ঢাকা, শনিবার,২০ জানুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রাম

ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের যত শর্ত

হুমায়ুন কবির জুশান (উখিয়া কক্সবাজার)

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩১


প্রিন্ট
ভিটেমাটি ও নাগরিক অধিকার ফেরত দিলে মাতৃভূমিতে ফিরে যাব

ভিটেমাটি ও নাগরিক অধিকার ফেরত দিলে মাতৃভূমিতে ফিরে যাব

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের কারণে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরা বলেছেন, বাপ-দাদার ভিটেমাটি ও নাগরিক অধিকার ফিরে পেলে আমরা মাতৃভূমিতে ফিরে যাবো।

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী তাজিনিমারখোলা ক্যাম্পে আশ্র্রয় নেয়া শিতি রোহিঙ্গা যুবকেরা বলছেন, তারা মংডু হাইচ্ছুরতা ও নারীবিল ফেরামপুরো এলাকাগুলোতে থাকতেন। মিয়ানমার সৈন্যদের অব্যাহত নিযৃাতন-নিপীড়নে তারা বাংলদেশে চলে আসতে বাধ্য হন। দিনের পর দিন হেঁটে খেয়ে না খেয়ে পাহাড় পর্বত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে তাদের। এদের মধ্যে মোহাম্মদ আলম (২৫), মন্জুর আহমদ (২২), জামাল উদ্দিন (৩০), আব্দুল্লাহ (২০) ও রাকিব উল্লাহ (২৭) বলেন, আমরা এখানে অনেক সুখে আছি। প্রত্যেক মানুষের স্বদেশ প্রেম থাকে। শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে বাপ-দাদার ভিটে মাটি ও নাগরিক মৌলিক অধিকার ফিরে পেলে আমরা ফিরে যেতে চাই।রাখাইনে গণহত্যার পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে আগামী ২২ জানুয়ারী। তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফরম পাঠিয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এই ফরমের একটিও মিয়ানমারকে ফেরত পাঠায়নি বলে রেডিও ফ্রি এশিয়া মিয়ানমার অংশের খবরে বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পূনর্বাসনমন্ত্রী উইন মায়াট আইর বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের তারা ফিরিয়ে নেয়া শুরু করবেন। এজন্য রোহিঙ্গাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিনিধিরা তৈরি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনতে দুটি অভ্যর্থনা ক ব্যবহার করা হবে। সামনের সপ্তাহে টাং পিও লেট ওয়ে গ্রাম এবং নাগা খু ইয়া সেবা কেন্দ্র বসানো হবে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের সাংবাদিকদের মুক্তির আহ্বান ইইউর

রয়টার্স

মিয়ানমারে আটক হওয়া দুই রয়টার্স সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য দেশটির কর্তৃপরে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এর আওতায় মিয়ানমারের প্রসিকিউটররা ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বুধবার এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩১) ও কিয়াউ সয়ে উকে (২৭) আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপ। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে নৈশভোজের পর তাদের আটক করা হয়। এই দুই সাংবাদিক রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নিধনযজ্ঞ নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাখাইন প্রদেশের স্পর্শকাতর তথ্য নেয়ার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই সাংবাদিকদের। তারা এই তথ্য বিদেশী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করছিলেন। বুধবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। শুনানিতে রয়টার্স সাংবাদিকেরা বলেন, ‘তারা আমাদের গ্রেফতার করেছে কারণ আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।’

২৮ দেশীয় জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো মিয়ানমারের একটি উল্লেখযোগ্য ঋণদাতা। বুধবার রয়টার্সের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জোটটি। অবিলম্বে ওই দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক বছরের সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারে গণতন্ত্রের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার েেত্র রয়টার্সের সাংবাদিকদের ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ পরীা বলে বিবেচিত হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র বলেন, ‘১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে শুনেছি। আমরা আশা করি, মিয়ানমার কর্তৃপ এই সাংবাদিকদের অধিকারের পূর্ণ সুরা দেবে এবং যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেবে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫