ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

চট্টলা সংবাদ

চট্টগ্রামে ঠাণ্ডায় রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা : হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

১১ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তীব্র শীতের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এরমধ্যে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও এজমার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং ১৬টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে ১৬৭টি বেড থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে প্রায় ৩০০ শিশু রোগীকে। আগ্রবাদ মা ও শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সর্দি, কাশি, জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত শ্বাসকষ্টের কারণেই বেশির ভাগ শিশু চিকিৎসাধীন। এসব শিশুর অভিভাবকেরা জানান, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা: নাসির উদ্দিন মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ মতা কম থাকায় তীব্র শীত ও আবহওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ সময় শিশুদের নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে বেশির ভাগ শিশু ভর্তি হয়েছে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে। রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খবর নিয়ে জানা গেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫টি এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে জরুরি বিভাগে ৬৬টি বেড রয়েছে শিশু রোগীদের জন্য। তিনটি ওয়ার্ডেই প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জনের মতো শিশু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি রোগীকে সাধারণত ৪ থেকে ৭ দিন চিকিৎসা দিতে হয়, রোগ ভালো না হওয়া পর্যন্ত ছাড়পত্র দেয়া হয় না। যতদিন শীত থাকবে ততদিন রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকবে। শীত ও শৈতপ্রবাহ বেশি হলে রোগীর সংখ্যা তিনগুণও হয়ে যায়।
চমেক হাসপাতালে রোগী ভর্তির রেজিস্ট্্রারে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৬০-৭০টি শিশু রোগীকে ভর্তি করা হচ্ছে। যার মধ্যে নিউমোনিয়ার রোগী ১২-১৫ জন। ডায়রিয়া, এজমা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত, কাশি এবং অন্যান্য রোগী মিলে ৬০-৭০ জন রোগীকে ভর্তি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: জগদীশ চন্দ্র দাশ নয়া দিগন্তকে বলেন, শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যার েেত্র অভিভাবকদের জন্য তার পরামর্শ হলোÑ দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। এর মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘শীতকালে সাধারণত শিশুদের সর্দি, কাশি ও বুংকিওলাইটিস রোগ বেশি হয়। এেেত্র শিশুর চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া বেশি হয়। আমরা অভিভাবকদের এেেত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য বলি। সর্দি-কাশি হলে তারা যেন খেয়াল রাখে, এর সাথে জ্বর ও শিশুর পেট ওঠানামা বেড়ে যাচ্ছে কি না।
তিনি আরও বলেন, ‘শীতকালে নবজাতক শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামের জায়গা হলো মায়ের কোল। মায়ের বুকেই শিশু সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে। এেেত্র যেসব মায়েরা গৃহিণী তাদের সন্তানরা বেশি সুবিধা পায়। তবে যারা কর্মজীবী তাদের শিশুদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয় সবসময়।’

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫