ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

দিগন্ত সাহিত্য

দিগন্ত সাহিত্য কবিতা

১২ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সোলায়মান আহসান
মহানন্দার তীরে

দুপুরটা ফিকে হয়Ñ পৌষের শীতের আড়মোড়াÑ
ভেঙে জেগে উঠে ধীরে বিগত যৌবনা মহানন্দা
চলতে চলতে বলেÑ ীণকণ্ঠে, কে গো হে তোমরাÑ
কী দেখছো আমাকে, থির থির চলা মৃদুমন্দা?

ভোরের কুয়াশা ভেদে সুবাসিত হিমেল সকাল
পাখিরা কুলায়ে গেছে সুমেরীয় বাঁকা পথ ধরে
আবার আসবে কিনা যায়নি তো বলে আজকাল
অপোয় রই তবু সূর্যটা কখোন পাটে পড়ে।

বালুর পাহাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখছি নতমুখ
সমুখে ব্রিজের পর গতিমান মানুষের সারি
জানি না কিসের কথা (জাল বোনা বিরূপ বিমুখ)
যতো দূর দৃষ্টি যায় খুঁজি শুধু জনপদ বাড়ি।

কাকে সে শোনাবে ব্যথা হৃদয়ের শোক-সন্তাপ
স্বার্থপর মানুষের আজ বড় কুটীল স্বভাব!

শাহীন রেজা
প্রাণের আকাল

অযথা ডেকেছি তারে সে তো আজ জলহীন আঁখি
বিরহে থাকেনি পাশে প্রণয়েও ধূসরের পাখি

জীবন শুধু যে মেঘ ঝরে পড়ে বেহাগের তালে
অসুর হয়েছে বধ আলোঘুম সুভদ্রার কালে

আমি তো চেয়েছি রোদ কেন এই শুধু ছায়া খেলা
কেন যে রোদন আঁকা জলডুব শ্রাবণের বেলা

দেহ তো দেহেই আছে মন নেই মনের মাজারে
বিকায় বাসনা সব ক্ষমাহীন উদোম বাজারে

সেই যে দুপুর সে তো রয়ে গেছে দুপুরের মতো
পুড়েছে বোধেরা সব ত্যাগট্যাগ ছিল বুকে যত

এখন আমি তো শুধু কোনো এক নদী স্রোতহীন
আমার আমিতে মেশে শোণীতেরা আর দ্রোহ বীণ

বাজায় বিষের বাঁশি বেণুবনে কানাই রাখাল
তবুও কাটে না নীল তবুও যে প্রাণের আকাল।

ফেরদৌস সালাম
এ বঙ্গের সব নদী

আঁধারের মহাকাব্যে জননীরা জ্বেলে দেয় আলো
সান্নিধ্যের দ্যোতনায় নদীরাও বয়ে আনে পলি
উদ্বেলিত প্রেমিকেরা তুলে দেয় গোলাপ অঞ্জলি
হয় যদি প্রত্যাখ্যাত এ ভুবন হয়ে যায় কালো।

তুমি তো বহতা নদী ঘুরো ফিরো দেশ দেশান্তরে
কোথাও কি শুনেছো এ বঙ্গের দোয়েলের শিস্
দেখেছো কি ধানক্ষেতে মায়াভরা আগুনের শীষ
আতিথ্যের বন্দনায় কবিদের ডেকে নেয় ঘরে?

আমিও নদীকে বুঝিÑ মিশে আছে শেকড় সত্তায়
অমিয় জলের ধারা পরিপূর্ণ করে তোলে ডোল
নদীকে বাঁচাও যদি পাতে পাবে বোয়ালের ঝোল
পাল তুলে বেপারিরা ফিরবেই মুগ্ধ যমুনায়।

এ বঙ্গের সব নদী একাকার জননীর মুখ
মাতৃত্বের স্নেহাঙ্গলে এনে দেয় গৃহভরা সুখ।

ক্যামেলিয়া আহমেদ
গাজীখালি

গাজীখালি, আমাদের সেই গাজীখালি
কালের আবর্তনে হারিয়ে গেছে জীবন্ত রূপ
শুধু হৃদয়ের ভেতর জেগে আছে রুগণ স্মৃতি
স্মৃতিদের ঘোরাফেরা শূন্য বুকে।

নদীটিতে আর স্রোত নেই
বুকে সাঁতার কাটে না কেউ
উপচে পড়া ভরা যৌবন শুকিয়ে গেছে কবে!

ছিল যখন উপচানো জলনদী
রূপে স্রোতস্বিনী ভেঙে দিত
কত সারেঙ কত মাঝি
কত রাখালের মন।

আজ আর আসে না ভোরবেলাতে
শিশিরসিক্ত পায়ে নববধূ
কলসি কাঁখে জল ভরে না
একটি রাজহাঁসও নেই গাজীখালির বুকে
মাছরাঙারাও হারিয়ে গেছে কোথায়!

নদীটিকে আর নদী বলা যায় না!
নেই আগের মতো হিল্লোল শ্রাবণী বাতাস
ঢেউয়ের বুক শুকিয়ে গজিয়েছে ঘাস।

যতবার দেখি ততবার মনে হয়
যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া প্রাপ্তযৌবনা সন্তানের কথা
কোনো পরাধীনতায় হারিয়ে গেছে নদীটি
কেউ জানে না।

আজ শুধু করুণ দৃষ্টি নিয়ে
আশ্চর্য তাকিয়ে থাকা আর দীর্ঘশ্বাস
এই সেই গাজীখালি!

বুলবুল হাসান
নদীমাতৃক বাংলাদেশ

পাল তোলা নৌকায় চড়া
সেই কৈশোর বেলার দিনগুলি
এখন শুধুই অতীতের এক বিস্মৃতি।

মাঝে মাঝে সে ভাবনাগুলি তাড়া খেয়ে
আবার সামনে চলে আসে কিছু কিছু মুহূর্তে।

আপনজনদের সঙ্গে কখনো বেড়াতে যাওয়া আর
নিকট আত্মীয়র খবরাখবর জানা, বর্ষা মওসুমে
নদীপথ ও নৌকার কী কদর, আজো তা ভুলিনি।

আজ নদী নেই, বালুচর নেই, কাশবনও নেই
ঘাটে বাঁধা কোনো নৌকাও নেই, তবে কি...
নদীমাতৃক বাংলাদেশ আছে?

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫