ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন প্রতিশোধ নিচ্ছে পাকিস্তান!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১১:৩২ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১১:৩৮


প্রিন্ট
পাক সরকার ন্যাটো বহরের জন্য ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

পাক সরকার ন্যাটো বহরের জন্য ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আফগানিস্তানে যাতায়াতকারী ন্যাটো সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কন্টেইনারের টোল ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ সরকার। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, পাক সরকার ন্যাটো বহরের জন্য শতকরা ১০০ থেকে ১৫০ ভাগ ট্যাক্স বাড়াতে পারে।

বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় টোল ট্যাক্স বাড়াতে একটি সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মাহিদ খাকান আব্বাসির কাছে পেশ করতে যাচ্ছে।

পাকিস্তান সরকার ন্যাটো সেনাদের পণ্যবাহী প্রতিটি কন্টেইনারের জন্য ২,৫০০ ডলার ট্যাক্স নেয়। কন্টেইনারবাহী ট্রাকগুলো করাচি বন্দর থেকে জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে আফগান সীমান্তের তোরখাম ও চামান ক্রসিং পর্যন্ত যায়।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের কারণে আমরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। তবে, গত ১ জানুয়ারি ট্রাম্প অত্যন্ত অবমাননাকর এক টুইটার পোস্ট দেয়ার পর ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক একেবার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ট্রাম্প ওই পোস্টে বলেছেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে তিন হাজার তিন শ' কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু তারা মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি; আমাদের নেতাদেরকে বোকা মনে করেছে। আমরা যেসব সন্ত্রাসীকে আফগানিস্তানে ধরার জন্য খুঁজি সে বিষয়ে পাকিস্তান সাহায্য করে না বরং তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় দেয় পাকিস্তান। আর সাহায্য দেয়া হবে না।”

ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের পর পাকিস্তান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ন্যাটো বাহিনীর সামরিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীতে বর্তমানে বেশিরভাগই মার্কিন সেনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক স্থগিত : প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সব ধরনের সামরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরা সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরামন্ত্রী খুররাম দস্তগীর। মঙ্গলবারের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের একটি অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরামন্ত্রী খুররাম দস্তগীর খান পাকিস্তানের এ অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার এখনই উপযুক্ত সময়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদর অনেক বড় পরিসরে নিরাপত্তা ও প্রতিরা সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সেটা স্থগিত করেছি। মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার বিষয়টি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, পাকিস্তান আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিরাপদ স্বর্গ গড়ে তুলতে দিয়েছে। আর সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা কঠোর করেছেন।
সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে। প্রতিরামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস জানান, অর্থ সহায়তা বন্ধ হলেও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রেখে চলবে যুক্তরাষ্ট্র। এবার পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প থেকে ঘোষণা এলো যে, তারা সহায়তা বন্ধ করছে। প্রতিরামন্ত্রী বলেন, ‘আফগান শান্তিপ্রক্রিয়া পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আঙুল তোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিয়ন্ত্রণহীন আফগানিস্তানের দিকে তাকানো। তবে ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র রিচার্ড নেলসার বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের কথা শুনিনি। এর আগে একজন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সিনিয়র এক কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। স্টিভেন গোল্ডস্টেইন নামে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই পাকিস্তান আমাদের সাথে আলোচনায় বসুক। কিভাবে সন্ত্রাস দমন করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করব আমরা।’ এরপর পাকিস্তানে সামরিক সহায়তা বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু স্থগিত করা। চিরকালের জন্য বন্ধ করা নয়।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

তবে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। মঙ্গলবার মার্কিন দূত ডেভিড হ্যালে এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মিফতাহ ইসমাইলের মধ্যে বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ডেভিড হ্যালের সাথে ইসমাইলের বৈঠকে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সহযোগিতাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, হ্যালে আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিলের (এবিসি) প্রতিনিধিদের আসন্ন পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে ইসমাইলকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবিসি তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায়।

মার্কিন সামরিক নির্ভরতা হ্রাস

আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। খুররম বলেন, তার দেশ প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম চীন, তুরস্ক, রাশিয়া ও দণি আফ্রিকার কাছ থেকে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবশ্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। কিন্তু এবার দেশটি চীনের কাছ থেকে তার সামরিক সরঞ্জাম বিশেষ করে গানবোট ও সাবমেরিন কেনার চিন্তা করছে। এ ছাড়া ইসলামাবাদ এবার হেলিকপ্টার গানশিপ কিনবে চীন ও তুরস্ক থেকে। রণতরী কিনবে দণি আফ্রিকার কাছ থেকে বলে জানিয়েছেন প্রতিরামন্ত্রী। চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক পেণাস্ত্র কেনার বিষয়েও বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।
জানা গেছে, পাকিস্তান বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই উচ্চতর প্রশিণের জন্য সেনা ক্যাডেটদের আমেরিকায় পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিরামন্ত্রী জানান, ইরান, রাশিয়া ও চীন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানের কাছে। তাই মার্কিন সাহায্য বন্ধ করে দেয়াকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না পাকিস্তান।

পাকিস্তান বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এফ-১৭ জঙ্গিবিমান ব্যবহার করছে। এ ছাড়া এই বিমানের চতুর্থ ও পঞ্চম ভার্সনের সামরিক বিমান তৈরির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদপে না নেয়ায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ৩০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। - টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫