অলঙ্করণ : জাহিদ হাসান বেনু
অলঙ্করণ : জাহিদ হাসান বেনু

নদী বয়ে যায় কবিতায়

জাফরুল আহসান

৫৬০০০ বর্গমাইলব্যাপী যে বাংলাদেশ, তার জলভাগের আয়তন ৩৬৬১ বর্গমাইল, আর সমগ্র দেশের নদীর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৮৪৬৫ মাইল। আনুমানিক ২৫০টি (এ নিয়ে মতভেদ আছে) নদী তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে মায়াবী জালের আচ্ছাদনে জড়িয়ে রেখেছে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগ। কবি যথার্থই বলেছেন ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি স্তনে’ নদীমাতৃক বাংলাদেশ বলতে বাংলাদেশে নদীর যে ভূমিকা, যে ব্যাপকতা বোঝায় সে অর্থে প্রশ্ন জাগে নদী বলতে কী বুঝি, নদীর সংজ্ঞা কী?
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পরিমার্জিত সংস্করণে নদী প্রসঙ্গে লেখা হয়েছেÑ নদ (নদ) নদী শব্দের পুংলিঙ্গ; কপোতাক্ষ, বলেশ্বর, দামোদর, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদ নামে অভিহিত। {স. ানদ+অ (অচ)}
নদী [নোদি] পাহাড়, হ্রদ প্রস্রবণ প্রভৃতি থেকে উৎপন্ন ও নানা জনপদের জলস্রোত; চারক্রোশের অধিক বাহিনী জলনালি, স্বাভাবিক জলস্রোত; স্নোতস্বিনী; তটিনী; তরঙ্গিণী, প্রবাহিণী।
কলকাতার শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেডের চতুর্থ সংস্করণে নদ ও নদী প্রসঙ্গে লেখা হয়েছেÑ নদ-নদীর পুংলিঙ্গ ব্রহ্মপুত্র, দামোদর প্রভৃতি পুংবাচক নামযুক্ত জলপ্রবাহ {স. ানদ+অ (র্তূ)}
নদী স্বাভাবিক জলস্রোত, স্রোতস্বিনী প্রবাহণী, তটিনী, তরঙ্গিণী। {সংানদ+অ (র্তূ) + ঈ}
নদ-নদী প্রসঙ্গে আভিধানিক ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত না করে বরং নদীবিষয়ক গবেষক মাহমুদ শামসুল হকের বক্তব্য তুলে ধরছি; নদী গবেষক মাহমুদ শামসুল হক তাঁর নদী-গ্রন্থে লিখেছেনÑ “সাধারণ অর্থে যে জলপ্রবাহ নাদ বা কলধ্বনি করে প্রবাহিত হয় ‘তাই নদী’ বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা অনুসারে পণ্ডিতরা পুরুষবাচক নদ শব্দটির উদ্ভাবন করেছেন। দুয়ে মিলে নদ-নদী। বাংলা ভাষায় নদীর অনেক সমার্থবোধক শব্দ বা নাম রয়েছে। এর প্রায় সবই স্ত্রীবাচক। এসব নামের মধ্যে নদীর স্বরূপ বহুলাংশে উন্মোচিত। যেমনÑ কল্লোলিনী, কলবতী, তটিনী, তরঙ্গিণী, দরিয়া, দ্রবণ্টী, ধনী, নই (নেই), নি¤œগা, নির্ঝরিণী, পয়স্বিনী, প্রবাহিণী, বহা, বাহিনী, বারিৎ রোধবতী, শৈবালিনী, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রবল্লভা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতোবহা, হ্রদিনী ইত্যাদি।
নদীর আরেক সমার্থশব্দ গাং, গাঙ বা গাঙ্গ। গাঙ্গ শব্দটি এসেছে গঙ্গা থেকে। এ অর্থে গঙ্গাও নদীর নামবাচক শব্দ। সাধারণ নদী অর্থে গাঙ্গ, দরিয়া, স্রোতস্বিনী, কল্লোলিনী শব্দগুলোই ব্যবহৃত হয়। অন্য নামগুলোর ব্যবহার চোখে পড়ে সাহিত্যে, বিশেষিত কবিতায়। নই বা নেই নামটির ব্যবহার দেখা যায় প্রাচীন চর্যাপদে।”
[নান্দিপাঠ : নদীর সুনামে/নদী/ মাহমুদ শামসুল হক/ পৃষ্ঠা ১৫-১৬]
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ‘চর্যাচর্য্য বিনিশ্চয়’ বা চর্যাপদে ভুসুকু পদকর্তার ৪৯ নম্বর চর্যায় আমরা নদীর ব্যবহার দেখি। অর্থাৎ বাংলা ভাষার সূচনালগ্ন থেকে সাহিত্যে নদীর উপস্থিতি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত।
“বাজনার পাড়ী পঁউআ খাঁলে বাহিট্ট।
অদঅ বঙ্গালে কেশ লুড়িউ ॥
আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইনী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী ॥
ভুসুকু পা চর্যা ৪৯”
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ভুসুকু তাহার গুরু দীপাঙ্কর অতীশ শ্রীজ্ঞানের পঞ্চশিষ্যের অন্যতম এবং এই বাংলাদেশেরই একজন প্রাচীন কবি। ৪৯ নম্বর চর্যার উল্লিখিত চারটি লাইনের বাংলা অর্থ নি¤œরূপÑ

‘পদ্মাখালে বজ্র নৌকা পাড়ি বহিতেছে। অদ্বয় বঙ্গালে কেশ লুটিয়া লইল। ভুসু তুই আজ (যথার্থ) বঙ্গালী হইলি। চণ্ডালীকে তুই নিজ ঘরণী করিয়া লইাছিস।’
এখানে পদ্মাখাল, বঙ্গা, বঙ্গালী প্রভৃতি শব্দের এবং সমস্ত পদটির সহজিয়া মতানুগত গুহ্য অর্থ তো আছেই, তবে সেই গুহ্য অর্থ গড়িয়া উঠিয়াছে কয়েকটি বস্তুসম্পর্কগত শব্দকে অবলম্বন করিয়া। ভুসুকু বাঙ্গালী অর্থাৎ পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গবাসী ছিলেন। ১০২১-২৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজৈন্দ্রচোল দক্ষিণ-রাঢ়ের পরেই বঙ্গাল দেশ জয় করিয়াছিলেন, অর্থাৎ ভাগীরথীর পূর্ব তীরে বর্তমান দক্ষিণ বঙ্গই বঙ্গালদেশ এবং এই বঙ্গালাদেশ অন্তত বিক্রমপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি যখন বঙ্গালী এবং বঙ্গালদেশের সঙ্গে পদ্মা খালের কথা বলিতেছেন, তখন পঁউয়া খাঁল এবং পদ্মাবতী নদী যে এক এবং অভিন্ন এ কথা স্বীকার করিতে আপত্তি হইবার কারণ নাই।
[বাঙ্গালীর ইতিহাস আদি পর্ব/ নীহাররঞ্জন রায়/ পৃষ্ঠা-৮২]”
বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই স্বমহিমায় নদী তার জায়গা দখল করে নিয়েছে লেখকচিত্তে। শিল্প সাহিত্যের প্রতিটি শাখাই যেন নদীর স্রোতধারায় প্লাবিত, আছে আনন্দ, আছে বেদনা, আছে নদীর সুখ-দুঃখ। লেখকচিত্ত নদীকে আবিষ্কার করেছে অনেকটা নিজের মতো করেই; হোক সে উপন্যাস, গদ্য, কবিতা, প্রবন্ধ কিংবা গান। তারতম্য শুধু লেখকের দৃষ্টিকোণ। তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কবির কবিতায় নদী সবচেয়ে প্রবল, স্রোতস্বিনী, চপলা লক্ষ্মী যেন কখনো কখনো, আবার কখনোবা ধীরস্থির, এমনি নানাভাবে নদীকে দেখেছেন কবি।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাস জীবনে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ও প্রিয় নদীর বিয়োগব্যথায় ছিলেন কাতর, প্রিয় নদী কপোতাক্ষের বিয়োগব্যথায় অস্থির কবিচিত্তের বহিঃপ্রকাশ তাঁর ‘কপোতাক্ষ নদ’ নামের সনেটের উদ্ধৃতাংশÑ
সতত হে নদ, তুমি পড় মোর মনে।
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে :-
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে।
{ড. বিষ্ণু বসু ও তীর্থপতি দত্ত সম্পাদিত/ মধুসূদন রচনাবলী/পৃষ্ঠা-১৬৬]
বিভিন্ন নদী, নদীর প্রবাহ, নদীর অস্থিরতার পাশাপাশি নদীর অববাহিকায় বেড়ে ওঠা জনপদের নিত্যদিনের চালচিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। নদীর ভাঙ্গা-গড়া, পথ চলা, শান্ত-স্নিগ্ধ জলরাশি কবিগুরুর আবেগকে নাড়া দিয়েছে তাঁর নিজের অজান্তেই; তাই রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য কবিতায় আমরা নদীর উপস্থিতি দেখি বিভিন্নভাবে।

অ.
সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ুধা
উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুখ
শুধু হেয়া দুই তারে, কেবা জানে নাম
দোহাপানে চেয়ে আছে দুইখানা গ্রাম
এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে
কেহ যায় ঘরে; কেহ আসে ঘর হতে।
[চৈতালি কাব্যগ্রন্থের ‘খেয়া’ কবিতা থেকে]
আ.
ওরে পদ্মা ওরে মোর রাুসী প্রেয়সী
লুব্ধ বাহু বাড়াইয়া উচ্ছ্বাস উল্লাসি
আমারে কি পেতে চাস চির আলিঙ্গনে
শুধু এক মুহূর্তের মিলনে
তোর বক্ষ মাঝে চাস করিতে বিলয়
আমার বক্ষের যত সুখ-দুঃখ-ভয়?
[উৎসর্গ কাব্যগ্রন্থের সংযোজন পর্বের ৬ নম্বর কবিতার অংশবিশেষ]

ই.
প্রতিদিন নদীস্রোতে পুষ্পপত্র করি অর্ঘ্য দান
পূজারির পূজা অবসান।
আমিও তেমনি যতেœ মোর ডালি ভরি
গানের অঞ্জলি দান করি
প্রাণের জাহ্নবীজল ধারে,
পূজি আমি তারে।
[পূরবী কাব্যগ্রন্থের ‘প্রাণগঙ্গা’ কবিতা থেকে]

ঈ.
ও গান যেখানে সত্য
অনন্ত গোধূলিলগ্নে
সেইখানে
বহে চলে ধলেশ্বরী,
তীরে তমালের ঘনছায়া,
আঙ্গিনাতে
যে আছে অপেক্ষা করে তার
পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।
[পুনশ্চ বাক্যগ্রন্থের ‘বাঁশি’ কবিতার অংশবিশেষ]

দু’টি গ্রামের মাঝখানে নদী, খেয়াই গ্রামবাসীর একমাত্র অবলম্বন; জনপদের নিত্যদিনের কোলাহল, আনন্দ বেদনায় কবিচিত্ত আলোড়িত হয়, কবি ব্যাকুল হয়ে ওঠে। নদী তীরে তমালের ছায়ায় তাঁর প্রেয়সী হয়তো তাঁরই জন্য বরণডালা সাজিয়ে প্রতীক্ষায় আছে, পরনে তার ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর। কবি সেখানটায় পৌঁছাতে চান যদি দু’দণ্ড প্রশান্তি মেলে। আবার কখনো কখনো পদ্মার কৌতুকময় আচরণ দেখে বিস্মিত হয়েছেন কবি। তাঁর নিজের কাছেই প্রশ্ন জেগেছে পদ্মা কি রাক্ষসী প্রেয়সীর নাম? এক মুহূর্তের মিলনের প্রত্যাশায় পদ্মা কি তাকে চিরদিনের জন্য আলিঙ্গনাবদ্ধ করে রাখতে চায়? তার পরও নদীর কাছে সমর্পিত কবি। পূজারি যেমন পত্র-পুষ্প অর্ঘ্য নিবেদন করে কবিও তেমনি গানের অঞ্জলি ভরে প্রাণের জাহ্নবী জলাধারকে অর্চনা করতে চান; কবির ভাষায় ‘পূজি আমি তাকে’। এমনিভাবে অসংখ্যবার অসংখ্য কবিতায় রবীন্দ্রনাথ নদীকে তুলে ধরেছেন তাঁর কবিতায়।
রবীন্দ্রনাথের নদীবন্দনা শেষে আমরা দেখব কাজী নজরুল ইসলাম কিভাবে তাঁর কবিতায় নদীকে উপস্থাপন করেছেন। নজরুলের গানে আমরা যেভাবে নদীর সরব উপস্থিতি টের পাই কবিতায় সে অর্থে অনেকটাই কম। নজরুলের কবিতায় নদী বরাবরই অনন্ত যৌবনা, নদী বরাবরই তেজী এবং জেদি হিসেবে কবিতায় শ্রি বৃদ্ধি করেছে। নজরুলের কবিতার কিছু উদ্ধৃতাংশ:
০১.
লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে
ওগো কার তরী ধায় নির্ভীক চিত্তে
অবহেলি জলধির ভৈরব গর্জন
প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার অর্জন।
অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশ কে এত সাহসী, কে এমন বীর, কার এমন ভয়হীন চিত্ত যে প্রলয়করী সিন্ধুর প্রলয়নৃত্য অস্বীকার করে সামনে এগোয়। জলরাশির ভয়াল উন্মত্ততা বিশাল গর্জন অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করে কে? কোন সে নৌকা কিংবা নৌকার মাঝি।
০২.
আবার গাঙে আসবে জোয়ার, দুলবে তরী রঙ্গে
সেই তরীতে হয়ত কেহ থাকবে তোমার সঙ্গে
দুলবে তরী রঙ্গে।
পড়বে মনে সে কোন রাতে
এক তরীতে ছিলে সাথে
এমনি গাঙে ছিলো জোয়ার
নদীর দুধার এমনি আঁধার
তেমনি তরী ছুটবে
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
[দোলনবচাঁপা কাব্যগ্রন্থের ‘অভিশাপ’ কবিতা থেকে]
০৩.
হে ুধিত বন্ধু মোর, তৃষিত জলধি
এত জল বুকে তব, তবু নাহি তৃষ্ণার অবধি
এত-নদী উপনদী তব পদে করে আত্মদান
বুভুু! তবু কি তব ভরিল না প্রাণ?
দুরন্ত গো মহাবাহু
ওগো রাহু
তিন ভাগ গ্রাসিয়াছ এক ভাগ বাকি
সুরা নাই-পাত্র হাতে কাঁপিতেছে সাক।
[সিন্ধু-হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের সিন্ধু তৃতীয় তরঙ্গ কবিতার অংশবিশেষ]
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লিখিত তিনটি কবিতার অংশ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নদীর প্রতি ক্ষোভ-রাগ বিদ্বেষ পাশাপাশি ভালোবাসায় নদীকে আবিষ্কার করেছেন কবি। প্রলয়ঙ্কর সিন্ধু দু’কূল ভেঙ্গে একাকার করে তারপরও ুধার্ত সে, বিপুল জলরাশি বুকে ধরে রেখেও তৃষ্ণার্ত। এ কেমন তার আচরণ, কবির বিস্মিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। কিংবা অভিমান প্রিয়ার প্রতি তাঁর যে আস্থা এবং বিশ্বাস তার বর্ণনা দেখি খেয়া কবিতায়, সেখানেও নদীবক্ষে নৌকার যাত্রী তাঁর প্রেয়সী। গাঙে নতুন জোয়ারের সময় ভাসমান তরীতে প্রিয়ার সাথে যদি অন্য কেউ তার ভ্রমণসঙ্গি হন তাতে কবি বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কিংবা বিচলিত নন। কবি জানে, প্রেয়সীর অন্তরজুড়ে সর্বত্রই তাঁর উপস্থিতি। কবির সাথে যখন প্রণয়ালাপে মুগ্ধ ছিল, সেদিনও নদীবক্ষে তরণী ছিল সচল, নদীতীরে ছিল আঁধার, সেদিনও ভরা জোয়ার ছিল নদীতে। ইচ্ছে হলেই তো প্রেয়সী এসব ভুলে থাকতে পারে না।
এমনিতরো নদীকেন্দ্রিক অজস্র খণ্ডচিত্রের অবতারণা দেখি নজরুলের কবিতায় ততোধিক বিস্ময়ে লক্ষ করি নজরুলের গানে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার দেখে। অসংখ্য মূল্যবান গানে নদীর উচ্ছলতা টের পাই। গান প্রসঙ্গে নদীর কথা বলতে হলে ভিন্ন একটা প্রবন্ধ লেখাই সমীচীন বলে মনে করি।
এর পর আগামী সংখ্যায়

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.