পরিস্থিতিকে ধামাচাপা দিতে, সংবছরে জাতীয় দৈনিকে লাল অক্ষরের যত শিরোনাম হয়েছে, সেগুলোর পর্যালোচনায় দেখা গেছে অবারিত অশান্তি, সঙ্ঘাত, সংক্ষুব্ধতা, বড় দাগের দুর্নীতি, খেলাপি ঋণ, ব্যাংকের জবরদখল, অর্থ আত্মসাৎ অপব্যয় অপচয়ে তহবিল তছরুপের অন্তর্ঘাতে রয়েছে অর্থনীতি। ফুরসত মেলার পথ পেয়েও যেন পায়নি পুরাতন ঘটনায় মনোনিবেশের।

অর্থনীতিতে এমন সব বিস্ময়কর উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করেছে সবাইÑ যা প্রথাগত, প্রতিষ্ঠানগত, প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনের বাইরে ঘটেছে। বস্তুত, বিশ্বাস ও আস্থায় ফাটল ধরেছে ১৭ তে সবচেয়ে বেশি। নানা পথ পদ্ধতিতে অর্থের চোরাচালান বেড়েছে। স্বর্ণ জব্দের জম্পেস বছর ছিল এটি। বিদেশে পুঁজির উড়াল ঘটেছে এবারে বেশি। দেশে দক্ষ জনবলের সঙ্কট দেখিয়ে বিদেশী বুদ্ধিদাতার কর্মসংস্থান হয়েছে বেশি বেকারের ভারে ন্যুব্জ এই অর্থনীতিতে। দেশী পুঁজিবাজারে অবশ্য সচেতন সতর্কতা বেড়েছে বেশি। স্থিতিশীলতা কিছুটা হলেও পুঁজিবাজারে এসেছে এ বছর। তাদের নিয়ে খোঁজখবর সমালোচনাও হয়েছে বেশি। ব্যক্তিখাতে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ বাড়তির পথে তো নয়ই বরং সনাতন সামর্থ্য ও ধ্রুপদ পুঁজির অস্তিত্ব রক্ষার ধারণা হোঁচট খেয়েছে বারবার। বারবার চাঙ্গা হতে চেয়ে হতে পারেনি পুরোপুরি পুঁজিবাজার। যদিও ঘাপটি মেরে বসেছিল প্রথাগত ষড়যন্ত্র।

কথিত ইনক্লুসিভ মনিটরি পলিসিগুলো সুশীল শব্দের সৌকর্যে ঐশ্বর্যে ভরপুর থাকলেও বিদায়ী বছরে বাস্তবায়নে সেখানে যেন ‘কেউ কোনো কথা রাখেনি’। নিজস্ব নিয়মে যে যা পেরেছে সামাল দিতে চেষ্টা করেছে ঘাটতির, তারল্য সঙ্কোচনের। আবার সেই অস্বাভাবিক অবস্থাকে স্বাভাবিকের তকমা পরিয়ে সাফল্য হিসেবে দেখার ভান করেছে অনেকে। নতুন করে চিন্তা-চৌবাচ্চার জন্ম হয়েছে বাম ও প্রচণ্ডভাবে ডানপন্থী অর্থনৈতিক অনুশীলন সমিতির সম্মুখযাত্রায়। বিস্মিত হয়েছে সবাই। পাবলিক মানি মোটা দাগে উৎপাদন-অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও ব্যয়ে অব্যাহত থাকার বছর ছিল ২০১৭।

যে প্রেক্ষাপটে ২০১৮ এসেছে, তাতে কেমন ধারা সূচিত হবে দেশ সমাজ ও অর্থনীতিতে? নিকট ও দূরের দিনগুলোর দিকে তাকাতেই হয়। ব্যাংকের তারল্যে ও তদউৎসারিত সঙ্কট একদিকে ঋণপ্রবাহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেমন, অপর দিকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের বলয়ে বন্দী হয়েছে অতি অলস তারল্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অস্বাভাবিক স্ফিতি যেমন অর্থনীতির রক্তে শর্করা বৃদ্ধির আলামত হিসেবে থাকছে, অর্থনৈতিক স্থবিরতায় এই অর্থের প্রায়োগিক প্রতিদান বা প্রতিফল বিপরীত কোনো অভিঘাত সৃষ্টি হয় কি না তা দেখার বিষয় থেকে যাচ্ছে। কী এক টেকনিক্যাল ভেদবুদ্ধি বাতলে দেশের বিদেশী মুদ্রার তহবিলের টাকা নিয়ে গেছে বিদেশী বাটপারেরা।

সে টাকা উদ্ধারে নানা চেষ্টা চলমান আছে। বড় বড় বন্যার এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় চাল রফতানির বছরেই বেড়েছিল চাল আমদানিও। সেই চালের হিসাব তামিল করা হয়েছে কি না, চালের সম্মানজনক প্রবেশ ঘটেছে কি না, তা দেখভালের অবকাশ অনুভূত হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারির আমদানির সাথে উৎপাদনশীলতা উৎপাদন উৎপ্রেক্ষার মেলবন্ধন ঘটার আবশ্যকতা অনিবার্য। এভাবে-সেভাবে পুঁজি পাচারের দুর্ভাবনা নতুন বছরের মাথাব্যথা হিসেবে বিদ্যমান থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য যা সহজাত, অ-আমদানিজাত তার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্য সহনীয় রয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে, যদি প্রকৃতি সদয় থাকে। স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যদ্রব্যমূল্যের ঘোড়াকে পোষ মানাতে পারবে, কিন্তু আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দর ও দাম পড়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তার দাম কমার নাম যদি না থাকে তাহলে এটি এক ধরনের অ্যালার্জি হিসেবে গাত্রদাহের কারণ হবে। তেল বা জ্বালানি খাতের এমন কিছু উপাদান উৎপাদনে এবং তার সামষ্টিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে সামষ্টিক উৎপাদনশীলতা ও ব্যক্তি বিনিয়োগের আগ্রহ, সামর্থ্য ইত্যাদি। এটি ধরে রাখতে না পারলে বেপথে চলে যাবে মহার্ঘ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ে আমদানি করা সামগ্রী অন্যের সংসারে। ফিসক্যাল পলিসি কাগজকলমে নয়, বাস্তবে তার সদয় উপস্থিতি আবশ্যক হবে, অনিবার্য হবে তার সঠিক প্রয়োগ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে এই আশায় এ খাতে ভর্তুকির নামে অব্যাহত অপচয় অপ্রতিরোধ্য হতে পারে, গজিয়ে ওঠা বিশেষ শিল্প পরিবারের কাছে এ খাত জিম্মি হতে অনিচ্ছুক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বাংলাদেশের ভূরাজনীতি নতুন বলয়ে প্রবেশ করছে। পূর্ব দিকে তাকানোর নীতি ‘তাকানো’ ও ‘দেখা’র মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে না পারলে কিংবা ’শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ জাতীয় দোটানায় বুঁদ হয়ে থাকলে ১৭ তে সৃজিত ব্যবসাবাণিজ্য বিনিয়োগ সহযোগিতা-সহায়তার সংসারে বাড়াভাতে ছাই পড়তে পারে। বিদেশী বিনিয়োগ নানা কলাকৌশলে যাতে এ দেশের বাজারকে কুক্ষীগত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার পথে না থাকে সে ব্যাপারে নিজেদের মনোভঙ্গি অবশ্যই সতেজ ও সজীব হওয়ার অবকাশ থাকবে। আত্মস্বার্থ দেখার চেতনা শানিত ও জাগ্রত থাকার আবশ্যকতা আরো বৃদ্ধি পাবে দেশীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রশ্নে।

১৭ কেন ১৬ থেকেই রাজস্ব আহরণে টান টান উত্তেজনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে অনেক যৌক্তিক কারণে। উদ্যোগ উদ্দমের কাটতি ঘাটতি না থাকলেও কাক্সিক্ষত বাঞ্ছিত পর্বে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নানা উপায়ে রাজস্ব ফাঁকি, এড়িয়ে চলা, অদক্ষতা অপারগতাকে দোষারোপ অব্যাহত ছিল ১৭ তে। ভ্যাট আইন প্রবর্তন নিয়ে যত বাক্যব্যয় ঘটেছে তাতে অর্থনীতিতে ভ্যালু অ্যাড হয়নি তেমন কিছুই। শুধু ১৮ নয় ১৯ অবধি চলবে এ প্রয়াসের অগ্নিপরীক্ষা। এ বছরে মাঝপথে পাবলিক মানি ব্যয়ে যোগ হবে নতুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিতর্ক বিবেচনা ও বাস্তবায়নের চাপ।

পরস্পর প্রযুক্ত অর্থনৈতিক জীবনযাত্রাকে নির্মল নিষ্কলুষ নির্বাধ ও নিরপেক্ষকরণের প্রয়াস চলছে। কিন্তু কোথায় যেন বিশেষ প্রত্যয়ের অভাব অনুভব হওয়ার সুবাদে সব ঘাটে, সব মাঠে ও প্রান্তরে ‘কারো বলার কিছু ছিল না’ প্রকৃতির ব্যর্থতার সঙ্গীত শুনতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আহরণে যেখানে দৃঢ়প্রত্যয়, সুচিন্তিত পদক্ষেপ এবং নেতৃত্ব প্রত্যাশিত সেখানে চোখ কান বন্ধ রাখার সন্ধ্যাসঙ্গীত বাজানো হচ্ছে সময়ের সেতারে। প্রশাসন ও প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সপ্রতিভ দায়িত্বশীল হওয়ার প্রভাব সঙ্গীত ভিন্ন সুরে ধ্বনিত হচ্ছে। বেতন স্কেল দেয়া হয়েছে বা হবে তাই কর রাজস্ব বাড়াতে হবে টাইপের আন্তঃসঙ্ঘাত ও বিরোধ প্রকৃতির অনুযোগ অনুনয় বিনয় বাড়ছে। ১৮ তে রাজস্ব আহরণ কর্মপ্রক্রিয়া ও অভীপ্সা অধিকতর অন্তর্মুখী হওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ বাড়ছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বছর ছিল ১৬-১৭। একই সাথে পাসের হার হ্রাস বৃদ্ধিরও। শিক্ষাব্যবস্থাপনা জগতে পাঠ্যবই পাঠকের হাতে সময় মতো পৌঁছানো, সব বয়সের সবাইকে পাবলিক পরীক্ষার পতাকাতলে সমবেতকরণে সাফল্য এসেছে। শিক্ষা নিয়ে অনেক বাস্তবমুখী তৎপরতা শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই নাড়া দিয়েছে। কিন্তু এগুলো সত্যিই যথাযথ আছে কি না তা দেখভালে কিছুটা কেন বেশ কমতি থাকায় দুর্মুখেরা মাঝেমধ্যে বিরূপ সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষায় একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রত্যাশিত থাকবে ১৮তেও।

১৮ সাল ‘এসডিজি’ বাস্তবায়নের তৃতীয় বছর। মিলিনিয়াম ১০ গোলের বেশ কয়েকটি সামাজিক খাতে আমাদের অগ্রগতি ছিল সন্তোষজনক। তবে এটি একক কোনো সময় বা সরকারের কৃতিত্ব নয়, এ কৃতিত্ব আমজনতার। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিকেন্দ্রীকরণগত সূচক বা শর্তগুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতি যৎসামান্য। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পরিবেশ সৃজনে, সম্পদ ও সুযোগের সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনো আরো কিছু প্রতিবন্ধকতা পেরোতে হবে। আত্মতৃপ্তির ধোয়াশে পরিবেশে যেন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর প্রতি যতœবান হওয়ার আগ্রহ তলিয়ে না যায়।

লেখক : সরকারের সাবেক সচিব, এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫