পাল্টা প্রতিবাদ তুরস্কের, মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব
পাল্টা প্রতিবাদ তুরস্কের, মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব

পাল্টা প্রতিবাদ তুরস্কের, মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে তুর্কি সরকার। সিরিয়ায় তৎপর কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-কে অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ঘটনায় মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করল আঙ্কারা।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন কূটনীতিক ফিলিপ কোসনেটকে তলব করে কুর্দি গেরিলাদের প্রতি আমরিকার সমর্থনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রও কূটনীতিক তলবের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তুর্কি সরকার চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে কী বলেছে ওই মুখপাত্র তা জানাতে অস্বীকার করেছেন।

মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় তৎপর ৪০০ কুর্দি গেরিলাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ শুরু করেছে বলে খবর বের হওয়ার পর আমেরিকার কূটনীতিককে তলব করল তুর্কি সরকার। তুরস্ক সীমান্তে ওয়াইপিজি’র গেরিলাদের উপস্থিতিতে আংকারা কিছুটা উদ্বিগ্ন।

তুরস্ক মনে করে, এসব গেরিলার সঙ্গে কুর্দিস্তান পিপলস ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে গেরিলাদের সম্পর্ক রয়েছে। পিকেকে গেরিলারা কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাকে তুরস্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।

এদিকে ২০১৮ সালে ৪৩ হাজার সেনা সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক সাথে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া এই প্রথম। এই বিশাল সংখ্য সেনার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কমিশনড অফিসার থাকবেন। এছাড়া নন-কমিশনড অফিসার নিয়োগ পাবেন ৫ হাজারের বেশি।

স্পেশাল সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১৩ হাজার এবং চুক্তিভিত্তিক অফিসার নিয়োগ পাবেন ২০ হাজারের বেশি। সর্বশেষ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে কয়েক হাজার সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। অনেকে এখন বিচারের মুখোমুখি। তবে বরখাস্ত অফিসারের সংখ্যার চেয়ে নতুন নিয়োগ দেয়া সংখ্যাটি অনেক বেশি। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

বর্তমানে তুরস্কের সেনারা দেশের বাইরেও অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া কাতার, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন ঘাঁটি করছে তুরস্ক। ফলে সেনাবাহিনীতে আরো বেশি লোকবল দরকার। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরো সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে তুরস্ক- এমন ঘোষণা দিয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এরদোগান বলেন, এখন থেকে যত ঝুঁকিই থাকুক না কেন- তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি আরো সাহসী এবং আরো সক্রিয় হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমতে শুরু করেছে। নানা সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কমছে মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের প্রভাবও। উল্টো দিকে তুরস্ক তার প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ইরান ও রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে সিরিয়া সংকটের সমাধানে অগ্রগামী ভূমিকায় আছে আংকারা। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এমনকি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। এরদোগানের এই ঘোষণায় আরো বড় কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে সুদানের সুয়াকিন দ্বীপ নিজেদের হাতে নেয়ার মাধ্যমে গত বছর শেষ করায় অনেকের ঔৎসুক্য তৈরি হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.