ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

এশিয়া

চীনের স্কুলে ‘বিস্ময়কর বরফ বালক’ : দারিদ্র্যের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৫:৩৯


প্রিন্ট
এদিন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বরফ জমানো প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে চীনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশু সাড়ে ৪ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে পৌঁছানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। শিশুটির বয়স মাত্র আট বছর। নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের শিশু সে।

ঘণ্টাব্যাপী বরফ শীতল পথ পেরিয়ে যেতে তার মাথায় চুলগুলোতে বরফ জমাট বেঁধে যায়। এই ছবি দেশ গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক জোরদার হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ওয়াংফুম্যান ‘বিস্ময়কর বরফ বালক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্কুলে পৌঁছানোর পরে গোলাপী গাল ও বরফ আচ্ছাদিত চুলের বালকটি ছবি তোলেন এবং সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। চীনের সংবাদ মাধ্যমে এই রিপোর্ট প্রকাশ পায়।

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়, বাড়ি থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার হেঁটে এক ঘন্টার বেশি সময়ে ওয়াং স্কুলে পৌঁছায়।

এদিন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরে দারিদ্র্য দূরীকরণের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০২০ সাল নাগাদ গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসন করে মধ্য মাত্রার সমৃদ্ধ সমাজক নির্মাণের ঘোষণা করেন।

সরকারি হিসেবে দেখা যায়, ২০১৬ সালে দেশটির গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। দেশটির দারিদ্র্য সীমায় বসবাসকারিদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২৩০০ ইউয়ান (৩৪৬ ডলার)। এই আয়ের নিচে বসবাসকারীদের দরিদ্র ধরা হয়।

ওয়াং এমনই এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ওয়াং’র বাবা-মা শহরে কাজ করেন। তারা তাদের শিশুদের গ্রামে দাদা-দাদীর কাছে রেখে আসেন। সম্প্রতি চীনের দারিদ্র্যের এই চিত্র নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

চীনে ভয়াবহ তুষারপাত : ২১ জনের মৃত্যু
সিনহুয়া, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
চীনের তাপমাত্রা চলে গেছে হিমাঙ্কের কোঠায়। ভয়াবহ তুষারপাতে সেখানকার পরিস্থিতি সঙ্কটজনক অবস্থায় চলে গেছে। তুষারপাতের জেরে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ জনকে সুরক্ষিত জায়গায় পাঠানো হয়েছে। ৭০০টি বাড়ি তুষারপাতে ধসে গিয়েছে সম্পূর্ণভাবে। দুই হাজার ৮০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আনহুই, হেনান, জিয়াংসু, হুবেই, হুনান ও শানক্সি পুরো বরফে ঢেকে গেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। প্রশাসনের পক্ষে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষদের উদ্ধার করার কাজ চলছে।

পাশাপাশি এই তুষারপাতের জন্য প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি চাষের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। যার ফলে প্রায় ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে এই দেশ। পাশাপাশি ১৯টি জাতীয় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তুষারপাতের তীব্রতায় গত ৬০ বছরের শীতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কোথাও কোথাও।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫