ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

ময়মনসিংহ

তীব্র শীতে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির

খাদেমুল হক বাবুল, ইসলামপুর (জামালপুর)

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৪:৫৮


প্রিন্ট

দু’দফা বন্যা চরম দূর্ভোগের পর তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশায় জামালপুর ইসলামপুরের যমুনা-ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বন্যা-নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবন-যাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থ সংকটে ঘরবাড়ি মেরামত করতে না পারা এ সব অসহায় মানুষ প্রচন্ড ঠান্ডায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রায় সপ্তাহকালের শৈত্যপ্রবাহ ও দিনভর ঘনকুয়াশায় ঘর থেকে বের হতে না পারায় যমুনার তীরবর্তী পাথর্শী, কুলকান্দী, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধরী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের মানুষ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী গোয়ালের চর, গাইবান্ধা, চরপুটিমারী ও চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষদের জীবন-যাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, বিগত দু’দফা ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ কাচাঁপাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৫ মাস আগে বন্যার পানি চলে গেলেও অর্থ সংকটে অধিকাংশ পরিবার ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারেনি। অনেকে রাস্তা বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশায় ওইসব পরিবারের জীবন যাত্রা দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ভাঙ্গা ঘরবাড়িতে গরম কাপড়ের অভাবে সারা রাত আগুন জ্বালিয়ে র্নিঘুম রাত কাটাছেন তারা। এতে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধারা।
সরেজমিনে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ ও মলমগঞ্জ-কুলকান্দী সড়কের আটিয়ামারী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের করুণ দৃশ্য। শতাধিক পরিবার মলমগঞ্জ-কুলকান্দী রাস্তার পাশে ঝুপড়ি কওে তীব্রশীত ও হীমেল হাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষেরই শীত নিবারনের একটি কাপড়ও নেই বলে জানা গেছে।
পাথর্শী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফত্তেখার আলম বাবুল জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০০০ কম্বলের প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মাত্র ২৯০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, তার ইউনিয়নের শতভাগ এলাকা বন্যা ও নদী ভাঙন কবলিত ছিন্নমুল মানুষ। বন্যার পর তীব্রশীতে অসহায় ওইসব মানুষ নিধারুন কষ্টের মধ্যে রয়েছে। সরকারি ভাবে ৩০০ কম্বল পেয়েছি। নয় ওয়ার্ডে ভাগ করে দিয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প।
সাপধরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বিএসসি জানান, সরকারী ভাবে ৩০০ কম্বল পেয়েছি। তার ইউনিয়নটি সম্পুর্ণ যমুনার চরাঞ্চল হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। নদী বেষ্টিত হওয়ায় এখানে শীতও তীব্র থেকে তীব্র। জয়নাল আবেদীন বলেন,তার ইউনিয়নে ২০ হাজার মানুষ শীতবস্ত্র পাওয়ার যোগ্য। তিনি নয়া দিগন্তকে বলে, বৃহস্প্রতিবার গভীর রাতে কাসারীডোবা গ্রামের লেদু মন্ডলের বাড়িতে অগ্নিকান্ডে ৫/৬টি পরিবারের ১০টি ঘর ও মালামাল পুড়ে গেছে। ওইসব পরিবারের ৩০/৪০ জন সদস্য আশ্রয় ও বস্ত্রহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে তীব্র শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্র জানায়, উপজেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, এক পৌর সভা ও ১২ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাঝে ৩০০ করে প্রায় চার হাজার কম্বল বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। বাকী গুলো স্থানীয় এমপি, উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। যা প্রায়োজনের তুলনায় অতি অল্প বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শীত মোকাবেলায় সরকারের পক্ষথেকে কোন কমতি নেই। আমি নিজে গভীর রাতে ঘুরে ঘুরে অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণ করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫