ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

রক্তাক্ত প্রান্তর নাবলুস : শহীদী মিছিলে দুই কিশোর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১০:৫২


প্রিন্ট
রক্তাক্ত প্রান্তর নাবলুস : শহীদী মিছিলে দুই কিশোর

রক্তাক্ত প্রান্তর নাবলুস : শহীদী মিছিলে দুই কিশোর

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে দুই ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এ দুই ফিলিস্তিনি কিশোর শহীদ হলেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে গাজা সীমান্তের আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের কাছে ১৬ বছর বয়সী আমির আবদুল হামিদ আবু মুশাইদ নামে এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হন। ইসরাইলের সেনারা তার বুকে গুলি করে বলে জানান কিদরা। তাকে গাজার দেইর আল-বালাহ হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।

পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে একদল বিক্ষোভকারীর ওপর ইসরাইলের সেনারা গুলি চালালে আলী ওমর নিমর কিনো নামে ১৭ বছরের এক তরুণ শহীদ হন।

গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর এ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাদের হাতে প্রায় ২০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের অশ্রু-রক্তে ইসরাইলিদের বিলাসী অট্টালিকা

ফিলিস্তিনিদের অশ্রু ঝরছে ও রক্তের বন্যা বইছে। বসতবাড়ি-ভিটেমাটি হারিয়ে হচ্ছে শরণার্থী। অথচ ইসরাইলিরা নতুন বসতি গড়ছে। নতুন অট্টালিকায় বিলাসী জীবন যাপন করছে। একপক্ষের আনন্দ আরেক পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি বেদনার সৃষ্টি করেছে।

জেরুসালেম শহরে গত এক বছরে ১৩২টি ফিলিস্তিনি বাড়ি বা ভবন ধ্বংস করেছে ইসরাইল। এ খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-কুদস’।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসব ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ইসরাইলিরা। এর ফলে ২৪০ জন ফিলিস্তিনি সহায়-সম্বল হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন যাদের অর্ধেকই শিশু।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছিল, ইসরাইল ২০১৭ সালে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ৯০০ হেক্টর ফিলিস্তিনি ভূমি অধিগ্রহণ করেছে। নতুন নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের জন্য এসব ফিলিস্তিনি ভূমি জবরদখল করে তেল আবিব।

সংস্থাটি আরো জানায়, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ২০১৭ সালে ইহুদি বসতি নির্মাণের পরিমাণ ২০১৬ সালের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে দখলদার ইসরাইল।

আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে তেলআবিবের পাশে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ।

পশ্চিম তীরে ৪ হাজার নতুন বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরাইল। পশ্চিমতীরের ‘হাইয়ার প্লানিং কাউন্সিল’ এসব বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দেবে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৮২৯টি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের পর ইসরাইল এ পর্যন্ত সেখানে ২৩০টি অবৈধ বসতিস্থাপন করেছে। বসবাস করছে ছয় লাখ ইসরায়েলি।

ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই জেরুসালেমে ১৪ হাজার হাউজিং ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রী যুভ গালান।

জেরুসালেমের উত্তরাঞ্চলীয় আতারোটে পাঁচ হাজার আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। অপর দিকে পিসগ্যাট জেভে এক হাজার, কাটামোনে তিন হাজার এবং রেচেস লাভেনে আরো পাঁচ হাজার বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রামাল্লাহর খুব কাছেই বসতিগুলো নির্মাণ করা হবে। গালান এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার কারণে আমি জেরুসালেমে বসতি নির্মাণকে উন্নত এবং আরো জোরদার করতে চাই।

মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য মন্ত্রীও গালানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন আর কোনো অজুহাতই নেই। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতির পর সেখানে আমাদের বসতি নির্মাণ না করার ক্ষেত্রে আর কোনো কারণই নেই।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫