দারিদ্র ও বেকারত্ব মুক্ত হচ্ছে ইরান :  হাসান রুহানি
দারিদ্র ও বেকারত্ব মুক্ত হচ্ছে ইরান : হাসান রুহানি

দারিদ্র ও বেকারত্ব মুক্ত হচ্ছে ইরান : হাসান রুহানি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, দেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ও তাদের অধিকার রক্ষা সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি একথা বলেছেন।

হাসান রুহানি বলেছেন, আগামী ইরানি অর্থবছরে যে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হবে তার প্রধান লক্ষ্য থাকবে দারিদ্র সম্পূর্ণভাবে দূর করা এবং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য অনুসরণ করে সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থা দ্রুত এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনগণের ন্যায্য দাবি ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি সরকার দরদের সঙ্গে দেখবে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রেজা রাহমানি ফাজলিকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরার দায়িত্ব দেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তি কিংবা হতাহতদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা বলেছেন তিনি।

বিক্ষোভ চলাকালিন রুহানি বলেছিলেন, ‘দেশের উন্নয়নের পথ দেখায়, সরকারের এমন সমালোচনা ও প্রতিবাদ করার বিষয়ে (ইরানিরা) পুরোপুরি স্বাধীন। কিন্তু যারা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করছে, আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, সরকার তাদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখাবে না।সরকারের সমালোচনা প্রকাশ করা আর সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

ইতোপূর্বে তিনি বলেছিলেন, আর্থ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন ও সাফল্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে শত্রুরা। সমালোচনা ও প্রতিবাদ কোনো হুমকি নয় বরং তা সুযোগ ও সম্ভাবনা। ইরানি জনগণই আইন লঙ্ঘনকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জবাব দেবে। ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং কয়েকটি আগ্রাসী দেশের শত্রুতার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে পরমাণু সমঝোতা চুক্তির বাস্তবায়ন তথা বিশ্বে ইরানি জাতির রাজনৈতিক বিজয়, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অর্জিত সাফল্য এবং মার্কিন অবরোধের ব্যর্থতা অন্যতম। ইরানের শত্রুরা সব সময় প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা অনস্বীকার্য যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ইরানি জাতি এ সমস্যা কাটিয়ে উঠবে এবং সুযোগ সন্ধানী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরকে উপযুক্ত জবাব দেবে। দুষ্কৃতকারীরা ইসলামি বিপ্লবের মূল্যবোধের অবমাননার পাশাপাশি জনগণের সম্পদ নষ্ট করেছে বলে তিনি জানান।

রুহানি বলেছিলেন, তার দেশের জনগণকে ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ করার চেষ্টা করছে শত্রুরা। শত্রুরা দেশকে সঙ্কটের মধ্যে ফেলে সরকারের প্রতি জনমত ধ্বংস করতে চায়। সবাইকে এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বিশেষ করে যুব সমাজকে এ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে। জাতীয় শক্তির সবচেয়ে বড় উপাদান হচ্ছে ধর্মীয়, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যকার ঐক্য। দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানের জন্য সরকারের বিভিন্ন শাখার মধ্যে বাস্তব পদক্ষেপ ও সহযোগিতা জরুরি। তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, অর্থনৈতিক কূটনীতি, রপ্তানি বাড়ানো, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান -এই পাঁচটি হচ্ছে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রধান স্তম্ভ।

রুহানি বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে প্রমাণ করেছেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে কথিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে আমেরিকা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী নয়।তার দেশের পরমাণু সমঝোতার ক্ষতি করতে গিয়ে আমেরিকা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। মার্কিন সরকারের এই অসহায় অবস্থা ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এই সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী সবগুলো দেশ অভিন্ন কণ্ঠে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। আমেরিকা শুধুমাত্র ইহুদিদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। ইসরাইলই ফিলিস্তিনিদের হত্যা এবং স্থানচ্যুতির জন্য দায়ী। উম্মাহ ও জেরুসালেমের জন্য হলেও প্রতিটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হেব। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি ইস্যুকে নিয়ে যাওয়া উচিত। ইসরাইলের আগ্রাসনের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুদের বিচিত্র ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবার পর এখন তারা নয়া ষড়যন্ত্রের ছক কষছে। বল প্রয়োগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করা যাবে না বরং গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমেই কেবল এ অঞ্চলে শান্তি আসতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন, সামরিক অভ্যুত্থানের যুগ শেষ হয়ে গেছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত পরস্পরের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংলাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করা। বলপ্রয়োগ করে কারো ধর্ম ও বিশ্বাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কেউ যদি মনে করে তার ধর্ম অন্যদের চেয়ে ভালো তাহলে তাকে কথায় নয় কাজে তার প্রমাণ দিতে হবে। আমাদেরকে কাজে প্রমাণ করতে হবে আমাদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ এবং একইসঙ্গে অন্যান্য ধর্মের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।প্রতিটি কাজে আমাদেরকে আঞ্চলিক ঐক্য, সংহতি ও স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে হবে। মধ্যপন্থা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। উগ্রবাদ ও সহিংসতা বিশ্বের যে দেশে যে নামেই থাকুক না কেন তা ধ্বংস ও বিনাশ ছাড়া অন্য কোনো ফল বয়ে আনে না।

রুহানি বলেছিলেন, আফগানিস্তানে আফিম চাষ বন্ধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে মাদকদ্রব্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর পাশাপাশি গোটা বিশ্বের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কাজেই পরস্পরের সহযোগিতায় এই দ্রব্য উৎপাদন ও ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.