ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

ইউরোপ

আমেরিকাকে পাত্তা দিলো না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১১:১৩ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১১:২২


প্রিন্ট
আমেরিকাকে পাত্তা দিলো না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আমেরিকাকে পাত্তা দিলো না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার প্রতি আবারো সমর্থন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মার্কিন সরকার যখন এ সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমঝোতার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করলো।

বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ।

বৈঠক শেষে মোগেরিনি জানান, আজকের বৈঠকে সব পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।  পরমাণু সমঝোতা ঠিক মতোই কাজ করছে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারির যে লক্ষ্য নিয়ে সমঝোতা সই হয়েছিল সে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় নি।

এসময় তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র নয়টি রিপোর্টের কথা তুলে ধরেন। আইএইএ'র এসব রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে।

মোগেরিনি যদিও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, এসব ইস্যুর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার সম্পর্ক নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলবেন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত নিতে যাচ্ছেন তখন ইরান ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বৈঠক হলো। আগামীকালের মধ্যে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।

 

ইউরোপীয় ও মার্কিন এনজিও ইসরাইলে নিষিদ্ধ

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল ও অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ বন্ধে প্রচারাভিযান চালানোর দায়ে অন্তত ২০টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল ইসরাইল। এর মধ্যে ১১টি ইউরোপীয় এবং ৬ মার্কিন সংস্থা রয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত ২০টি এনজিওর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- ব্রিটিশ ওয়ার ওয়াচ, ফ্রান্স-প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন, আয়ারল্যান্ডের ফ্রেন্ডস সলিডারিটি ক্যাম্পেইন, আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি, আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন, জ্যুইশ ভয়েস ফর পিস, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন ফিলিস্তিন, ফ্রেন্ডস অব আল আকসা।

ইসরাইল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ- ফিলিস্তিন ভূমি থেকে বিতাড়ন, বিভাজন ও নিষেধাজ্ঞার জন্য ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে এতদিন সম্মিলিত প্রচারাভিযান চালিয়ে আসছিল নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো।

সূত্র : আনাদলু ও দৈনিক হার্টেজ

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব গৃহীত

মিয়ানমারে ব্যাপকভিত্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে লক্ষ্য নির্দিষ্ট (টার্গেটেট) শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পার্লামেন্ট এই প্রস্তাব অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্টার্নসবার্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের ওপর ভোটাভুটির পর এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিতর্কের সূচনা ও সমাপনীতে বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং ইইউ’র বৈদেশিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি। এতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন এমপি বক্তব্য রাখেন।

প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর আগে থেকে আরোপিত অস্ত্র নিধেধাজ্ঞার আওতা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও বৈষম্য নিরসনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর উল্লেখযোগ্য হারে চাপ বাড়ানোর জন্য মোঘেরিনির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও হয়রানি বন্ধ এবং তাদের বাড়িঘর পোড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য মিয়ানমার সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। এতে ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানোর সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো, সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা, ইইউ ও জাতিসঙ্ঘকে রাখাইন রাজ্যে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমোদন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে পৃথকীকরন বন্ধ করা এবং সীমান্তে মাইন পোতা বন্ধ ও ইতোমধ্যে পুতে রাখাই মাইনগুলো অপসারণের জন্য মিয়নামার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিতর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধজ্ঞা আরোপ, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল ও বিনিয়োগ চুক্তি স্থগিত করাসহ সব ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পার্লামেন্ট সদস্যদের মতে, রোহিঙ্গারা যাতে ন্যায়বিচার পায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তা নিশ্চিত করতে হবে। নৃশংসতার সাথে জড়িত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিও গভীর নজর রাখতে হবে।

এতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মোঘেরিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। সু চি’র সাথেও বৈঠক করেছি। নেইপিডোতে এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ের (আসেম) সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ককে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মিয়ানমার পরিস্থিতিকে জটিল হিসাবে আখ্যায়িত করে মোঘেরিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ইইউকে একসাথে দুই দিক সামাল দিতে হচ্ছে। প্রথমত, মিয়ানমারের নবীন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা, যাতে ঘড়ি পেছনের দিকে ঘুরে না যায়। দ্বিতীয়ত, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারে ওপর চাপ সৃষ্টি। এটা একটা কঠিন কাজ। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন ছিল। এটা প্রাথমিক পদক্ষেপ। এখন রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সাথে ফেরানোর কঠিন কাজটায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

 

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫