ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

অপরাধ

রোগীনিকে ধর্ষণের অভিযোগ : কোথায় গেছেন সেই চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৪:৫২


প্রিন্ট
ধর্ষণের অভিযোগচিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

ধর্ষণের অভিযোগচিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। মামলার দুই দিন হয়ে গেলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীকে ধরতে হাসপাতালে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই রিপন কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার কোনো ধরনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারের জন্য হাসপাতালে গিয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
গত সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ডা:. রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, ৯-এর ক ধারায় একটি মামলা করেন ভুক্তোভোগীর বাবা। পরে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় (জিআর) এই মামলার এজাহার আসে।


এতে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়। সে চর্মরোগে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোলার যমুনা মেডিক্যাল সার্ভিসেসে ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকীর কাছে ওই ছাত্রী তার চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নিতে যায়। বিএসএমএমইউর ডাক্তার হলেও রিয়াদ সিদ্দিকী প্রতি শুক্রবার ভোলায় রোগী দেখতেন। ডাক্তার রিয়াদ প্রথম সাাতের সময় ওই কিশোরীকে বিবস্ত্র করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মলম লাগিয়ে দেন। এ বিষয়ে কিশোরী প্রতিবাদ করলে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, আমি তোমার ডাক্তার। আমার কাজ এগুলো করা, আমি এগুলো করব। এ বলে ওই চিকিৎসক ছাত্রীর সব স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং কাউকে কিছু বলতে বারণ করেন। এরপর ছাত্রী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি।

এরপর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী আবার চিকিৎসা করাতে ডাক্তার রিয়াদের কাছে যায়। ওই দিন ডাক্তার রিয়াদ আবার জোর করে তাকে বিবস্ত্র করেন এবং যৌনকাজে লিপ্ত হন। ওই ছাত্রী তখন চিৎকার করলে ডাক্তার ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। ছাত্রীকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। এরপর ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীর কিছু গোপনীয় ছবি তোলেন এবং তা ইন্টারনেটে তুলে দেয়ার হুমকি দেন। সেই সাথে ছাত্রীকে নিয়মিত তার কাছে আসতে বলেন। এরপর ডাক্তার বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, আপনার মেয়ের মরণব্যাধি রোগ হয়েছে। তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকী ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে তাদের মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন দিয়ে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বোর্ড বসানো হবে। পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রীর মা-বাবা মেয়েকে নিয়ে সকালে ঢাকায় আসেন এবং বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এসে পৌঁছান। এরপর ডাক্তার রিয়াদকে ফোন দিলে ওইদিন সকাল ১০টায় মা-বাবা হাসপাতালের বটগাছের সামনে দেখা করেন এবং বোর্ড বসিয়ে ডাক্তার দেখানো হবে বলে ক্যান্টিনে অপো করতে বলেন। ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীকে হাসপাতালের বি ব্লকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং ফের ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করে এবং একপর্যায়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন
৩০ জানুয়ারি
আদালত প্রতিবেদক জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক মো: রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন ৩০ জানুয়ারি প্রদান করা হবে। মামলাটি শাহবাগ থানা থেকে সিএমএম আদালতে নারী শিশু জিআর সেকশনে আসার পর মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে উপরোক্ত মর্মে তারিখ ধার্য করেন। এ মামলায় ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ্য করে ভিকটিম আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। তার দেয়া জবানবন্দী ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন নাহার ইয়াসমিন রেকর্ড করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫