ঢাকা, বুধবার,২৪ জানুয়ারি ২০১৮

থেরাপি

রেস্টুরেন্ট

জোবায়ের রাজু

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

এখন সন্ধ্যাবেলা। এই সময়ে পাবলিক টয়লেটে ভিড় হওয়ার কথা নয়, তবুও চোখে পড়ার মতো ব্যাপক ভিড় লেগে আছে বাজারের এই পাবলিক টয়লেটে। সারিবদ্ধভাবে মোট ছয়টি টয়লেট এখানে। সবই এই অবেলায় হাউজফুল।
চার নম্বর টয়লেটের সামনে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ভেতর থেকে কেউ বের হলেই আমার পালা। তাই সিরিয়াল ধরে চার নম্বর টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম।
মিনিট পাঁচেক পার হওয়ার পরও ভেতর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। কী করা যায়! আচ্ছা ফেসবুকে ঢুকলে কেমন হয়!
ফেসবুক ওপেন করতেই অনলাইনে আকরামকে দেখা গেল। আকরাম আমার বন্ধু। পাশাপাশি মহল্লায় আমাদের বাস। ওরা বেশ অর্থশালী। আগে আমরা রোজ ফেসবুকে চ্যাটিং করতাম। গত কয়েক মাস ধরে আকরাম নিয়মিত ফেসবুকে থাকে না বলে আমাদের চ্যাটিংয়ে ব্যাপক বিঘœ ঘটেছে।
এখন যেহেতু আকরামকে অনলাইনে দেখা যাচ্ছে, তাই নক করলাম।
Ñকিরে দোস্ত?
Ñহ্যাঁ দোস্ত।
Ñকী হালচাল?
Ñভালো।
Ñকী করছিস?
Ñরেস্টুরেন্টে খেতে এসেছি।
Ñকোন রেস্টুরেন্ট?
Ñনতুন বছরের প্রথম দিন বাজারে যে রেস্টুরেন্টটি চালু হয়েছে, ডায়মন্ড রেস্টুরেন্ট, সেখানে আজ প্রথম যাত্রা করতে এলাম।
Ñতা তো আসবিই। তোরা তো অনেক পয়সাওয়ালা। তা কী খাচ্ছিস?
Ñচাইনিজ।
Ñবাহ।
Ñঅর্ডার দিলাম, এখনো সামনে আসেনি।
Ñশুনে আমার জিবে পানি চলে এলো।
Ñহা হা হা।
Ñহাসিস না। তোদের মতো কোনো যে বড়লোক হলাম না!
Ñহবি একদিন। আচ্ছা দোস্ত, পরে চ্যাটিং করব। চাইনিজ চলে এসেছে।
Ñএকটু ছবি তুলে দেখা না। কখনো তো খাইনি। একটু ছবি দেখি।
Ñএখন না দোস্ত, পরে।
Ñআহা দেখা না...।
ওপার থেকে আকরাম নীরব হয়ে গেল। ম্যাসেজ সিনও করছে না। সিন করবে কী করে, সে তো এখন মহানন্দে চাইনিজ খাচ্ছে। আহা কপাল। আজ সে চাইনিজ খাবারের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে এক এলাহি কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবে।
ওহ্, টয়লেট থেকে এই বেটা বের হচ্ছে না কেন? আমার অসহ্য লাগছে। এতক্ষণ কেউ টয়লেটে থাকে? আজব!
যাক বাবা, অবশেষে টয়লেটের দরজা খোলা হচ্ছে। ভেতর থেকে ছিটকানির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ওমা! একি! টয়লেট থেকে কে বের হলো!
Ñআকরাম তুই?
Ñতুই এখানে?
Ñহ্যাঁ। তুই না রেস্টুরেন্টে চাইনিজ খাচ্ছিস?
Ñইয়ে মানে...
আকরাম আমতা আমতা শুরু করে দিলো। বুঝলাম ব্যাটা মিথ্যুক। টয়লেটে বসে চ্যাটিং করে বলছে রেস্টুরেন্টে চাইনিজ খাচ্ছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫