ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

শিক্ষা

কাফনের কাপড়ে আমরণ অনশনে, দাবি আদায়ে অনড় ইবতেদায়ি শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৮:১৪


প্রিন্ট
গত ১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পর গতকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা।

গত ১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পর গতকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা।

কাফনের কাপড় পড়ে আমরণ অনশনে অংশ নিয়েছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, শুধু আমি অনশন করছি না। আমার পরিবারও আজ অনাহারে। ১ জানুয়ারি আমি ঢাকায় এসেছি কর্মসূচিতে অংশ নিতে। ঘরে আমার ছেলে, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা আছেন। কিন্তু আমি তাদের জন্য ঘরে কিছু রেখে আসতে পারিনি। ঢাকায় আসার পর ছেলে ফোন করে জানিয়েছে বাবা আমরা না খেয়ে আছি।

এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি তাদের বলেছি বাবা ধৈর্য্য ধারণ কর, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। আমিও না খেয়ে আছি।

গোলাম মোস্তফা বলেন, অভুক্ত স্ত্রী, সন্তানের কষ্ট সহ্য করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। তাই এবার কাফনের কাপড় পড়েছি। সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে এভাবেই অনশন করতে করতে মরে যেতে চাই। কিন্তু বেতনহীন জীবনের গ্লানি নিয়ে আর তাদের মুখ দেখাতে চাই না। বাড়ি ফিরতে চাই না।

মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস গোলাম মোস্তফা সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার রূপাখাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক। ২০০০ সাল থেকে তিনি বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছেন।

গোলাম মোস্তফা বলেন, সামান্য জমি ছিল তা বিক্রি করে খাওয়া হয়ে গেছে। সকালে একজন ছাত্রকে প্রাইভেট পড়িয়ে মাসে ১০০ টাকা পাই। আর মসজিদে ইমামতি করে সামান্য যা পাই তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। কিন্তু এটাতে জীবন বলে না। আমরা মরার মত বেঁচে আছি। পরিবারের কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারি না।

মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ দ্বিতীয় দিনের মত আমরণ অনশন করছেন শিক্ষকরা। গত ১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে গতকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। অনশনে প্রতিদিন বাড়ছে শিক্ষকদের সংখ্যা।

আজ প্রায় চার হাজার শিক্ষক অনশনে যোগ দেন বলে হিসাব করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ের ব্যাপারে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে অনেক শিক্ষক বলেছেন, মরে যাব কিন্তু এবার আর দাবি আদায় না করে বাড়ি ফিরব না। জাতীয়করণ ছাড়া রাজপথ ছাড়ব না।

এদিকে আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত গোবিন্দগঞ্জ সাখৈল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার তরুণ শিক্ষক আবু সাঈদ জানান, আজ বিকেল পর্যন্ত নতুন করে ১৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার আগের দিন ২৩ জন অসুস্থ হন। আজ পর্যন্ত যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

শিক্ষকরা জানান, একদিকে তীব্র শীত তার ওপর বাথরুমজনিত সমস্যা মোকাবেলা করছেন তারা। বিশেষ করে শিক্ষিকারা। শিক্ষকরা আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ, পাবলিক টয়লেটে যেতে পারলেও অনশনে অংশ নেয়া মহিলাদের তীব্র সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বাথরুমের জন্য তাদের যেতে হয় কাছে পরিচিত বা আত্মীয়দের বাসায়।

শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ভাতার আওতায় আনার ঘোষণা দেয়ার পর সব রেজিস্ট্রার্ড প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করা হয় কিন্তু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ তো দূরের কথা ভাতার ব্যবস্থাও করল না। ১৯৯৪ সালে দেড় হাজারের কিছু বেশি মাদরসায় ভাতা দেয়ার পর বন্ধ হয়ে গেল। এটা আমাদের প্রতি বৈষম্য। প্রাইমারি স্কুলের মত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণের ঘোষণা চাই প্রধামন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

১৯৮৪ সালে মাদরাসা বোর্ড ১৮ হাজার ১৯৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রেজিস্ট্রেশন দেয়। বেতন ভাতার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মাদরাসা। গত বছর পর্যন্ত মাদরাসা বোর্ডের তথ্য অনুসারে ছয় হাজার ৯৯৮টি মাদরাসার তালিকায় রয়েছে। তবে বোর্ডের তালিকার বাইরেও অনেক মাদরাসা চলমান রয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। সব মাদরাসা জাতীয়করণ চান তারা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫